১১:৪২ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


সোনামসজিদ বন্দরে ২১ দিন থেকে পাথর আমদানী বন্ধ

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৪:২৮ পিএম | সাদি


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গত ২১ দিন থেকে পাথর আমদানী বন্ধ।  সোনামসজিদে পাথরের ইয়াড গুলি ফাঁকা অন্যদিকে ভারতের মহদিপুর স্থল বন্দ ট্রাক পার্ককিং কেন্দ্রে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার পাথর ভর্তি ট্রাকবলে সোনামসজিদ স্থলবন্ধর আমদানী রপ্তানী কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তফিকুর রহমান জানান। 

জানা গেছে, উভয় দেশের পাথর আমদানী রপ্তানী সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়ম নীতি নিয়ে জটিলতার কারণেই ২০ দিন থেকে পাথর আমদানী বন্ধ রয়েছে।  পাথর আমদানী কারকদের সূত্রে জানা গেছে কিছুদিন যাবৎ অগ্রিম রাজস্ব পরিশোধ করে পাথর আমদানী করা হত।  কিন্তু ঐ সময় পাথর রপ্তানী কারকেরা আমদানীকৃত পাথরে ধুলা বালি সহ বিভিন্ন প্রকারের ময়লা আর্বজনা মিশ্রিত করে পাথর রপ্তানী করত।  একই সঙ্গে ভারতীয় আমদানীকৃত পন্যবাহি গাড়ির বিভিন্ন পয়েন্টে চেকিং এর কারণে ভাতরীয় গাড়িতে খালাসি না থাকার কারণে আমদানীতে বিলম্ব হয়। 

ফিটনেস বিহিন গাড়িতে পণ্য আমদানীর ফলে প্রায় ট্রাক সমূহ বিকল হয়ে আমদানী কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।  এছাড়াও ভারতীয় পাথর রপ্তানী কারকেরা জিএসটি নামে পাথর আমদানী কারকদের কাছ থেকে টনের ভিত্তিতে রশিদ ছাড়ায় টাকা গ্রহণ করত।  ভারতীয় পাথর রপ্তানী কারকদের এই সমস্ত কারণেই বাংলাদেশী পাথর আমদানী কারকেরা পাথর আমদানী বন্ধ করতে বাধ্য হয়। 

আমদানীকারকদের একপত্রে জানা যায় অগ্রীম ট্র্যাকস পরিশোধ না করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।  কিন্তু পাথর আমদানী কারকদের উক্ত সিন্ধান্তের প্রেক্ষিতে মহদিপুর এক্সপ্রোটার্স এ্যাসোসিয়েশন জানায় অগ্রীম ট্র্যাকস দিয়েই পণ্য আমদানী করতে হবে। 


পাথর আমদানী বন্ধের ব্যাপারে আমদানী রপ্তানী কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তফিকুর রহমান বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভারতীয় পাথর রপ্তানী কারকদের একতরফা স্বেচ্ছাচারিতা, রপ্তানীকৃত পাথরের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আর্বজনা জে.এস.টি নামে আমদানীকৃত পাথর থেকে রশিদ ছাড়ায় বিল আদায়ের কারণেই পাথর আমদানী কারকেরা লোকসানের বোঝা বয়ছে।  বারবার আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্ত জটিলতা দূর করার চেষ্টা করলেও ভারতীয় পাথর রপ্তানী কারকেরা কোন কর্ণপাত করছে না। 

পাথর আমদানী রপ্তানীর সাথে জড়িত সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ জানায়, ভারতীয় পাথর রপ্তানীকারক দের দায়িত্বহিনতারকারণে বর্তমানে পাথর আমদানীতে অচল অবস্থা দেখা দিয়েছে।  তাছাড়া রপ্তানী কারকেরা দফায় দফায় তাদের ইচ্ছা মত পাথরের দাম বৃদ্ধি করছে। 

তিনি আরও জানান দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় স্থল বন্দগুলিতে এই ধরনের কোন আচারণ রপ্তানী কারকেরা করে না।  যা মহদিপুর এক্সপোটার এ্যাসোসিয়েশনের অধিনে পাথর রপ্তানী করে থাকে।  গত ২০ দিন থেকে পাথর আমদানী বন্ধ থাকায় এক দিকে সোনামসজিদ স্থল বন্দরে পাথরের ইয়াড গুলিতে পাথর শূন্য হয়ে পড়েছে। 

অন্যদিকে ভারতের মহদিপুর স্থল বন্দর ট্রাক পার্ককিং কেন্দ্রে প্রায়  সাড়ে ৩ হাজার পাথর ভর্তি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে বলে ভারতীয় দেশের রপ্তানী কারকদের সূত্রে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য, গত ২০ দিনের মধ্যে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানি কারক এ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।  সেহেতু গত কাল শনিবার পর্যন্ত পাথর আমদানির ক্ষেত্রে কোন সুরাহা হয়নি বলে সোনামসজিদ আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌফিকুর রহমান বাবু জানান।