২:১০ পিএম, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

পরিকল্পনা ট্রাম্পের তালেবানবিরোধী বিশেষ অভিযানের

০৯ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৫১ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সম্প্রতি ইসলামাবাদকে দেওয়া নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দেয় পেন্টাগন। 

এরইমধ্যে কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ট্রাম্পের নতুন আফগান নীতির মধ্যে থাকা ‘অভিযান পরিকল্পনা’র খবর প্রকাশিত হলো।  কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ডন দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আফগান নীতির মূল লক্ষ্য সামরিকভাবে তালেবানকে পরাজিত করা এবং কাবুলের শর্ত মোতাবেক তাদেরকে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে বাধ্য করা।  ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তির মৌলিক জায়গার সঙ্গে পাকিস্তানিদের দ্বিমত নেই কিন্তু তাদের মধ্যে একটি বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।  তাহলো: যদি অভিযান ব্যর্থ হয়ে যায় তবে কী হবে?

গত আগস্টে দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত নীতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  আফগানিস্তানে ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করারও শপথ নেন তিনি।  সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না দিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।  সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন পাকিস্তান সফর করেন এবং দেশটির সেনাপ্রধানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরকে তাদের পরিকল্পিত কৌশলটি বুঝিয়ে বলেন। 

এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাটিস একে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন: ‘আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক কৌশল নিয়ে কাজ করছি।  জঙ্গিদের ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করছি আমরা। ’ এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাকারী পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দাবি করেন, অঞ্চলকে, বিশেষ করে আফগানিস্তানকে জঙ্গিমুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা তাদেরও আছে।  তবে পাকিস্তানিদের আশঙ্কা প্রথমে তালেবানের কিছু অংশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ না নিয়ে বড় ধরনের অভিযান চালালে হিতে বিপরীত হতে পারে। 

পাকিস্তানি আলোচনাকারীদের একজন জানান, তারা আশঙ্কা করছেন তালেবান এই অভিযান থেকেও বেঁচে যাবে, পার্বত্য এলাকায় লুকিয়ে থেকে তারা আগের অভিযানগুলো থেকে যেভাবে বেঁচে গিয়েছিল এবারও তাই হবে।  আর এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান তার প্রভাব হারাবে।  যোগোযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে।  তালেবান আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে, বিশেষ করে পাকিস্তানের জন্য সংগঠনটি আরও বেশি হুমকি তৈরি করবে।  ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানি আলোচনাকারীরা মার্কিন প্রতিনিধিদেরকে আফগানিস্তানে ব্রিটেনের অভিযানের পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।  ওই অভিযানের কারণে বাফার জোন তৈরি করতে হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অনেক সমস্যার গোড়ার সংকটে রূপান্তরিত হয়েছিল। 

অভিযানের তাৎপর্য সম্পর্কে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেন, এরইমধ্যে অভিযানের ওই পরিকল্পনা নতুন আফগান নীতির অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।  সন্ত্রাস মোকাবেলায় তাদের সামগ্রিক পরিকল্পনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ম্যাটিস জানান, তালেবানসহ আইএস-এর মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পরাস্ত করতে চায় বর্তমান প্রশাসন।  ডন বলছে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের যুক্তিগুলো ট্রাম্প প্রশাসন খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বলে মনে হয়নি, অন্তত এই মুহূর্তে তারা এই ব্যাপারে আগ্রহী নয়। 

Abu-Dhabi


21-February

keya