৪:২০ এএম, ১৭ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৪ জ্বিলকদ ১৪৩৯


সন্ধ্যার আগে চুলা জ্বলে না রাজধানীতে, গ্যাস সংকট

১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০৮:০৫ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : রাজধানীর অনেক এলাকায় সারাদিন জ্বলে না চুলা, সন্ধ্যার পর আসে গ্যাস । 

ফারজানা রহমান সাথী থাকেন পুরান ঢাকার রায়েরবাগের কদমতলী এলাকায়। 

তিনি জানান, দুই সপ্তাহ ধরে সকালে গ্যাস না থাকায় বাসায় নাস্তা বানানো যাচ্ছে না।  হোটেলই ভরসা।  দুপুরেও গ্যাস আসে না।  ফলে দুপুরের খাবারও হোটেল থেকে এনে খেতে হয়।  বিকাল থেকে গ্যাস আসা শুরু হলেও তার চাপ এত কম থাকে যে পানি পর্যন্ত গরম হয় না।  সন্ধ্যার পর গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসে।  এরপর শুরু হয় রান্না। 

শুধু রায়েরবাগ নয়, রাজধানীজুড়েই বেশ কিছুদিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে।  তবে গ্যাস সংকটে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, কাজীপাড়া, ইন্দিরা রোড, গ্রিন রোড, কলাবাগান, শুক্রাবাদ, কাঁঠালবাগান, মোহাম্মদপুর, রাজাবাজার, মগবাজার, মালিবাগ, তেজকুনিপাড়া, পশ্চিম রামপুরা, বাসাবো, আরামবাগ, আর কে মিশন রোড, টিকাটুলী, মিরহাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, জাফরাবাদ, লালবাগ, কেরানীগঞ্জ ও উত্তরার বাসিন্দারা। 

ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ করেই গ্যাস সংকট বেড়ে গেছে।  শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে এই সংকট বেড়েছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। 

আজিমপুরের বাসিন্দা রোমানা মাজেদ বলেন, ‘সকাল বেলায় গ্যাস চলে যায়, আসে সেই বিকালে।  সারাদিনের রান্না সন্ধ্যার পর একসঙ্গে করে রাখি।  সকালের নাস্তা বেশিরভাগ দিনই হোটেল থেকে এনে খাই।  দুপুরে ফ্রিজে রাখা খাবার ওভেনে গরম করে খাই।  কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ সমস্যা চলছে। ’ প্রতিবছর শীত আসলেই এই সমস্যা বেশি হয় বলে জানান তিনি। 

একই অভিযোগ বনশ্রীর বাসিন্দা লিলি আক্তারের।  তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে ১১ জনের সংসার।  একা তিন বেলার রান্না এক বেলায় করা সম্ভব হয় না।  তাই সকাল আর দুপুরের খাবারের জন্য হোটেলের ওপরই নির্ভর করতে হয়। ’ সন্ধ্যায় গ্যাস এলে রান্না করেন তিনি।  সারাদিন পর রান্না করতে গিয়ে অনেক ভোগান্তিতে পড়েন। 

গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার বয়স্ক ও শিশুরা।  গরম পানি করতে না পারায় শীতের মধ্যে কষ্ট পাচ্ছেন তারা। 

একই ধরনের সমস্যার কথা বলেন খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান রুবেল, মিরপুর রূপনগরের শামীম হাসনাইন।  তারা জানান, গ্যাস না থাকায় দুপুরের দিকে হোটেলগুলোতে খেতে গিয়েও বিপত্তি দেখা দেয়।  খাবারের জন্য মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।  প্রতিদিন হোটেলে যেভাবে মানুষ আসে, গত এক সপ্তাহে তারচেয়ে বেশি মানুষ আসছেন।  বিশেষ করে দুপুরের খাবারের সময়। 

হঠাৎ কাস্টমারের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে হোটেল কর্মচারীরা জানায়, গ্যাস না থাকায় বাসাগুলোতে রান্নাবান্না হচ্ছে না।  তাই হোটেলে খাবারের জন্য ভিড় লেগে যায়। 

দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ আবাসিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে।  তবে শুধু আবাসিকে নয়, শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকট চলছে।  বিশেষ করে রাজধানীর আশপাশে গাজীপুর, আশুলিয়া, টঙ্গী ও সাভারের শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাপ থাকছে না।  সিএনজি পাম্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রেও একই অবস্থা। 

এ বিষয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান বলেন, ‘শীতের কারণে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।  এই বাড়তি চাহিদা মেটানোর মতো গ্যাস নেই।  চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ার কারণে ঘাটতি মেটানো যাচ্ছে না।  রেশনিং করেই চলতে হচ্ছে। ’

তিনি জানান, তিতাসের অধীন এলাকায় গ্যাসের চাহিদা প্রায় দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।  কিন্তু কখনোই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যায় না।  সবসময়ই ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো ঘাটতি থাকে। 

মীর মসিউর রহমান আরও বলেন, ‘আগে পাইপলাইনের সমস্যার কারণে যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতো, এখন আর তা হচ্ছে না।  শীতের আগেই এইসব পাইপলাইন পরিষ্কার করা হয়েছে।  এছাড়া, অভিযোগ পেলেই লোক পাঠানো হচ্ছে।  পাইপলাইনে সমস্যা পেলে সমাধান করা হচ্ছে। ’



keya