১:১৮ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বুধবার | | ৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

South Asian College

প্রবীনদের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে বিএনপির তরুনদের

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী, বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৬:৫৮ পিএম | সাদি


মাতুব্বর শফিক স্বপন, মাদারীপুর প্রতিনিধি : নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা না হলেও এরই মাঝে মাদারীপুর সংসদীয় আসন ২১৮ (শিবচর) মাদারীপুর -১ আসনের  নির্বাচনী এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।  তবে এ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য একক প্রার্থী নুর ই আলম চৌধুরী লিটন।   তিনি ৫বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।  বর্তমান সরকারের আমলে বর্তমান সাংসদ একাচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করায় আওয়ামীলীগের কোন একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। 

বিএনপিতে গ্রুপিং দ্বন্দ্বে চরমে।  তবে বিএনপিতে গ্রুপিংয়ের কারণে রয়েছে একাধিক প্রার্থী।  এই গ্রুপিংয়ের প্রভাব রয়েছে আসনের সর্বত্রই ।   বিএনপির আগ্রহী প্রার্থীরা সবাই বয়সে তরুণ।  নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মিয়া।  তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত।  বিএনপি নেতা জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা এর আগেও প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।  এবারও নির্বানের প্রচারনা চালাচ্ছেন।  তিনি মুরাদ গ্রুপের নেতা হিসেবে জেলা বিএনপিতে পরিচিত। 

অপর দিকে শিবচর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জাহান্দার গ্রুপের নেতা ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।  এছাড়া নিউ ন্যাশন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক  সাংবাদিক মোতাহার হোসেন সিদ্দিকীর ছেলে বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকীর নামও শোনা যাচ্ছে কর্মীদের কাছে।  এ আসনে বাম সংগঠনগুলো তেমন প্রভাব না থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোটামুটি প্রভাব রয়েছে।  তারা মাদারীপুরের এ আসনেই প্রার্থী দিবেন বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র।  এর আগের উপজেলা এবং পৌর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য বাম দলগুলোর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা।  তবে উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থিরা জয় লাভ করতে না পারলেও ভোটের মাঠে চমক দেখছে। 

মাদারীপুর-২ (সদরের একাংশ এবং রাজৈর) আসনে আওয়ামীলীগের দূর্গে হানা দিতে পারে বিএনপির তরুনপ্রার্থী নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা না হলেও এরই মাঝে মাদারীপুর সংসদীয় আসন ২১৯ (মাদারীপুর সদরের একাংশ ও রাজৈর) মাদারীপুর-২ আসনের নির্বাচনী এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।  জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বেহাল  হলে কিংবা পটপরিবর্তনের আভাষ এলে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংকে হানা দিতে পারে বিএনপি’র তরুণ প্রার্তী এমন কথাই শোনা যাচ্ছে।  আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের নাম শোনা যাচ্ছে।  তিনি ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

এছাড়াও দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহাবদ্দিন মোল্লা এবং জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গোলাম মাওলা প্রচারণা চালাচ্ছেন।  বিএনপির সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান আলোচনায় থাকলেও প্রচার প্রচারণায় নেই তিনি।  কর্মী ও ভোটারদের সাথে নেই তার যোগাযোগ।  সাবেক এমএলএ লুৎফর রহমান হাওলাদারের ছেলে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান কাওছার হাওলাদার দলের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যর নামও শোনা যাচ্ছে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে।  তবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাজাহান খান প্রতি সপ্তাহে মাদারীপুরে থাকেন।  বিভিন্ন কর্মসুচিতে অংশ গ্রহন করে জনগণের কাছাকাছি থাকেন।  এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি প্রার্থীরা। 

মাদারীপুর-৩ (সদরের একাংশ এবং রাজৈর) আসনে আওয়ামীলীগের গ্রুপিং এ সুবিধা নিতে পারে বিএনপির প্রার্থী মাদারীপুর-৩ (সদরের একাংশ এবং কালকিনি), ২২০ (মাদারীপুর সদরের একাংশ এবং কালকিনি) এই আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থীও রয়েছে আলোচনায়।  আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান এমপি আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবাহান গোলাপের নাম শোনা যাচ্ছে কর্মীদের কাছে।  তবে এই নির্বাচনী আসনে আফম বাহাউদ্দিন নাসিম গ্রুপের সাথে রয়েছে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন গ্রুপের দ্বন্দ। 

কালকিনিতে বাহাউদ্দিন নাসিম গ্রুপের বিরুদ্ধে একাট্টা শাজাহান খান এবং গোলাপ।  তবে বর্তমান সাংসদ এমপি আফম বাহাউদ্দিন নাছিম সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে তিনি বিভিন্ন সরকারী কর্মসুচী ছাড়াও এ আসনের প্রতিটি এলাকায় আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

তা ছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির নির্মাণ-সংস্কার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।  জনগণ বান্ধব নেতা হিসেবে তার পরিচয় রয়েছে এলাকায়।  এ আসনে বর্তমান এমপি আফম বাহাউদ্দিন নাছিম কিংবা সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন মনোনয়ন পেলে সেক্ষেত্রে হিসেবটা চলে যাবে বিএনপি’র কোটায় ।  তবে অনেকের কাছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মীর গোলাম ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে।  সে ক্ষেত্রে বিএনপি’র প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারে।  তবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বিএনপির সহ-সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।  তিনি বিএনপি’র প্রতিটি মিছিল-মিটিংএ নিজেকে দলীয় মনোনয়নের যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় মরিয়া হয়ে তৃণমুল নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। 

অপরদিকে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান পলাশ।  তিনি বিএনপির মুরাদ গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত।  কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুকও রয়েছেন আলোচনায়।  আওয়ামীলীগের প্রার্থীর হিসেব-নিকেশে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অধীর আগ্রহ রয়েছে এ আসন ছিনিয়ে নেবার। 

Abu-Dhabi


21-February

keya