১:১৯ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউস সানি ১৪৪০




সুগন্ধা ও বীষখালি

নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে বাসষ্ট্যান্ড সাইক্লোন শেল্টার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ২০ গ্রাম

১৯ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:১৮ পিএম | সাদি


মোঃ রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা ও বীষখালি নদীর ভাঙ্গনে হুমকীর মুখে বাসষ্ট্যান্ড, সাইক্লোন শেল্টার, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, সড়কসহ প্রায় ২০ টি গ্রাম।  ইতিমধ্যে এ ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রাম।  বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজার হাজার পরিবার।  দীর্ঘ দিন ধরে এই ভাঙ্গণ রোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ভাঙ্গনের মাত্রা বেড়েই চলছে।  পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠালেও তা ফাইলবন্দি হয়ে পরে আছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনের মুখে পরেছে কৃষ্ণকাঠি বাসষ্ট্যান্ড ও কুতুব নগর মাদ্রাসাসহ এলাকার বসতবাড়ি।  ইতিপূর্বে এ এলাকায় এক রাতে আকস্মিক ভাঙ্গনে তলিয়ে গেছে বসত বাড়িসহ গাছপালা।  একই ভাবে জেলা শহরের একমাত্র বাসষ্ট্যান্ডটি যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হবার পথে।  কিন্তু গত ১০ বছর ধরে ভাঙ্গন প্রতিরোধে নেয়া হয়নি কোন কার্যকর ব্যবস্থা। 

ব্লক ফেলে এ ভাঙ্গন রোধের প্রস্তাব করা হেয়েছে বলে জানাযায়।  এছারাও সুতালরি এলাকার জেলা পরিষদ ও পুলিশ লাইনের সম্মুখে সুগন্ধার ভাঙ্গন অব্যাহত আছে।  এ ভাঙ্গন রোধের প্রস্তাব ফাইল বন্দি হয়ে পরে আছে।  সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পোনাবালিয়া, দেউরি, আতাকাঠি, দিয়াকুল, মানকি, ভাওতিতাসহ কয়েকটি গ্রামের ২ শতাধিক পরিবারের বসত বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।  এসব গ্রামের প্রায় দেড় হাজার একর আবাদি জমি নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ায় শতশত কৃষক বেকার হয়ে পরেছে। 


এলাকাবাসি জানিয়েছে ভাওতিতা গ্রামের অধিকাংশই নদীর ভিতরে।  ভাঙ্গন কবলিত কৃষকরা পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।  প্রতিদিন ইউনিয়নটির ভাঙ্গনের পরিধি বেড়েই চলছে।  পশ্চিম দেউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, নদী তীরের ভেরিবাঁধটি না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারেনা।  এ ইউনিয়নের সাইক্লোন শেল্টারের পিলার এখন নদীর ভিতরে।  ব্লক ফেলে বীষখালি নদীর এই ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাব ফাইলবন্দি হয়ে আছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।  কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া গ্রাম বীষখালি নদীতে ভেঙ্গেই চলছে। 

এই এলাকায় নদী তীরে প্রায় ২ কিলো মিটার বিকল্প বাঁধ নির্মানের প্রস্তাব বাস্তবায়নাধীন আছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।  এছাড়া রাজাপুর উপজেলার বাদুরতলা লঞ্চ ঘাটসহ নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মানের প্রস্তাব আজ পর্যন্ত বাস্তবে রুপ নেয়নি।  নলছিটিতে ১৬ লাখ টাকা ব্যায়ে হদুয়া মাজার ও বন্দর রক্ষা প্রকল্পটির কাজ শেষ পর্যায়ে হলেও এলাকাবাসির অভিযোগ বরাদ্দ টাকার বেশির ভাগ লুটপাট হয়েছে।  নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর থেকে সারদল গ্রাম পর্যন্ত সুগন্ধা নদীর তীব্র ভাঙ্গন আরো তীব্রতর হচ্ছে।  অথচ এ ভাঙ্গন রোধে কর্তৃপক্ষোর কোন ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।  বর্তমানে এ ভাঙ্গনের মুখে পরেছে মসজীদসহ বসতবাড়ি ও আবাদি জমি। 

নদী ভাঙ্গনের উল্লেখিত প্রকল্পের প্রস্তাব গুলো কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হতে পারে এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝালকাঠির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদ আহম্মেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে আমরা এ প্রস্তাব গুলো অন্তর্ভূক্ত করেছি।  একটু সময় লাগবে।  তবে প্রকল্প অনুমোদনের পর  এই ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  এছাড়া ঝালকাঠি শহরের বাসষ্ট্যান্ড ও মাদ্রাসা নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচাতে পূনরায় আরেকটি পৃথক প্রকল্প পাঠানোর কাজ চলছে।