১:০১ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


নাইক্ষ্যংছড়িতে ১৬শ অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন বিজিবি

১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:৩০ পিএম | সাদি


মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি : শীতে কাঁপছে মিয়ানমার সীমান্তঘেষা পাহাড়ি অঞ্চল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ সহ
প্রাণীকুল।  ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে এখানকার জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।  শীতের তীব্রতায় উপজেলা সদর, সোনাইছড়ি, দৌছড়ি, ঘুমধুম ও বাইশারীর মত দুর্গম এলাকাগুলোর পাহাড়ি দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষের জবুথবু অবস্থা।  এছাড়া শীতজনিত কারণে সর্দি-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এখানকার মানুষ।  তবে এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।  তবে অপ্রতুল হলেও পরিষদ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো: কামাল উদ্দিন। 

এরই ধারাবহিকতায় শুক্রবার ১৬শ অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।  বিজিবি রামু এডহক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবদুল খালেক পিএসসি ও নাইক্ষ্যংছড়ি জোন ও বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল মো. আনোয়ারুল আযীম এর উপস্থিতিতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আশারতলী গ্রামে শীতবস্ত্র বিতরণ উদ্বোধন করা হয়।  ভবিষ্যতেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ৩১ বিজিবি অধিনায়ক। 

বাইশারীর ধৈয়ারবাপের পাড়ার বাসিন্দা অংক্যহ্লা মার্মা বলেন, পাড়ার সবাই গরিব।  চাহিদামতো শীতের কাপড় কেনা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।  তাই সরকারিভাবে যদি কম্বল দিয়ে সহায়তা করা হয় তাহলে ভালো হতো।  ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক আব্দুল মান্নান ও বদিউল আলম বলেন, অন্যবারের চেয়ে এ বছরে বেশি শীত পড়ছে।  শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় যাত্রীরা মোটর সাইকেলে উঠতে চায় না।  তবে শীত থেকে রক্ষা পেতে আমরা আগুন জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছি।  গরম কাপড় যা আছে, তা দিয়ে শীত ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।  তীব্র শীতের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ায় পরিবার- পরিজনের খাদ্য যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষদের। 

এ বিষয়ে দৌছড়ির বাসিন্দা কৃষক রেজাউল করিম বলেন, এ বছর অতিরিক্ত শীতের কারণে আমরা কোনও কাজ ঠিকমতো করতে পারছি না।  কাজ করতে না পারায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।  তিনি আরও বলেন, বেশি শীত পড়লেও আমরা এখানে যারা বসবাস করছি তাদের খবর কেউ রাখে না।  আমরা চাই সরকার আমাদের শীতবস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করুক।  নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক সালমান করিম খান বলেন, শীতজনিত কারণে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এদিকে দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষজনের শীতের কষ্ট লাঘবে গরম কাপড় ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। 


keya