২:২০ এএম, ২০ জুন ২০১৮, বুধবার | | ৬ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

প্রলোভনে পরে বাংলাদেশ ছেড়ে

মায়ানমারের রাখাইনে পারি জমাচ্ছে থানচি উপজেলার ৩১ মরমা ও প্রো পরিবার

১৩ মার্চ ২০১৮, ০৩:০১ পিএম | সাদি


রিমন পালিত, বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবান জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থানচি আর এখানে বসবাস করে নানা সম্প্রদায়ের মানুষ।   বেঁচে থাকার একমাএ অবলম্বন জুম চাষ সহ নানা রকম পেশায় জড়িত এই উপজেলার জনসাধারন।  সহজ সরল জীবন যাপন করা এই পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষ গুলোর মধ্যে হঠাৎ করে নেমে আসল  এক ভিন্ন মনোভাব।  দুষ্ট কুচক্রী মহলের বিভিন্ন প্রলোভনে আকৃষ্ট এখন সহজ সরল খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে।  নিজ দেশ আর মাতৃভূমির মায়া ছেড়ে  লোভের প্রলোবনে মায়ানমারে পাড়ি জমিয়েছে থানচি উপজেলার সীমান্তর্বতী এলাকার ৩১ মারমা ও প্রো পরিবার । 

ইউনিয়ন পর্যায়ে জন প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার পাড়াকার্বারী প্রধানদের তথ্য মতে এ পর্যন্ত  ৩১ মারমা ও প্রো পরিবারকে বাংলাদেশ ছেড়ে মায়নমারের রাখাইনে চলে যাওয়াও সত্যতা পাওয়া গেছে ।  চলে যাওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে এক জন এলাকার পাড়াকারবারি প্রধান ও রয়েছে । 

এই বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের নিকট সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন জানান যারা বাংলাদেশের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলের সহজ সরল মানুষদের বিভিন্ন কিছুর প্রলোবন দেখিয়ে নিজ দেশ ছেড়ে ভিন্ন দেশে পাড়ী জমানোর ইন্দন যারা করছে তাদরকে চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর, খুব দ্রুত তাদের ধরার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে এবং রবিবার  জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক মিটিং  এ এই বিষয় সর্ম্পকে সকলে অবগত করা হয়েছে। 

কোন কারন ছাড়া কেন পাহাড়ের সহজ সরল মানুষগুলো নিজ দেশ ছেড়ে ভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে তা খতিয়ে দেখার জন্য থানচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যদের  নির্দেশ প্রদান করেন এবং সইে সাথে সাধারন জনগনকে যাতে আর কোন কুচতক্রী মহল এই অপ প্রচার চালায়ি লোভের প্রলোভনে ফেলতে না পারে সে বিষয়ে সর্তক থাকতে বলেন ।  

২ র্মাচ দুপুরে থানচি উপজেলা সদর থেকে ৮৫ কিলোমিটার রেমাত্রুী ইউনিয়নের পাশে সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের লিত্রুী এলাকায় থোয়াইচিং পাড়ায় গিয়ে সরজমিনে দেখা যায় অন্যদের চলে যাওয়া দেখে আরো দুইটি  পরিবার দেশ ছেড়ে যাওয়ার  প্রস্তুতি হিসাবে মালামাল গোছাচ্চে।  তাদরে মধ্যে পাড়ার কার্বারি থোয়াইচিং মারমাও ছিলেন । 

তিনি বলেন বাংলাদেশ ছেড়ে মিয়ানমারের রাখাইনে গেলে মিয়ানমার সরকার তাদের ঘড়বাড়ি ও জায়গাজমি দিবে, পাঁচ বছরের খাবার বিনাশ্রমে দিবে , কে দিবে আর কে বলেছে এই কথা জানতে চাইলে পারা কার্বারি বলেন তা তিনি বিভিন্ন লোকের কাছে শুনেছেন তাই তারা বাংলাদেশ ছেড়ে মিয়ানমারের রাখানে চলে যাচ্চেন ।  এছাড়া তিনি আর বলেন পাহাড়ী অঞ্চলে জুম চাষ করা খুব কষ্টকর তবুও জুম চাষ করে তারা যা পান তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হয় দাদন দারদের তখন আর নিজের বলে কিছু থাকে না পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটা খুবই কষ্টকর হয়ে যায় তাই তারা নিরুপায় হয়ে দেশ ছাড়ার সিধান্ত নিয়েছে । 

থানচি রেমাক্রী উপজেলার ৯ নং ওয়াডের ইউপি সদস্য বাওয়াই মারমা বলেন থোইচিং পাড়া থেকে নয় পরিবার, উসাথোয়াই  পাড়া থেকে সাত পরিবার , থাইংকোয়াই পাড়া থেকে ছয় পরিবার, বড় মদক থেকে পাড়া থেকে দুই  পরিবার, পুশৈথোয়াই পাড়া থেকে দুই  পরিবার  কংওয়োপুু হ্লাফংপাড়ার পাঁচ  পরিবার  মোট ৩১ পরিবার বাংলাদেশে ছেড়ে মায়ানমারের রাখাইনে পাড়ি জমান ।   
তারা পায়ে হেটে থানচি এবং আলীকমের মধ্যবর্তী রাংরাং পাহাড়ের দিকে চলে যায়।  এই পাহাড়ি পথ দিয়ে পায়ে হেটে রাখাঁইনে যেতে তাদের দুই দিন লাগবে।  সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকা হওয়ায় লিত্রুী এলাকা হয়ে নেীকা ও পায়ে হেটে তাদের সেখানে পেীঁছাত হবে। 

এই বিষয়ে আলীকদম ৫৭ বিজিবির ব্যাটেলিয়াম অধিনায়ক লে: কর্নেল জানান বাংলাদেশ ছেড়ে মায়ানমারের রাখাইনে চলে যাওয়ার খবর তারাও পেয়েছেন এবং পরবর্তিতে কোন কুচত্রুী মহল এই ধরনের গুজব ছড়িয়ে আর কোন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে তার জন্য তারা সদা তৎপর আছেন এই ধরনের কেউ অপ প্রচার চালাচ্ছে তা খবর পাওয়া গেলে তারা সাথে সাথে আইন মুলক ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান ।