১২:১৭ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়েরসভাপতিকে হাইকোর্টের শোকজ

০৮ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:৫৩ পিএম | সাদি


কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম, বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ আলম কবিরকে হাইকোর্টের আদেশে বিদ্যালয়ে পূর্নবহাল করেনি সভাপতি জাকিয়া এলিচ।  হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষা করায় বিদ্যালয় সভাপতি মোসাঃ জাকিয়া এলিচ ও সহকারী শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ শোকজ করেছেন। 

আদালতের বিচারক  মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও কেএম কামরুল কাদের এ আদেশ দিয়েছেন।  ওই আদেশে আরো উল্লেখ আছে প্রধান শিক্ষককে পুর্নবহালের আদেশ পালন না করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না তা জানতে চেয়ে এ বছর ৬ মার্চ রুলনিশি জারি করা হয়।  চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলনিশির জবাব দেয়ার জন্য সভাপতি ও সহকারী শিক্ষককে আদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। 

জানাগেছে, ২০১২ সালের ২৬ নবেম্বর অনিয়মের অভিযোগ এনে এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৎকালিন এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদ ফয়সাল তালুকদার, প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ আলম কবিরকে রবখাস্ত করেন।  সভাপতির বরখাস্ত আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৩ সালের ১৫ মে প্রধান শিক্ষক উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দায়ের করেন। 

আদালত ওইদিনই সভাপতির বরখাস্ত আদেশ স্থাগিত করে প্রধান শিক্ষককে পূর্নবহালের আদেশ দেয়।  উচ্চ আদালতের আদেশে ওই বছর ১৯ মে মোঃ শাহ আলম কবির বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহন করেন।  ওই বছর ২৫ নবেম্বর আদালত এ মামলায় স্থিতিবস্থার আদেশ দেয়।  চার বছর বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।  গত বছর ২ জুন বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাকিয়া এলিচ কোন নোটিশ ছাড়াই সহকারী শিক্ষক মোঃ দেলওয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবিরের এপ্রিল মাসের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন।  ওই থেকে প্রধান শিক্ষকের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। 

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক গত বছরের ৮ জুন হাইকোর্টে দায়েরকৃত ওই মামলার (৪৫৫৪/২০১৩) পুনরায় শুনানী করেন।  শুনানী শেষে আদালত বিদ্যালয় ব্যস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাকিয়া এলিচকে কেন প্রধান শিক্ষককের বেতন ভাতা বন্ধ করা হয়েছে এবং ২০১৩ সালের ২৫ নবেম্বরের স্থিতিবস্থার আদেশ অমান্য করা হয়ছে মর্মে রুলনিশি জারি করেন।  সভাপতি আদালতের এ নোটিশের জবাব দেন।  গত বছর ২৪ অক্টোবর শুনানী শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারক এম মোয়াজ্জেম হোসাইন ও মোঃ সোহরাওয়াদী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ আলম কবিরকে বিদ্যালয়ে পূর্নবহাল করে সকল দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।  চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও সভাপতি জাকিয়া এলিচ ও সহকারী শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ আলম কবিরকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়নি। 

প্রধান শিক্ষক শাহআলম কবির এ বছর ৬ মার্চ হাইকোর্টে সভাপতি ও সহকারী শিক্ষককের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।  আদালতের বিচারক  মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও কেএম কামরুল কাদের প্রধান শিক্ষককে পুর্নবহালের আদেশ পালন না করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুলনিশি জারি করেছেন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলনিশির জবার দেয়ার জন্য সভাপতি ও সহকারী শিক্ষককে আদেশ দেন আদালত। 

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলওয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, উচ্চ আদালতের কোন রায়ের আদেশের চিঠি পাইনি।  আদেশ পেলে কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাকিয়া এলিচ মুঠোফোনে বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি।  এ মামলার জবাব দেয়ার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছি। 

শিক্ষক মোঃ শাহ আলম কবিরের পক্ষের আইনজীবি ব্যারিষ্টার এবিএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করায় সভাপতি জাকিয়া এলিচ ও সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে আদালত অবমাননা মামলায় রুলনিশি জারি করেছে।  তিনি আরও বলেন, ৪ সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দেয়ার জন্য আদালত আদেশ দিয়েছেন। 


keya