৭:১৩ এএম, ২১ জানুয়ারী ২০১৮, রোববার | | ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

শিক্ষিকা রোকসোনার অবস্থা শঙ্কটাপন্ন,পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই!

০৮ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:২৩ পিএম | নিশি


কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম,বরগুনা : এ্যাপেন্ডিস রোগীর অস্ত্রপাচার শেষে পেটের ভেতর গজ রেখে সেলাই করে দেন অধ্যাপক এ এম এস এম সারফুজ্জামান রুবেল। 

তিনি (চিকিৎসক সারফুজ্জামান) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান।  এক বছর পরে রোগী রোকসোনা বেগমের পেটের ভেতরের গজ ঢাকার বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রপাচার করে অপসারন করা হয়েছে।  ওই হাসপাতালে রোকসোনা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।  সে (রোকসোনা) আমতলীর গুলিশাখালী হালিমা খাতুন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। 

জানাগেছে, সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ রোকসোনা বেগম ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এ্যাপেন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল এ্যাড. হেমায়েত উদ্দিন ডায়েবেটিক ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।  ওই দিনই শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ এম এস এম সারফুজ্জামান রুবেল ওই হাসপাতালে রোগীর অস্ত্রপাচার করেন।  অস্ত্রপাচার শেষে পেটের ভেতর গজ রেখে ওই চিকিৎসক সেলাই করে দেন।  ওই হাসপাতাল থেকে প্রাথমিকভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ীতে ফিরে যান। 

কিছুদিন  পরে রোকসোনার পেটে ব্যাথা অনুভব করে।  বিগত বছর ৬ সেপ্টেম্বর প্রচন্ড পেটের ব্যাথায় অসুস্থ হয়ে পরলে পুনরায় বরিশালের চিকিৎসক অধ্যাপক এ এম এস এম সারফুজ্জামান রুবেলের শরানাপন্ন হয়।  তিনি সিটিস্ক্যান করার পরামর্শ দিয়ে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন।  রোগীর অভিভাবক এ চিকিৎসকের পরামর্শের উপর আস্থা না রেখে ওই বছর ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানা আক্তারের শরানাপন্ন হয়।  চিকিৎসক রোগীর সিটিস্ক্যান করার পরামর্শ দেয়। 

ওই হাসপাতালের রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগের চিকিৎসক রেজওয়ানা রহিম চৌধুরী রোগী রোকসোনা বেগমের পেটের ভেতরে গজ রয়েছে বলে সিটিস্ক্যান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।  এ প্রতিবেদন দেখে ১৪ সেপ্টেম্বর সহকারী অধ্যাপক শাহানা আকতার অস্ত্রপাচার করে রোগীর পেটের ভেতর থেকে এক বছর পরে গজ বের করেন।  পেটের গজ পঁচে অন্ত্র (নাড়ি-ভুরি) নষ্ট হয়ে ছিদ্র হয়ে গেছে।  এ অবস্থা দেখে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেডিকেল টিম গঠন করেন। 

মেডিকেল টিমের প্রধান অধ্যাপক এইচ এম এ রউফ ও শাহানা আকতার পুনরায় অস্ত্রপাচার করে কলেষ্টমি (বিকল্প পায়ূপথ) তৈরি এবং অন্ত্রে (নাড়ী-ভূড়ি) অস্ত্রপাচার করেন।   বর্তমানে রোগী ঢাকার ওই হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ২২৩/১১ নং বেডে চিকিৎসক শাহানা আক্তারের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।  অর্থ সঙ্কটের কারনে রোগীর অভিভাবকরা দিশেহারা। 

তারা ঠিকমত তার চিকিৎসা করাতে পারছে না।  ওই হাসপাতালে রোগী রোকসোনা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।  রোগীর অভিভাবকরা পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করা চিকিৎসক অধ্যাপক এ এম এস এম সারফুজ্জামান রুবেলের শাস্তি দাবী করছেন। 
রোগীর স্বামী মোঃ মাহবুব উল আলম বলেন, আমার স্ত্রী মোসাঃ রোকসোনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে বরিশাল এ্যাড. হেমায়েত উদ্দিন ডায়বেটিক ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। 

ওই হাসপাতালের প্রাইভেট চিকিৎসক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ এম এস এম সারফুজ্জামান রুবেল পরীক্ষা নিরিক্ষা করে এ্যাপেন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে অস্ত্রপাচার করেন।  গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পেটের ভিতর প্রচন্ড যন্ত্রনা অনুভব করলে পুনরায় চিকিৎসক রুবেলের কাছে নিয়ে যাই।  তিনি সিটিস্ক্যান করার পরামর্শ দিয়ে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে দেন। 

তিনি আরো বলেন, আমরা তার (রুবেল) চিকিৎসার ভরসা না পেয়ে ঢাকার বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানা আক্তারের শরানাপন্ন হই।  তিনি পরীক্ষা নিরিক্ষা করে অস্ত্রপাচার শেষে আমার স্ত্রীর পেটের ভেতরের গজ বের করেন এবং অন্ত্রে অস্ত্রপাচার করেন।  বরিশালের চিকিৎসক অধ্যাপক এ এম এস এম সারফুজ্জামান রুবেলের গাফলতিতে আমার স্ত্রী এখন ঢাকার হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।  আমি স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছি।  আমি ওই চিকিৎসকের শাস্তি দাবী করছি। 

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এ এম এস এম সারফুজ্জামান রুবেল মুঠোফোনে অস্ত্রপাচারের কথা স্বীকার করে বলেন, অস্ত্রপাচার করার সময় পেটের ভিতর গজ থাকতে পারে।  ওই রোগীর পরিবার চাইলে চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহন করা হবে। 

বরিশাল এ্যাড. হেমায়েত উদ্দিন ডায়েবেটিক ও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবু জাফর  বলেন , চিকিৎসক এ এম এস এম সারফুজ্জামান রুবেল ওই রোগীর অস্ত্রপাচার করেছে কিন্তু পরবর্তিতে কি হয়েছে তা এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। 

ঢাকার বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানা আক্তার সোমবার মুঠোফোনে রোগী রোকসোনার পেটের ভেতর থেকে অস্ত্রপাচার করে গজ বের করার কথা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসকের অসাবধানতার কারনে পেটে গজ রয়েছে।  তিনি আরো বলেন, ওই রোগীর পেটের ভেতরে গজ পঁচে অন্ত্র ছিদ্র হয়েছে।  ওই অন্ত্রে অস্ত্রপাচার শেষে কলেষ্টমি (বিকল্প পায়ূপথ) তৈরি করা হয়।  রোগী রোকসোনা আমার তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya