৯:৫৮ এএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার | | ১১ মুহররম ১৪৪০


আরও ৫ কার্যদিবস পেলো বিএসইসি, ডিএসইয়ের অংশীদার নির্ধারণে

০৮ মার্চ ২০১৮, ০৮:৪৬ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত অংশীদার (স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার) ইস্যুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের সময় আরও পাঁচ কার্যদিবস বেড়েছে। 

এতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পর্যালোচনা কমিটি আগামী বুধবার (১৪ মার্চ) পর্যন্ত সময় পেয়েছে। 

জানা গেছে, বুধবার (৭ মার্চ) বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের শেষ দিন ছিল।  ডিএসইয়ের প্রস্তাব ও বিএসইসির পক্ষ থেকে ডিএসইয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠানো চিঠির জবাব পর্যালোচনা করতে পর্যালোচনা কমিটির আরও সময় দরকার হয়।  তাই কমিটির আহ্বায়ক বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর সময় বাড়ানোর আবেদন করেন।  এরপর  বুধবার কমিশনের সভায় পাঁচ কার্যদিবস সময় বাড়ানোর বিষয়টিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। 

এর আগে ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার করতে চীনের সাংহাই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রস্তাবের বিষয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি একটি পর্যালোচনা কমিটি করে বিএসইসি।  কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।  কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে।  কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম।  বাকি দুই সদস্য হলেন– নির্বাহী পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান ও আনোয়ারুল ইসলাম। 

চায়নার কনসোর্টিয়ামের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্তত ১৫টির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ডিএসইকে চিঠি দেয় বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটি।  গত রবিবারের মধ্যে এ চিঠির জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।  নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিটির কাছে চিঠির জবাব জমা দেয় ডিএসই। 

এ প্রসঙ্গে ডিএসইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, ‘চায়না কনসোর্টিয়ামের বিষয়ে বিএসইসি কিছু ব্যাখ্যা চেয়ে আমাদের কাছে চিঠি দিয়েছিল।  আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চিঠির জবাব দিয়েছি। ’

জানা গেছে, চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইকে ৩০০ কোটি টাকার প্রযুক্তি সহায়তা দেবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে।  কিন্তু প্রস্তাবনায় এ বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনও প্রমাণ না থাকার কারণে বিএসইসি ডিএসইয়ের কাছে ব্যাখ্যা চায়। 

প্রস্তাবনা অনুযায়ী কৌশলগত অংশীদারের জন্য ডিএসইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভার আগে ১৩টি বিষয়ে চীনা কনসোর্টিয়ামের লিখিত অনুমোদন দরকার হবে বলে মনে করছে বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটি।  এর মধ্যে রয়েছে, যে কোনও নতুন শেয়ার ইস্যু, পরিচালকদের সংখ্যা পরিবর্তন, নতুন কোনও কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তকরণ এবং একক বা যৌথভাবে ১০ কোটি টাকার অধিক ঋণ গ্রহণ।  চীনা কনসোর্টিয়ামের এসব শর্ত বাংলাদেশের আইনের পরিপন্থী এবং বিবেচনার সুযোগ নেই বলে মনে করছে বিএসইসি। 

কৌশলগত অংশীদার পেতে তিন মাস আগে ডিএসইয়ের আহ্বানে দু’টি কনসোর্টিয়াম দরপত্র জমা দেয়।  এর মধ্যে চীনের দুই এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম ছাড়াও অপর দরদাতা ছিল ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্ট্রিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক-এর কনসোর্টিয়াম।  দু’টি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ১০ ফেব্রুয়ারি চীনের কনসোর্টিয়ামকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, চীনা কনসোর্টিয়াম ৯৯০ কোটি টাকায় ডিএসইয়ের ৪৫ কোটি বা ২৫ শতাংশ শেয়ার (প্রতিটি ২২ টাকা দরে) কিনবে।  সেই সঙ্গে ডিএসইয়ের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩৭ মিলিয়ন ডলার খরচ করবে।  অন্যদিকে, এনএসইয়ের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম প্রতিটি শেয়ার ১৫ টাকা করে ২৫ দশমিক এক শতাংশ শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল।  পাশাপাশি তারা কারিগরি সহযোগিতার কথা বললেও কত টাকা ব্যয় করবে তার উল্লেখ ছিল না সেখানে। 

২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধসের পর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বাড়াতে ডিএসইয়ের ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা আলাদা করার জন্য ডিমিচ্যুয়ালাইজেশন অ্যাক্ট-২০১৩ করা হয়।  কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ছাড়াও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিক বিবেচনায় কৌশলগত অংশীদার নেওয়ার এবং তাদের জন্য মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়।  আর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বা ব্রোকারেজ মালিকরা স্টক এক্সচেঞ্জের ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় থাকবেন।  বাকি ৩৫ শতাংশ শেয়ার পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করতে হবে।