৩:৪৩ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪০




সবুজ প্রকৃতির মাঝেই

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে কাটুক আপনার একটুখানি অবসর

১৩ মার্চ ২০১৮, ০৮:২১ পিএম | সাদি


আশরাফুল ইমলাম, চাপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :  প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় হাঁপিয়ে উঠেছেন, একটু অবসর মিলেছে, তবে প্রকৃতির মাঝেই কাটুক না আপনার সেই একটু খানি অবসর।  কোথায় যাবেন ভাবছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মধ্যেই রয়েছে এ রকম বেশ কিছু স্থান।  চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কল্যাণপুর এলাকায় অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টার বা কল্যাণপুর ফার্মে যেতে পারেন।  বাহারি ফুল আর সবুজের সমারহের মাঝে কাটানো কিছুটা সময় আপনার ছকেবাঁধা মনকে কিছুটা হলেও আন্দলিত করবে।  সেসাথে শতশত ফুল ফলের গাছের সাথে পরিচিত হতে পারবেন, এরমাঝে অনেক গুলোই হয়তো আপনার অজানাই রয়েছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের যে কোন স্থান থেকেই সহজেই অল্প সময়ের মধ্যেই যেতে পারবেন হর্টিকালচার সেন্টারে।  প্রধান ফটক পেরিয়েই দীর্ঘ পথ চোখে পড়বে, পথের দুই ধারেই লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল,ঔষধী গাছ শোভা বাড়িয়েছে, পথ চলতে চলতে আপনাকে প্রশান্তি দেবে।  মনে হবে কাব্যের কাল্পনিক পথে হাটছেন।  প্রায় ৬৮.৭২ একর জমি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হর্টিকালচার সেন্টারটি অনেকটায় আম্রকাননে ঘেরা।  একটু এগিয়ে যেতেই বিশাল আম বাগান চোখে পড়বে।  এই আম বাগানেই দর্শক নন্দিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।  এটিকে পিকনিক স্পট হিসেবে অনেকেই পছন্দও করেন। 

হর্টিকালচার সেন্টারটিতে প্রায় ৮৬ প্রজাতির আমের গাছ রয়েছে।  প্রচলিত জাতগুলো ছাড়াও অনেক দূর্লভ জাতও রয়েছে।  এরমধ্যে মিশ্রিকান্ত, দুধিয়া,টিক্কাফরাস, কিষাণভোগ, কুয়াপাহাড়ী, সূর্যপুরী, আলমশাহী,রত্না, গোলাপ খাস, গোলাপ বাস, সফেদা, কহিতুর, আলফানসো, কালিভোগ, কালপাহাড়, নারকেল ফাকী, শাহ পছন্দ, সিন্দুরী, অমৃতভোগ, ত্রিফলা, ভাদুরী, আমন দোসারী, মল্লিকা, দুধসর, শাটিকার কেড়া, কালুয়া, ধলুয়া, দারভাঙ্গা, সরিখাস, রংগিনি, সুবর্ণ রেখা, সূবর্ণা, রঙ্গিন লক্ষণভোগ উল্লেখ্য যোগ্য। 

এছাড়া ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়বে সবজি উৎপাদনের বিভিন্ন প্রদর্শনী প্লট, যা প্রায় ১১ একর, এছাড়াও বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা উৎপাদনের লক্ষে রয়েছে নার্সারী।  নার্সারীর গুলো সবমিলিয়ে প্রায় ১২ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে। 

পথ চলতে চলতে, যেখানেই যাবেন সেখানেই চোখ জুড়াবে বাহারি রংয়ের ফুলের সৌরব।  উপ পরিচালকের কার্যলয়ের সামনে চোখে পড়বে একটি হাতি, মনে করছেন এখানে হাতি আসল আবার কোথা থেকে, একটু এগিয়ে যান, আপনার ভুল ভেঙ্গে যাবে।  হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইফুর রহমান দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের চেষ্টায় কযেকটি গাছ লাগিয়ে এাচকে হাতির রুপ দিয়েছেন।  আর এই হাতি এ ফার্মের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

একটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়বে ঝুলে থাকা ফুল বাসর লতা।  একটু কৌতুহলী চোখে খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন প্রায় ১২ প্রজাতির বাগান বিলাশ ফুলের গাছ, যেগুলো একটির সাথে অন্যটির বৈশিষ্ট্যে অনেক পার্থক্য।  এমনকি বাগান বিলাসের একটি গাছের ফুল সাদা হয়ে ফোটার পার কিছুদিন পর সেটি লালবর্ণ ধারণ করেছে। 

এছাড়াও প্রায় ২৫ প্রজাতির মৌসুমী ফুলও রয়েছে এখানে।  এরমধ্যে হাইব্রিড পিটুনিয়া, গাজানিয়া, ইনকা গাঁদা, ক্যালেন্ডুলা, এ্যন্টিরাইনাম, প্যানজি, স্নাযাপ ড্রাগন, এস্টার, মোরগ জটা শোভা বাড়িয়েছে অনেক। 

এছাড়াও হাটতে হাটতে চোখ যদি এড়িয়ে না যায়, তাহলে তেঁতুল গাছ দেখলে একটা তেঁতুলের স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করতে ভুলবেন না, অনুমতি নিয়েই খাবেন।  তেঁতুলের স্বাদ টক হওয়ার বদলে উল্টো মিষ্টি স্বাদ পাচ্ছেন।  হ্যাঁ এটা মিষ্টি তেঁতুলের জাত। 
ঘুরতে এসে পছন্দের ফুলের, ফলের চারা সংগ্রহের সুযোগ পেলে মন্দ হয় না, চিন্তার কোন কারণ নেই, নির্ধারিত মূল্যে আপনিও কিনে নিয়ে যেতে পারবেন, বিভিন্ন ফুল, ফল, ঔষধী গাছের চারা। 

ঘুরাঘুরির মাঝে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক, হর্টিকালচার সেন্টারটি ১৯৫৬ সালে তদানিন্তন সরকারের কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, পরে ১৯৬৮ সালে বিএডিসি এর কৃষি খামার ও ১৯৭৩ সালে উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যান বেজ রুপে চালু হয়।  ১৯৮২ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খাদ্য শস্য উইং এর আওতাধীন হর্টিকালচার সেন্টারে রুপ লাভ করে। 

হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে গিয়ে এর উপ-পরিচালক ড. সাইফুর রহমান বলেন, বিভিন্ন মাতৃগাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ, গুণগত মান সম্পন্ন বিভিন্ন গাছের চারা, কলম উৎপাদন ও সরকার কতৃক নির্ধারতি মূল্যে বিতরণ করা হয়।  এছাড়াও কৃষি পণ্য উৎপাদনে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের চাহিদা মাফিক সেবা প্রদান করা হয়। 

এছাড়াও প্রতিদিন আমাদের এ সেন্টারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক দর্শনার্থী আসেন, তাদের বিভিন্ন উদ্ভিদ সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে, আমরা তাদেরকে এসব বিষয় সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করি, কেউ কোন চারা নিতে চায়লে তাকে সেটিও সরবারাহ করা হয়।  হর্টিকালচার সেন্টার ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, কয়েকজন হলে আগে না জানালেও চলবে, তবে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী বা দলবদ্ধভাবে কোন প্রতিষ্ঠান যদি আসে তাহলে পূর্বেই আমাদের জানালে ভালো হয়। 

এছাড়াও হাতে সময় থাকলে হর্টিকালচার সেন্টারের মধ্যেই থাকা বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও লাক্ষা গবেষণা কেন্দ্রও ঘুরে দেখে ধারণা নিতে পারেন প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে



keya