১২:১৫ এএম, ২০ জুন ২০১৮, বুধবার | | ৬ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

পাকিস্তানের মালালার সঙ্গে ফেসবুকে বাংলাদেশী যুবকের প্রেম

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:১২ পিএম | মুন্না


মো.শাহজাহান ফকির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: বিশ্ব ভালবাসা দিবস কালক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।  কালক্রমে শ্রেষ্ট স্বপ্ন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধের উদ্দেশ্যে তরুন-তরুনীর প্রেমের সম্পর্ক মুঠোফোন, ই-মেইল,অনলাইন ফেইসবুক চ্যাটিংয়ে প্রেমবার্তা ও এসএমএস-এ মনের কথা শেয়ার করে গড়ে উঠতেছে ভবিষ্যৎ সোপান। 

বর্তমানে বিখ্যাত প্রেমের সর্ম্পকের তালিকায় বিশ্ব ভালবাসা দিবস।  আর সেই এক অভিনব ভালবাসায় পাকিস্তানের নারী ও শিশু অধিকার কর্মী শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মালালা ইফসুফজাই বাংলাদেশী যুবকের প্রেমে সিক্ত হয়েছেন বলে জানায় প্রেমিক কবি এনইউ আহম্মেদ। 

প্রেমিক এনইউ জানায়, ফেইসবুকে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক বিগত তিন বছর যাবত চলমান।  জানা যায়, কবি এনইউ আহম্মেদ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের সহিলাটি গ্রামের মো.সাইদুল ইসলাম ও মাতা মাতিয়া খাতুনের প্রথম পুত্র।  তাঁর ৫ ভাই ও ১ বোন।  সে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ইতিহাস বিভাগের ছাত্র।  সে মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করে।  তাঁর বাবা সাইদুল ইসলাম বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত রয়েছেন।  দীর্ঘ দিন যাবত ফেইসবুকে মালালার ভেরিফাই আইডি সহ দুইটি লাইক পেইজের মাধ্যমে দুজনে এসএমএস চ্যাট প্রেম বার্তা চ্যাটিং লিষ্ট করে থাকেন বলে প্রতিনিধিকে জানায়। 


গণমাধ্যেমে মালালার যে ভেরিফাই ফেইসবুক আইডিটি ও লাইক পেইজ প্রকাশিত হয়েছে, সেই ভেরিফাই ফেইসবুক আইডি দিয়ে চ্যাটিং হয় এনইউ আহম্মেদের।  এন ইউ আহম্মেদ নিজের ফেইসবুক আইডিতে মালালার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পকের চ্যাটিং লিখে পোষ্ট করলে পারিবারিক ভাবে মা-বাবা ও স্থানীয় এলাকাবাসী সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও অলনাইন মাধ্যমে এই প্রেমের খবর ছড়িয়ে পরে। 

এন ইউ আহম্মেদ আরও জানান,  বিবাহ বন্ধন হচ্ছে শ্রেষ্ট স্বপ্ন যা সকল স্বপ্নের মাঝে।  স্বপ্নটি ব্যক্তিগত ভাবে প্রত্যেকের মনে লালন পালন হয়।  মালালার সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।  ভালবাসা কখনও শ্রেণী/স্তরের ভেদাভেদ বুঝে না।  মালালার সঙ্গে আমার প্রেমের বিষয়টি কোন কাল্পনিক নয়।  এ বিষয়ে তার মা-বাবার পজিটিভ সাপোর্ট রয়েছেন।  ভালবাসা ধনী দরিদ্রের মাঝে কোন বৈষম্য রাখে না।  আমরা দুজনে প্রেমের সর্ম্পকের বিবাহ বন্ধনে পরিবার গঠন করার উদ্দেশ্যেই প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তুলেছি।  মালালা এনইউকে কথা দিয়েছে যে সে বাংলাদেশে আসবে।  কবি তাঁর প্রেমকে উৎস্বর্গ করে “থাকতো যদি ভালবাসার লাইসেন্স” উপন্যাসটি ২০১৬ সালে ২১শে বই মেলায় প্রকাশ হয়েছে।  সে বাংলাদেশের বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহম্মেদের শিষ্য। 

এন ইউ আহম্মেদের মা-বাবা প্রতিনিধিকে জানান, আমার ছেলের ভালবাসার সর্ম্পকটি যদি সত্য কিনা তা জানিনা তবে তাঁর জন্য দোয়া করি।  মালালা বাংলাদেশে আসলে স্বাগত জানিয়ে নিজের মেয়ের মত আদর স্নেহ করে বরণ করে নিবো।  কবির মা-বাবার সর্ম্পকও ভালবাসার মাধ্যমেই হয়েছিলো বলে জানা যায়। 

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ছেলেটি সৎ কর্মঠ পরিশ্রমী।  যদিও উচ্চবৃত্তের পরিবারের সন্তান তবু গরিব দুখি মানুষের সঙ্গে বেশী চলাফেরা করেন।  নিজে চাকুরী করে লেখা পড়া করে থাকেন।  ছেলেটি অহংকার মুক্ত মনে বলেন, আমার পিতা বড়লোক, আমি তো বড়লোক না।  আমি সাধারণ একজন গরীব মানুষ।  এমন অসাধারন অহংকার মুক্ত মনের ছেলে এন ইউ আহম্মেদের ভালবাসার সর্ম্পকটি সাফল্য হোক সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।  মালালাকে বিশ্ব ভালবাসা দিবসের শুভেচ্ছা ও দীর্ঘায়ু কমনা করছি।  আমার হৃদয়ে তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করি। 

উল্লেখ্য মালালা ইউসুফজাই একজন পাকিস্তানী শিক্ষা আন্দোলন কর্মী।  মালালা যার আক্ষরিক অর্থ- “দুঃখে অভিভূত” ২০১২ সালে ৯ ই অক্টোবর তালেবান হামলায় তিনটি গুলিতে আহত হন।  তিনি সতের বছর বয়সে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন বর্তমানে আমেরিকা বার্মিংহামে বসবাস করছেন।  এ বিষয় নিয়ে এলাকায় জনমনে বিভিন্ন ধরনের কৌতুহলী ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।