১১:৩২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৭ মুহররম ১৪৪০


তাহিরপুর লাকমা ও টেকেরঘাট সীমান্ত দিয়ে কয়লা পাচাঁরের অভিযোগ

১১ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৩৩ পিএম | জাহিদ


জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট ও বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের লাকমাছড়া ও টেকেরঘাট সীমান্তের ৮টি চোরাই গুহা দিয়ে ভারত থেকে ৮০মে.টন (৮০-৮৫কেজি ওজনের ১২০০বস্তা) কয়লা পাচাঁর করেছে চোরাচালানীরা।  পাচাঁরকৃত কয়লার বর্তমান বাজার মূল্য ১মে.টন ১০হাজার টাকা করে ৮০মে.টন কয়লার মূল্য মোট ৮লক্ষ টাকা। 

বৃহস্পতিবার ও বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা সকাল ৬টা পর্যন্ত চোরাচালানীরা ভারত থেকে ওপেন ১২০০বস্তা (৮০মে.টন) কয়লা পাচাঁর করে ঠেলাগাড়ি দিয়ে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত পাটলাই নদীতে নিয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত ওপেন বিক্রি করলেও এব্যাপারে বিজিবি কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ ব্যাপারে বড়ছড়া শুল্কস্টেশনের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানায়,উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের দুধেরআউটা গ্রামের চাঁদাবাজি মামলা নং-জিআর ১৬৩/০৭ইং এর জেলখাটা আসামী চিহ্নিত চোরাচালানী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া, বালিয়াঘাট গ্রামের চোরাচালান মামলা নং-জিআর ১৫৮/০৭ইং এর আসামী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে তাদের একান্ত সহযোগী বিজিবির অলিখিত সোর্স পরিচয়ধারী লাকমা গ্রামের আব্দুল হাকিম ভান্ডারী, ইদ্রিস আলী, লালঘাট গ্রামের চাঁদাবাজি, হুন্ডি, মদ পাচাঁর ও বিজিবির ওপর হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার জেলখাটা আসামী কালাম মিয়া, লাকমা গ্রামের চিহ্নিত চোরাচালানী রতন মহলদার, মানিক মহলদার, কামরুল মিয়া, তিতু মিয়া ও শরিফ মিয়া প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে ৩০মে.টন (৪৫০বস্তা) ও বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৫০বস্তা (৫০মে.টন) কয়লা লাকমাছড়ার পূর্ব দিকে অবস্থিত ৫টি ও টেকেরঘাটে অবস্থিত ৩টি চোরাই গুহা দিয়ে ভারত থেকে (১২০০বস্তা কয়লা) পাচাঁর করে ৩টি ট্রলি ও ২৮টি ঠেলাগাড়ি দিয়ে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত পাটলাই নদীর তীরে নিয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত ওপেন বিক্রি করে। 

কিন্তু বিজিবি এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে বালিয়াঘাট ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা হাবিলদার আসাদ, নায়েক সাব্বির, ওলি ও সহিদ নিজেরা দাড়িয়ে থেকে বিজিবি ক্যাম্পের অলিখিত সোর্স পরিচয়ধারী জিয়াউর রহমান জিয়া, ইদ্রিস আলী, কালাম মিয়া ও আব্দুল হাকিম ভান্ডারীকে দিয়ে পাচাঁরকৃত ১বস্তা চোরাই কয়লা থেকে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নামে ৭০টাকা, থানা-পুলিশের নামে ৫০টাকা, টেকেরঘাট কোম্পানী কমান্ডারের নামে ২০টাকা, এফএস শহিদের নামে ১০টাকা, সাংবাদিকদের নাম ভাংগিয়ে চোরাচালান মামলা নং-জিআর ১৫৮/০৭ইং এর আসামী বালিয়াঘাটের আব্দুর রাজ্জাক ৫০টাকা নেওয়াসহ মোট ২২০টাকা হারে মোট ১২০০বস্তা থেকে ২লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করে ভাগ ভাটোয়ারা করে নিয়ে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে টেকেরঘাট ও বড়ছড়া শুল্কষ্টেশনের বৈধ কয়লা ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া, জানে আলম, নুরে আলম, কফিল উদ্দিন, চান মিয়া, আশরাফ উদ্দিন, জমির উদ্দিনসহ আরো অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিজিবির নায়েক সুবেদার মতিউর রহমান, হাবিলদার আসাদ, নায়েক সাব্বির, ওলি, সহিদ ও এফএস শহিদ চোরাচালানীদেরকে দিয়ে লাকমাছড়া ও টেকেরঘাট এলাকা দিয়ে ৮টি গুহা তৈরি করে প্রতিদিন ভারত থেকে লক্ষলক্ষ টাকার কয়লা, চুনাপাথর, ইয়াবা, হেরুইন ও মদ-গাঁজা পাচাঁর করছে, এটা খুবই লজ্জাজনক ব্যাপার। 

এ ব্যাপারে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কমান্ডার হাবিলদার আসাদ বলেন,এব্যাপারে বারাবারি করার দরকার নেই আমি নিজ দায়িত্বে সবার সাথে আপনাকে মিট করিয়ে দেব।  এই ক্যাম্পের নায়েক সাব্বির বলেন, কামরুল, শরিফ, রতনকে ডেকে এনে সব সমাধান করে দেব, এলাকার মানুষকে ভারত থেকে কয়লা নিয়ে চলার সুযোগ দেন। 

টেকেরঘাট বিজিবির কোম্পানীর দায়িত্বে থাকা কমান্ডার নায়েক সুবেদার মতিউর রহমান বলেন,প্রত্যেক জায়গাতে চোরাচালানীদের লোক থাকে, কয়লা আটক করতে স্পটে যাওয়ার আগেই চোরাচালানীরা খবর পেয়ে যায়, এই কারণে কয়লা আটক করা সম্ভব হয়না। 

সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন, সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে এবং থাকবে।