১০:৪১ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




এসএনএন টয়েন্টিফোর ডট কমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায়

ধুনটে ইউএনও’র কল্যানে প্রতিবন্ধী সুন্দরীর ভাগ্যে স্বপ্নের সুবাতাস

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৬:৩৯ পিএম | সাদি


এম আর আলম, বগুড়া প্রতিনিধি: মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু...’।  হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী এক শিক্ষার্থীর প্রতি যখন সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা, ঠিক তখনই কানে ভাসছিল গানে গানে মানবতার কথা বলা ভূপেন হাজারিকার এ কালজয়ী গানটি।  মনে হচ্ছিল মানুষের প্রতি মানুষের হৃদয়টাকে স্ফিত করে মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলতেই যেন গানটি গেয়েছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী এ গায়ক। 

গানের এই কথা গুলোর বাস্তব চিত্র ফুটে তুলতেই বুধবার বিকেলের দিকে জনবান্ধন ইউএনও রাজিয়া সুলতানা ছুটে যান উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরে মথুরাপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে।  সেখানে সুন্দরী নামে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন ইউএনও।  এছাড়া সুন্দরীর হাতে তুলে দেন প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। 

সুন্দরী একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী।  তার মা-বাবা থেকেও যেন নেই।  তাই আশ্রয় নিয়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মধুপুর গ্রামে খালা শান্তি বেগমের অভাব-অনটনের সংসারে।  সেখানেই অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে সুন্দরীর।  অভাব যেন সুন্দরীর পিছু ছাড়ছে না।  তার মাঝেও শিক্ষা জয়ের স্বপ্ন বুনছে আপন মনে। 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চকমোহনবাড়িয়া গ্রামের সন্তোষ সেখের মেয়ে সুন্দরী।  মায়ের নাম ছাবিনা ইয়াসমিন।  সহায় সম্ভব বলেতে তাদের কিছুই নেই।  সুন্দরীর বয়স যখন ৩ বছর।  তখন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয় সুন্দরী।  চিকিৎসা অভাবে সুন্দরীর বাম হাত ও পা অচল হয়ে পড়েছে।  শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে বেড়ে উঠছে সুন্দরী।  সুন্দরী সূবর্ণগাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। 

বাবা সন্তোষ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে নিজগৃহে শিকলে বেধে রেখেছে স্বজনরা।  এতে ছাবিনার পক্ষে ৫ সদস্যর সংসারের ভার বহন করা সম্ভব হয়নি।  তাই জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছে ছাবিনা।  বাড়িতে সুন্দরীকে দেখভাল করার আর কেউ নেই।  তাই খালার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে সুন্দরী।  ফলে সুন্দরীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। 

সুন্দরীকে নিয়ে ১৫ জানুয়ারী এসএনএন২৪.কম অনলাইন পত্রিকায়-ধুনটে দারিদ্রতার থাবায় নিভে যাচ্ছে প্রতিবন্ধী সুন্দরীর আশার আলো-শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়।  প্রকাশিত সংবাদটি সুনজরে আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।  তিনি সুন্দরীর জন্য সরকারি ভাবে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা ও লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। 

প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারন-অর-রশিদ সেলিম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ জালাল উদ্দিন, উপজেলা সুজনের যুগ্ম সম্পাদক কলামিষ্ট রেজাউল হক মিন্টু, ধুনট প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা ছাবেদ আলী, আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী আব্দুল হামিদ প্রমূখ।