৯:৪৩ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪০




দুই শতাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাব্যঞ্জক

০৯ মার্চ ২০১৮, ০৯:৩৭ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : গেলো ২০১৬-১৭ অর্থবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১৭১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে অন্তর্ভূক্ত ছিলো। 

কিন্তু এই অর্থবছর ৮৩ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হার সাড়ে তিন শতাংশেরও কম ছিলো।  সবমিলিয়ে ২০৩ প্রকল্পে বাস্তবায়ন চিত্র হতাশাব্যঞ্জক উল্লেখ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।  এর বাইরে আরো ২৫৩ টি প্রকল্প বাস্তবায়নের গড় ছিলো ১০ শতাংশ বা তার নিচে।  এগুলোকে সন্তোষজনক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।  ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ অবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কমিটিতে (এনইসি) প্রতিবেদন উপস্থাপন করে আইএমইডি।  এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছর সংশোধিত এডিপিতে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৮৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।  যা মোট বরাদ্দের ৮৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।  মূল এডিপির আকার ছিলো ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা।  মূল এডিপি হতে বাস্তবায়ন হয়েছে ৮৬ দশমিক ৮২ ভাগ।  যা আগের বছর ছিলো ৮৬ দশমিক ২১ ভাগ। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশোধিত এডিপিতে মোট ৫৭ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে প্রকল্প সাহায্যের অগ্রগতি প্রায় ৭৯ ভাগ।  মাত্র ১২ টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের আর্থিক অগ্রগতি শতভাগ।  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছর মূল এডিপিতে ১৭১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩১৫টি প্রকল্প ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ছিলো।  এর মধ্যে ২৪০টি প্রকল্প সামাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।  অন্যদিকে সমাপ্ত করার জন্য নির্ধারিত ছিলো না এমন ১০৩টি প্রকল্প মন্ত্রণালয়/বিভাগুলো সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।  সবমিলিয়ে ৩৪৬টি প্রকল্প শেষ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ১৬৭টি প্রকল্পের।  অর্থাত্ ১৭৯টি প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ না করেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। 

২০১৬-১৭ অর্থবছরের এডিপির মধ্যে ১২০টি প্রকল্পে বাস্তবায়ন অগ্রগতি শুণ্য।  এসব প্রকল্পে বরাদ্দ ছিলো ৭৫৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।  বেশিরভাগ প্রকল্পে প্রতীকি বরাদ্দ দিয়ে চলমান রাখা হয়েছে।  ১২০টি প্রকল্পে অগ্রগতি শুণ্য হওয়ার কারন ব্যাখ্যা করে আইএমইডি বলেছে, এডিপি সংশোধনের সময় শেষ দিকে নতুন করে প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করায় অনেকগুলোর কাজই শুরু করা যায়নি।  দরপত্র আহ্বানে বিলম্ব ছাড়াও প্রকল্পে ঋণ না পাওয়ায় এগুলো বাস্তাবয়ন শুরু করতে পারেনি।  তাছাড়া অর্থছাড় দেরিতে হওয়া, মামলাজনিত সমস্যা ছাড়াও প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় এসব প্রকল্পে নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে এডিপিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।  আইএমইডি সূত্রে জানা গেছে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শুণ্য অগ্রগতির প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৮টিতে।  এগুলোতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা।  বেশির ভাগ প্রকল্পে প্রতীকি বরাদ্দ দিয়ে চলমান রাখা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে এনইসি।  অর্থবছরের শুরুতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিলো।  প্রতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে কাটঁছাট করে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন করা হয়।  সেসময় আগের অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ চিত্রও তুলে ধরা হয়।  প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতির ২১টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।  সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাই না করে প্রকল্প গ্রহণ, কর্ম ও ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না করা, প্রকল্প তদারকি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সক্ষমতার অভাব, ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প পরিচালকদের দক্ষতার অভাব, বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের মতামত পেতে দেরি এবং প্রকল্প চলাকালে অভ্যন্তরীণ অডিট না হওয়া ইত্যাদি। 

এসব বিষয়ে মঙ্গলবার এনইসি সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী আবারো নির্দেশনা দিয়েছেন।  বিশেষ করে প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রকল্প প্রস্তবান পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।  অপচয় রোধে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  সার্বিক ভাবে গেলো তিন বছরে এডিপি বাস্তবায়ন তিনগুণ বেড়েছে।  এবছর প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এডিপি বাস্তাবয়ন হার আগের চেয়ে ভালো হবে বলেও মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।