১:১৯ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৮, সোমবার | | ৩ জ্বিলকদ ১৪৩৯


যুক্তরাষ্ট্রে আকায়েদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

১১ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:২৬ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : নিউইয়র্কে ব্যস্ততম এলাকায় বোমা ফাটিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহর (২৭) বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ গুরুতর ৬টি অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ডজুরিরা। 

স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে ফেডারেল কোর্টে অভিযোগপত্র পেশ করার পরই জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারি এটর্নী জেনারেল ডানা জে বয়েন্টে এবং নিউইয়র্ক সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস এটর্নী জিয়োফ্রে এস বারমেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন। 

উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর সকালে বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ার সাবওয়ে থেকে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে যাবার সুরঙ্গ পথে আকাইদের কাছে থাকা পাইপ বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।  নিজ হাতে তৈরী পাইপ বোমাটি আকায়েদের অসাবধনতাবশত: বিস্ফোরিত হওয়ায় অন্য কেউ আহত হয়নি।  আকায়েদ নিজেই আহত হয়ে ধরা পড়েন। 

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ১. আইসিসের মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে সন্ত্রাসে সহায়তাকল্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিপ্রায়ে মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার, ২. সর্বসাধারণ ব্যবহার করে এমন স্থানে এবং পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থায় বোমা ফাটানোর চেষ্টা, ৩. অগ্নিসংযোগ অথবা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পদের ক্ষতিসাধণ অথবা ক্ষতির চেষ্টা, ৪. গণপরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো অথবা চেষ্টা করা ইত্যাদি।  এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সারাজীবন তাকে জেলে কাটাতে হবে বলেও ইউএস এটর্নীরা উল্লেখ করেন। 

আকায়েদ উল্লাহ পারিবারিক কোটায় ৬ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর কখনো ট্যাক্সি ড্রাইভিং আবার কখনো ইলেকট্রিক কন্ট্রাক্টরের অধীনে কাজ করেন।  বাস করতেন ব্রুকলীনে মা-বোনদের সাথে।  সে বাসাতেই তৈরী করেন পাইপ বোমা। 

চার্জশিটে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, বোমা হামলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হবার আগে ফেসবুকে ট্রাম্পকে ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিহিত করে আমেরিকানদের দুর্গতি দেখার কথা বলেন।  আমেরিকানদের সে কীভাবে হত্যা করছে তা অবলোকনের পরামর্শ দেন আকায়েদ। 

গ্রেফতারের পর থেকেই আকায়েদকে আটক রাখা হয়। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর রাত) ফেডারেল জজ রিচার্ড জে সুলিভানের এজলাসে আকায়েদকে হাজির করার কথা। 

উল্লেখ্য, এর আগে ১৩ ডিসেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকেই ভিডিও কনফারেন্সে বিচারক ক্যাথারিন এইচ পারকারের এজলাসে বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্রুকলীনের বাসা থেকে পাইপ বোমা তৈরীর যাবতীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।  ২০১৪ সাল থেকেই সে আইসিসের মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে আমেরিকার ধ্বংসে উদ্বুদ্ধ হয়।