৭:১৩ এএম, ২১ জানুয়ারী ২০১৮, রোববার | | ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

লালমনিরহাটে আলুক্ষেতে লেটব্লাইট রোগ দিশেহারা কৃষক

১০ জানুয়ারী ২০১৮, ০৪:৩১ পিএম | মুন্না


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলায় আলুর আবাদ বেড়েছে।  তবে এরইমধ্যে বিস্তীর্ণ আলু ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে লেট ব্লাইট (পাতা পচা) রোগ।  ক্ষেতে গাছ বেড়ে ওঠা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে লেট ব্লাইটের আক্রমণ।  ফলে ক্রমেই সবুজ ক্ষেত ধূসর আকার ধারণ করছে।  এতে শুরুতেই শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন জেলার আলু চাষীরা। 

এখনই পদক্ষেপ না নিলে এবার আলুর ফলন হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকরা।  লালমনিরহাট সদর, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, আদিতমারী ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এ রোগ।  লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর দাবি করছেন, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে এমনটি হয়েছে।  আবহাওয়া ঠিক হলে ভালো ফল পাবে এ জেলার কৃষকরা।  আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কিছু নেই।  এ রোগের প্রকোপ কমে যাবে।  আলু ক্ষেত অপেক্ষাকৃত ভালো আছে।  কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এবারও লালমনিরহাটে আলু উৎপাদনের ল্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। 

জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলায় নির্ধারিত ল্যমাত্রার চেয়ে দেড় হাজার হেক্টর জমি বেশি আলু চাষ হয়েছে।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্রমাগত মূল্যপতনের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু চাষীরা ।  গত বছর এ সময়ে যেখানে প্রতি মণ আলু বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়।  এখন সেই আলু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা মণ দরে।  এতে বিঘাপ্রতি চাষীদের লোকসান হচ্ছে ৫০০০ থেকে ৭০০০ হাজার টাকা। 

এখন যতই দিন যাচ্ছে ততই দাম কমছে আলুর।  এক সপ্তাহ আগে ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে গ্র্যানোলা জাতের আলু।  বর্তমানে ওই আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০টাকা মণ দরে।  এবার আগাম আলুর চাষ করে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানে মুখ দেখতে হচ্ছে এ জেলার কৃষকদের।  তবে এ জেলার ৫টি উপজেলা জুড়ে এখন আলুর আবাদ।  এসব উপজেলার প্রতিটি মাঠ এখন ভরেছে সবুজের চাদরে। 

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সুকানদিঘী এলাকার  আলুচাষী শফিকুল ইসলাম খন্দকার বলেন, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ডায়মন্ড ও এস্টোরিকস জাতের আলু চাষ করেছেন।  সব মিলে এ পর্যন্ত ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।  গাছও বেড়েছে চমৎকার।  তবে হঠাৎ তার আলুক্ষেতে পাতা পচা শুরু হয়েছে। 

দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই পচন রোগ।  আশপাশের ক্ষেতেও একই অবস্থা বলে তিনি জানান।  অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জমিতে ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনই সুফল পাচ্ছেন না।  লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার আলুচাষী আমজাদ হোসেন জানান, তাদের আলুর গাছের পাতা পচন ক্রমেই বেড়ে চলেছে।  কীটনাশক কোম্পানির এজেন্টদের পরামর্শে তারা বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেছেন।  কিন্তু ফল মিলছে না। 

গোপালরায় গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া সাথে কথা হলে তিনি জানান, এবার ২৭ শতক জমিতে আলু চাষ করেছেন।  তার আলু ক্ষেতে দেখা দিয়েছে পাতা ঝলসানো রোগ।  ফলে আলু ক্ষেতে ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগ করতে হচ্ছে তাতেও কোনও লাভ হচ্ছে না। 

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, আলু চাষাবাদের শুরুতে অতি মাত্রায় ইউরিয়া ব্যবহার ও ঘনকুয়াশাসহ আবহাওয়াগত কারণে সাধারণত আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইট রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে।  তিনি উপজেলাব্যাপী বিভিন্ন আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইটের আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করে জানান, এ থেকে পরিত্রাণের উপায় ও করণীয় সম্পর্কে প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।  লেট ব্লাইট আক্রান্ত জমিতে প্রথম পর্যায়ে মেটালক্সিন পরবর্তীতে মানকোজেব এবং শেষে আবার মেটালক্সিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন এ কৃষি কর্মকর্তা। 

এছাড়া বেশি পচন দেখা দিলে প্রতিলিটার পানিতে ৬ গ্রাম পটাশ এবং ৬ গ্রাম থিয়োভিট মিশিয়ে আলুর গাছে স্প্রে করতে হবে।  এতে গাছে শক্তি ফিরে আসবে বলে জানা তিনি। 

Abu-Dhabi


21-February

keya