৫:০৭ এএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




পুলিশ-বিএনপি কর্মীদের ত্রিমূখী সংঘর্ষ, আহত ১০

হবিগঞ্জে জননিরাত্তায় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্রলীগের অবস্থান

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৯:৫৯ পিএম | সাদি


আখলাছ আহমেদ প্রিয়, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ শহরে ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে।  এতে করে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সাথে বিএনপি সমর্থকদের দফায় দাফায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।  এতে আওয়ামীলীগ নেতাসহ ১০ জন আহত হয়েছে।  সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাকা গুলি বর্ষণ করে।  এ সময় তাৎক্ষণিক ২ জনকে আটক করা হয় বলে জানায় পুলিশ। 

এদিকে, নাশকতা এড়াতে ও জনসাধারণের জননিরাপত্তা নিতে হবিগঞ্জ শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ডাঃ ইশতিয়াক রাজ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিদের নেতৃত্বে দিনব্যাপী অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।  পরিশেষে পুলিশের পাশে থেকে বিএনপি কর্মীদের ঘরে তুলে  এবং মিছিলে মিছিলে মুখরিত করে তুলে হবিগঞ্জ শহর। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরে কারাদন্ড ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫ জনের ১০ বছরের কারাদন্ডের খবর শুনে হবিগঞ্জ শহরের টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নদীর পাড় এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হতে থাকে বিএনপি সমর্থকরা।  এ ঘটনায় পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া করলে বিএনপি কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।  এর পরপরই বিকেল ৩টার দিকে শহরের শায়েস্তানগর পয়েন্টে বিএনপিকর্মীরা নাশকতার সৃষ্টি চেষ্টা চালায়। 

এতে পুলিশ বাধা দিলে  তারা অতর্কিত ভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।  এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায়  পুলিশ-বিএনপি ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ।  এ সময় টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ।  

এছাড়াও বিকেল সাড়ে ৩ টায় শহরের শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট, তিনকোনা পুকুরপাড়, মুসলিম কোয়ার্টার ও জালালাবাদ বাইপাস সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা  নাশকাতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে জেলা ছাত্রলীগ কর্মীরা ধাওয়া করে।  এতে তারা সটকে পড়ে।  এরপর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ জাহিরসহ দলীয় নেতাকমীরা আনন্দ মিছিল বের করে।  এ সুযোগে বিএনপির সমর্থকরা শহরের জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং গাড়ি ভাংচুর করে।  এ সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ধাওয়া করলে পালিয়ে যায়।  কিছুক্ষন পরেই শহরের অনন্তপুর এলাকায় শিবির অফিসের সামনে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় শিবির কর্মীরা। 

এর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে ও শিবির অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।  খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুণ নিয়ন্ত্রনে আনে।  বিভিন্ন পয়েন্টে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।  আহত অবস্থায় আব্দুল হান্নান (২০), গাজী আফজল (৪৫), অজিত দেবনাথ (২৮), সেকুল ইসলাম (৩২), আব্দুল হাসিম (৩২), বজলু মিয়া (৩৮) হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।  এছাড়াও জেলার শায়েস্তাগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপি সমর্থকদের সাথে পুলিশের ত্রিমূখী সংঘর্ঘ হয়। 

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হায়াতুন্নবী জানান, হবিগঞ্জ শহরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষীপ্ত ভাবে বিশৃংঙ্খলা করার চেষ্ঠা করেছে।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ সর্বোচ্ছ সর্তক থাকায় বড় ধরণের কোন নাশতকতার ঘটনা ঘটেনি।  এছাড়াও যে কোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে বিজিবি, র‌্যাব-পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 



keya