১:৩০ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার | | ৫ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাঁটছে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের

০৬ জানুয়ারী ২০১৮, ০৫:১৮ পিএম | মুন্না


আশরাফুল মামুন, কুয়ালালামপুর প্রতিনিধি : কঠিন বাস্তবতার অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন বছরের যাত্রা শুরু হলো মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের।  জনগোষ্ঠীর বৃহৎ একটি অংশ প্রবাসে জীবিকার তাগিদে এখন ক্লান্ত।  পুরনো বছরের গ্লানি টেনে নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন দেখার আপ্রান চেষ্ঠায় বিভোর রেমিটেন্স যোদ্ধারা। 

দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ কর্মীদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে বছরজুড়ে ছিল আলোচনা সমালোচনার ঝড়।  গেলো বছর রি-হিয়ারিংয়ের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি নিবন্ধিত হয়েছেন।  এর মধ্যে এক লাখ ৬৫ হাজার কর্মী ভিসা পেয়েছেন এবং নিবন্ধিত প্রায় তিন লাখ ৩০ হাজার শ্রমিকের ভিসাসহ বৈধতার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দেশটির অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। 

এছাড়া নাম ও বয়স জটিলতার কারণে কমপক্ষে ৫৫ হাজার কর্মী ভিসা পাননি।  ওইসব কর্মীর জটিলতা নিরসনের সুযোগ পাবেন না-কি দেশে ফিরতে হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। 

এদিকে অবৈধ প্রবাসীদের নির্ধারিত সময়ে যারা রেজিস্ট্রেশন করে নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারেননি তারা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।  এ প্রক্রিয়ায় কতজন বাদ পড়েছেন তার হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। 

এদিকে নতুন বছরের শুরুতে অবৈধদের গ্রেফতারে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিল দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।  বছরের ৪ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো অভিযানে বা বিদেশি কর্মী গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।  তবে আতংকে রয়েছেন অনেকে। 

এর মধ্যে কেউ গ্রেফতার হলে দেশটির অভিবাসন আইন অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৫৫-বি এর অধীনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা ১২ মাস পর্যন্ত জেল অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। 

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশের প্রধান জনাব আযহার মুস্তাফার আলী প্রেস ব্রিফিং করে জানান, ২০১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার বিদেশী অবৈধ শ্রমিক গ্রেফতার করা হয়েছে,  তবে এদের মধ্যে ঠিক কতজন বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছেন তা তিনি জানাতে পারেননি। 
তিনি আরো বলেন, আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আইন প্রয়োগে আমরা আরো কঠোর হব। 

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশী হাই কমিশন সুত্রে জানা যায় এখানে বৈধ ৪ লক্ষ ৯৫ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছে তবে অবৈধ ঠিক কতজন শ্রমিক এই দেশে আছে তার সঠিক হিসাব কারো কাছে নেই, ধারনা করা হচ্ছে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুনেরও বেশি হতে পারে।  মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশী শ্রমিকের সংখ্যার দিক দিয়ে প্রথমে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া দ্বিত্বীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ও ৩য় নেপাল। 

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিপুল সংখ্যক কর্মী বৈধ হওয়ার জন্য কোম্পানি মারফত এবং কোম্পানি ছাড়া কয়েকটি এজেন্টের কাছে টাকা পয়সা ও পাসপোর্ট দেয়ার পরেও তারা বৈধ হতে পারেননি।  এসব কোম্পানি ও এজেন্ট সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে শিগগিরই মাঠে নামবে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। 

ক্লাং মেরু থেকে জয়নাল আবেদিন নামে এক বাংলাদেশি বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, বৈধ হওয়ার জন্য এক বছর আগে বাংলাদেশি দালালের কাছে টাকা পাসপোর্ট দিয়েছিলাম তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।  জয়নাল কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।  শুধু জয়নালই নয় এ রকম শত শত জয়নাল বৈধতা নেয়ার নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। 

কুয়ালালামপুর পেতালিং জায়া তে eye gateway sdn. bhd. নামে একটি তামিল মালিকানাধীন কোম্পানিতে কাজ করেন শরিয়তপুরের ইসমাইল মিয়া তিনি বলেন, দূই বছর হতে চলেছে মালয়েশিয়ায় এসেছি এখনো খরচও তুলতে পারিনি অথচ দুই বার রি- হায়ারিং ভিসার জন্য পার্সপোট জমা দিয়েছি এজেন্টের কাছে কিন্তু দূইবারেই পার্সপোট রিজেক্ট করেছে বলে নতুন করে পার্সপোট করতে হবে, তারপর নতুন পার্সপোট করতে বাংলাদেশী হাইকমিশনে গেলে মোটা অংকের ঘুষ চেয়েছে কারন এখানে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না, আমার বেতন ১২ শত রিংগিত যা বাংলায় ২৪ হাজার টাকা খেয়ে দেয়ে ৫০০ রিংগিত সেভ করা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়, রি- হায়ারিং করতে ৭ হাজার লাগে তাই এখন আমি নিরুপায় হয়ে দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই,  আমার এখন প্রতি মুহুর্ত্য আতংকে কাটে কোন সময় যে পুলিশের কাছে ধরা খাই। 

Abu-Dhabi


21-February

keya