২:১০ পিএম, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা বিডিএস আন্দোলনে সমর্থনকারী সংগঠনের বিরুদ্ধে

০৮ জানুয়ারী ২০১৮, ১২:৪৮ পিএম | রাহুল


এসএনএন২৪কম : বিডিএস আন্দোলনকে সমর্থনের কারণে ২০ আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্যদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। 

দেশটির কৌশল বিষয়ক মন্ত্রী রবিবার একটি তালিকায় এসব সংগঠনের নাম প্রকাশ করেন।  তথাকথিত নিষিদ্ধ তালিকায় ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্র, চিলি ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন সংগঠনকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।  কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। 

ফিলিস্তিনের ওপর থেকে ইসরাইলি দখলদারিত্ব অবসানে পরিচালিত এক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নাম বিডিএস।  এর পূর্ণরূপ বয়কট, ডিভাস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশন্স অর্থাৎ বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস)।  দুনিয়াজুড়ে ইসরায়েলি পণ্য বর্জন, দেশটি থেকে পুঁজি প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত এ আন্দোলন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। 

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনটি বন্ধের চেষ্টা করে আসছে।  আর গত বছরের মার্চ মাসের ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এ তালিকা প্রকাশ করা হল।  ইসরায়েলবিরোধী বর্জন আন্দোলনকে সমর্থনকারীদের দেশটিতে ঢুকতে বাধা দিতে আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছিল দেশটি। 

ইসরায়েলের পরিকল্পনা মন্ত্রী গিলাড এরদান নতুন প্রকাশিত বিডিএস তালিকাকে ‘ইসরায়েলবিরোধী বর্জন আন্দোলন ব্যাহত করার আরেকটি উদ্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।  রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্র এ ধরনের সংগঠনগুলোকে তাদের মিথ্যা ও বানোয়াট কৌশল দেশের মধ্যে ছড়াতে দেবে না। ’

ইসরায়েলের এই উদ্যোগে তালিকাভুক্ত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।  কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছে।  আবার অনেকে একে নিজেদের আন্দোলনের ‘পরিষ্কার বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করছে। 

নিষিদ্ধ তালিকার অন্যতম সংগঠন ফ্রেন্ডস অব আল আকসা’র (এফওএ) মুখপাত্র সামিউল জোয়ারদার বলেন, ‘বিডিএস কাজ করেছে’ এই তালিকা তারই প্রমাণ।  এ ধরনের উদ্যোগ আন্দোলনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল এটাকে প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখলেও মানুষ আরও মনযোগ দিয়ে এই আন্দোলনে যুক্ত হবে। ’

আন্দোলনকে ‘নীরব মানুষের রণকৌশল’ উল্লেখ করে জোয়ারদার বলেন, তালিকাটির মাধ্যমে ‘আমাদের সমর্থক ও সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে’ আর ‘দখলদারিত্বের প্রতিরোধে জনগণকে স্বোচ্চার হতে ভয় দেখানো হয়েছে’। 

তালিকায় আমেরিকার ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটিকেও (এএফএসসি) অন্তর্ভূক্ত করেছে ইসরায়েল।  গণহত্যার সময় ইহুদিদের উদ্ধার ও ত্রাণ সরবরাহ করায় ১৯৪৭ সালে সংগঠনটি নোবেল প্রাইজ পেয়েছে।  নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে অহিংস প্রতিরোধকে সমর্থন করে যাচ্ছে।  তারা এখন তা বন্ধ করবে না। 

সংগঠনটির সহযোগী মহাসচিব কেরি কেনেডি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েল, দখলকৃত ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়ানো অব্যাহত রাখব। ’

ইসরায়েলের কৌশল বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তালিকার সব সদস্যের বিরুদ্ধে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না।  পর্যায়ক্রমে তাদের ঢোকার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি কাজ করছে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya