৮:৫৬ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মুখ খুললে ভিডিও নেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

১০ জানুয়ারী ২০১৮, ১২:৩৭ পিএম | জাহিদ


এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৮ম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন করে মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ধর্ষকরা। 

এ ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।  সাম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পীড়ারবাড়ী গ্রামে।  ঘটনাটি কিছু দিন পূর্বে ঘটলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে এতদিন মুখ খুলতে সাহস পায়নি ধর্ষিতার পরিবার। 

মঙ্গলবার সরেজমিন ওই এলাকায় গেলে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী বলেন, তোরা টেইলার্সের মালিক রুপাই ও হরিদাস জামার মাপ দেওয়ার কথা বলে আমাকে দোকান ঘরের ভিতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে ছবি তুলে রাখে, বিষয়টি কাউকে জানালে ধারনকৃত ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। 

ধর্ষিতার বাবা গৌরঙ্গ মল্লিক ও মা লতিকা মল্লিক অভিযোগ বলেন, কিছু দিন আগে আমার মেয়ে চলবল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী সাথী মল্লিক ১৩ (ছদ্দনাম) সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টার দিকে স্কুলে যাচ্ছিল এমন সময় পীড়ারবাড়ী বাজারের তোড়া টেইলার্সের মালিক বুরুয়া গ্রামের ধীরেন হাজরার ছেলে রূপচাঁন হাজরা রুপাই (২৬) ও পীড়ারবাড়ী গ্রামের হরবিলাস বালার ছেলে হরিদাস বালা (১৭) জামার মাপ ভুল হয়েছে বলে দোকান ঘরের ভিতর ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে দু’জনেই ধর্ষন করে ভিডিও ছবি ধারন করে রাখে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে ধারনকৃত নগ্ন ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। 

এরপর থেকে মেয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।  পরে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় মাদবর অরুন মল্লিক, শষোধর মল্লিক, বিল্পব হালদার, প্রকাশ বালা, নিতিশ বালাসহ আরও অনেককে জানালে তারা বিষয়টিকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন তালবাহানা করে চুপচাপ থাকতে বলে। 

অন্যদিকে রুপাইর দুলাভাই বিল্পব হালদার মেয়ের বাবার নামে ৩শত টাকা মূল্যের একটি সাদা স্ট্যাম্প খরিদ করে তাতে স্বাক্ষর করে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে চুপচাপ থাকার কথা বলে। 

তারা আরও বলেন, আমার মেয়ে এখন ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না।  তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, আমরা এই লম্পটদের শাস্তি চাই।  ঘটনাটি এলাকায় জানা জানি হয়ে গেলে সাধারন মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।  এদিকে এ ঘটনার পর থেকে দুই ধর্ষক দোকান বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে। 

এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মাদ কামরুল ফারুক বলেন, ঘটনাটি এখনও কেউ জানায়নি তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।