১১:৪২ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


শরণখোলায় চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চরম শ্রমিক অসন্তোষ

বাগেরহাটের শরণখোলায় ৮দফা দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:৩৬ পিএম | সাদি


এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের শরণখোলায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মানাধিন বেড়িবাধ বাস্তবায়নকারী চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চরম শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।  শরণখোলা শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে বেতন বৈষম্যসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার বিকাল ৫টার দিকে সহাস্রাধিক শ্রমিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে ৮ দফা দাবিতে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। 

শ্রমিক নেতা মো. রেজাউল কবির ও সামছু জমাদ্দার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বেড়িবাধ রক্ষা প্রকল্পের শরণখোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ পোল্ডারের প্রায় ৬০ কিলোমটিার বাধ নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করছে সিএইচডব্লিউই নামের চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  এ কাজে উপজেলার সহস্রাধিক শ্রমিক অলিখিত নিয়োগ দেওয়া হয়।  আন্তার্জাতিক ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শ্রমআইন লংঘন করে মাত্র ৩০০ টাকা বেতনে এসব শ্রমিকদের দিয়ে প্রতিদিন ১০/১২ ঘন্টা কাজ করাচ্ছে।  এজন্য তাদেরকে ওভারটাইম মজুরী এবং অন্যকোনো সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় না। 

ওই শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, সাপ্তিাহিক কোনো ছুটি নেই শ্রমিকদের।  কথায় কথায় শ্রমিক ছাটাই কার হয়।  তাছাড়া শ্রমিকদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যানিটেশন, বিশ্রামাগার এবং শ্রমিক পরিবহনের নির্দিষ্ট গাড়িসহ কোনো সুযোগ সুবিধাই তাদের জন্য বরাদ্দ নেই।  বেতন বৈসম্যসহ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকেরা শ্রমিকদেরকে মারধর ও বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে থাকে। 

শ্রমিকদের ৮দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, শ্রুমকদেন নিয়োগ পত্র প্রদান, আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী কাজের সময় ও বেতন নির্ধারণ করতে হবে, অতিরিক্ত কাজ ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে।  শুক্রভার সাপ্তাকি ছুটি ও বাৎসরিক উৎসব বোনাস প্রদান, কর্মরত শ্রমিকরা কোনো প্রকার দুর্ঘটনার শিকার হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, প্রতিদিনের হাজিরা অনুযায়ী বাড়িভাড়া, মেডিকেল ভাতা ও ইন্স্যুরেন্স সুবিধা প্রদানসহ শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। 

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেয়েছি।  এব্যাপারে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। 

এ ব্যাপারে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  তবে, কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা বিশ্ব ব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট “রয়েল হ্যাসকোনিন” সংস্থার কনস্ট্রাকশন সুপারভেসন ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল দত্ত জানান, তাদের গাইড লাইন ও ডিজাইন অনুযায়ী চায়না কোম্পানি কাজ বাস্তবায়ন করছে।  সে মোতাবেক তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়া হবে।  শ্রমিকদের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার।