৫:৫৬ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ মুহররম ১৪৪০


নবীগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার কান্ড

হাফিজিয়া মাদ্রাসার জমি আত্মসাতের চেষ্টায় প্রতিবাদমুখর এলাকাবাসী

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৫৪ পিএম | সাদি


মিজানুর রহমান সোহেল, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের কর্মকান্ড ফুঁসে উঠছেন এলাকাবাসী।  পুলিশের সাবেক ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দেওয়ান জাহিদ আহমদ চৌধুরী অবসরে এসে স্কুলের যায়গা বিক্রির পর এবার হাফিজিয়া মাদ্রাসার জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।  এ নিয়ে এলাকাবাসী মঙ্গলবার বিকেল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে পানিউমদা গাউছিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন পানিউমদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান।  পানিউমদা, বড়কান্দি ও কুর্শা গ্রামের লোকজন এবং প্রবাসীরা মিলে এই মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছে।   গ্রামবাসীর দাবী ছিল যদি কবরস্থানের পাশে হাফিজিয়া মাদ্রাসা হয় তাহলে সেখানে কোরআন তেলাওয়াত হবে।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামের আব্দুল বাছির ও খলিল মিয়াকে বুঝিয়ে তাদের বাড়ীর ২৭ শতক ভূমি ক্রয় করা হয় মাদ্রাসার জন্য। 

আব্দুল বাছির ও খলিল মিয়া সওয়াবের আশায় বাড়ী বিক্রি করে অন্যত্র বাড়ী করে।  কিন্তু মাদ্রাসার সভাপতি ও পুলিশের সাবেক ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দেওয়ান জাহিদ আহমেদ ওই জমি মাদ্রাসার নামে রেকর্ড না করে সম্প্রতি রেকর্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে তথ্য গোপন করে ওই জমিকে চারা রকম ভূমি দেখিয়ে এক তরফা শুনানীর মাধ্যমে তার স্ত্রী সৈয়দা বদরুন্নেছার নামে রেকর্ড করে বিক্রির পায়তারা করছেন।  ওই মামলায় বিবাদী ছিলেন নিজে এবং বাদী ছিল তার স্ত্রী।  মামলায় মাদ্রাসার অস্থিত্বের কথা স্বীকার করা হয়নি। 

খবরটি জানা জানি হলে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।  পানি উমদা ইউনিয়নের মেম্বার আরজত আলী জানান, মাদ্রাসায় অর্ধ শতাধিক ছাত্র আছে।  প্রতি বছরই ৪/৫জনকে পাগড়ী দেয়া হয়।   আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারী ৩জনকে পাগড়ী দেয়া হবে।  এরই মাঝে খবর আসে মাদ্রাসার জমি দখল ও বিক্রির পায়তারা করছেন জাহিদ আহমেদ চৌধুরী।  তারা যে কোন মূল্যে মাদ্রাসা রক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন। 

গ্রামের গ্রীস প্রবাসী আব্দুল হাই বলেন, তারা ১০ বছর পূর্বে মাদ্রাসার জন্য ৭০ হাজার টাকা পাটিয়েছিলেন।  এখন বলা হচ্ছে মাদ্রাসা নেই। 

মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ সামছুর রহমান জানান, তিনি এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ছাত্রদেরকে পড়াচ্ছেন।  এই মাদ্রাসা এলাকার ঐতিহ্য।  মাদ্রাসা রক্ষার দাবী জানান তিনি।  মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র ও সাবেক শিক্ষক আব্দুস সাত্তারও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানান।   বর্তমান ছাত্র রাকিব আলী ও ইমরান হাসানও দাবী করছেন এখান থেকেই তারা পড়াশুনা যাতে শেষ করতে পারেন তার যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 

এদিকে শুধু মাদ্রাসা নয় দেওয়ান জাহিদ আহমেদ চৌধুরী পানিউমদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ শতক ভূমি তার নামে মাঠ পর্চা তৈরি করে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  এ ব্যাপারে এলাকাবাসী মামলা দায়ের করেছেন। 

পানি উমদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান জানান, তিন গ্রামের জনগন হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছেন।  গ্রামের মানুষ সহজ সরল হওয়ায় কোনদিন এর কাগজপত্র নিয়ে চিন্তা করেনি।  কিন্তু শিক্ষিত হওয়ার সুবাধে দেওয়ান জাহিদ আহমেদ এলাবাসীকে ধোকা দিতে চেষ্টা করেছেন।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমি নিয়ে এ ধরনের কর্মকান্ড দুঃখ জনক। 

এ ব্যাপারে দেওয়ান জাহিদ আহমেদ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।