৬:২৯ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৮ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

সুনামগঞ্জে বোরো ফসলী হাওর রক্ষা বাঁধের কোটি টাকার প্রকল্প বাগিয়ে নিলেন

০৬ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:২০ পিএম | মুন্না


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট প্রতিনিধি : অদৃশ্য শক্তি ইশারায় সুনামগঞ্জ জামালগঞ্জে হাওর রক্ষা বেরী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইসি) কমিটিতে কোটি টাকার ৭ প্রকল্প বাগিয়ে নিলেন এক ইউপি সদস্য ও তার স্বজনরা মিলেমিশে।  

প্রকল্প কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর চরম সংক্ষুব্ধ ও প্রকল্পের কাজ সময়মত আদৌ সম্পন্ন হবে কী না তা নিয়েও শংকায় পড়েছেন হাজারো কৃষক পরিবার।  এমন অসঙ্গতির বিষয়ে কৃষকদের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কৃষকরা। 

অভিযোগ কৃষকরা জানান, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য আসাদ আলী ও তার আত্মীয়-স্বজনরাই ৭ পিআইসির কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। 

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার পাকনার হাওর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির ১-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. আজগর আলী, পিতা- মৃত হোসেন আলী, বাড়ী-আলীপুর, ৩১-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য আসাদ আলী, পিতা- মো. আজগর আলী, ৩-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, পিতা-মৃত হোসেন আলী, ৩৫-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, পিতা-হাজী সফর আলী, ২৬-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান, পিতা-মোজাফ্ফর আলী, ২৯-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান রূপ মিয়া, পিতা-মৃত মহব্বত আলী তাদেও সকলের বাড়ী একই গ্রামে। 

৩২-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান হাছান তারেক, পিতা-মাহমুদ আলী, বাড়ী ভুতিয়ারপুর, সদস্য সচিব সদর আলী, পিতা-আরশ আলী, বাড়ী আলীপুর, ৩৬-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. খালেক মিয়া, পিতা-মৃত জহুর উদ্দিন, বাড়ী আলীপুর, ৩১-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য আসাদ আলী, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান নির্বাচিত সদস্য এক নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান আজগর আলী তার পিতা, তিন নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আসাদ আলীর আপন চাচাত ভাই, ২৯ নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান রূপ মিয়া আসাদ আলীর ভগ্নিপতি, ৩৫ নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আসাদ আলীর আপন মামা, ৩৬ নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান খালেক মিয়া আসাদ আলীর চাচা, ৩২ নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান হাছান তারেক,পিতা-মাহমুদ আলী, বাড়ী ভুতিয়ারপুর আসাদ আলীর আপন ভায়রা। 

অভিযোগে উল্ল্যেখ করা হয় ওইসব প্রকল্পের অধিকাংশ সদস্য সচিব ও সদস্যগণ আলীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আসাদ আলীর নিকট আত্মীয়।   উল্লেখ্য যে, বিগত মৌসুমে  ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসুচির কাজে ওই ইউপি সদস্যর অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগ উঠলে সেইসব প্রকল্পের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বাধ্য হন।  ওই ইউপি সদস্য ও তার আত্বীয় স্বজনদের দিয়ে হাওরের বেরীবাঁধ প্রকল্পের কাজ সময়মতো সম্পœন হবে কীনা না তা নিয়ে শংকায় হাজারো কৃষক ফুঁসে উঠেছেন। 

অভিযোগে আরো উল্লেখ, সরকারী বিধি মোতাবেক হাওরপাড়ের লোকজন ও জমির মালিক হতে হবে এই নীতিমালা থাকা স্বত্বেও  প্রকল্প কমিটি গঠনে একই পরিবারের লোকজন ও আত্মীয় দিয়ে ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।   প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে এমন অসঙ্গতির ঘটনায় তারা শংকিত আছেন বাঁধের কাজ হবে কী-না ?

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আসাদ আলী শনিবার  বলেন, আমি মেম্বার হিসেবে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছি।  আমার বাবাও কৃষক হিসেবে প্রকল্প পেয়েছেন।  আমাদের গ্রামের যারা প্রকল্প পেয়েছেন তারা অনেকেই আমার আত্মীয় হন এটা ঠিক কিন্তু প্রকল্পের কাজ সময় মতই শেষ করতে পারব আশা করি। 

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের কপি আমিও পেয়েছি, নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি গঠন করা হয়েছে এরপরও নীতিমালা পরিপন্থী কোন প্রকল্প কমিটি দেয়া হয়ে থাকে বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করব। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে শনিবার বিকেলে কয়েক দফা উনার সরকারি মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

Abu-Dhabi


21-February

keya