৬:০৭ এএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

সাড়ে আট ঘন্টা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি বন্ধ

১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:১৭ পিএম | সাদি


এম, মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় উভয় ঘাট মিলে প্রায় দেড় লাখ টাকা বিআইডব্লিউটিসি’র রাজস্ব লোকসান হয়।  লোকসান হয় কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের।  চরম দুর্ভোগ হয় পদ্মা নদী পারাপার হতে আসা যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের। 

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, শীত মৌসুমে প্রতিনিয়ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।  দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দেড় লাখ টাকা বিআইডব্লিউটিসি’র রাজস্ব লোকসান হয়।  নদী পার হতে আসা যাত্রীদের হয় দুর্ভোগ।  ব্যবসায়ীদের আর্থিক লোকসান হয়। 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৩টা থেকে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে মাকিং বাতি না দেখা যাওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়।  এ সময় মাঝ নদীতে বিভিন্ন প্রকার দেড় শতাধিক যানবাহন নিয়ে ৪টি ফেরি নোঙর করে থাকে।  দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ২টি ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ১০টি ফেরি যানবাহন লোড করে বসে থাকে।  সকাল ১১টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে পুনরায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়। 

এদিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে এসেও কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় পারাপার হতে না পেরে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের ৫কিলোমিটার জুড়ে যাত্রীবাহী বাস ও পন্যবাহী ট্রাকের পৃথক দুইটি দীর্ঘ সারি হয়ে যায়।  সারারাত গাড়ীর মধ্যেই রাত কাঁটাতে হয় যাত্রী ও চালকদের। 

শুধু দৌলতদিয়া ঘাটেরই চার শতাধিক যানবাহন দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।  আর আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীরা পৌষের কনকনে হিমেল ঠান্ডা ও বাতাসে চরম দূভোর্গের  শিকার হচ্ছে। 

শনিবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট সরেজমিন ঘুরে একাধিক যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাত ৭/৮ টার দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম গামী যাত্রীবাহী বাস ও পন্যবাহী ট্রাকগুলো ছেড়ে আসে।  দৌলতদিয়া ঘাটে এসেই দেখে ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ।  ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ এবং যানবাহন ব্যবসায়ীদের আর্থিক লোকসান হয়।  যাত্রীরা বলেন, মহাসড়কে পাবলিক টয়লেট নেই।  যেগুলো আছে সেটাও তালা বন্ধ থাকে।  সুতরাং নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ দ্বিগুন হয়।  খাবারের হোটেল না থাকায় দ্বিগুন দামে খোলা খাবার কিনে খেতে হয়। 

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহ-ব্যবস্থাপক মোঃ খোরশেদ আলম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে শুক্রবার রাত ৩টার সময় ফেরি বন্ধ করা হয়।  সকাল ১১টার সময় কুয়াশার ঘনত্ব কমে আসলে পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।  তিনি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে প্রায় সাড়ে ৮ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায়  তিন শতাধিক  যাত্রীবাহী বাস ও পন্যবাহী ট্রাকের সারি রয়েছে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya