১১:৪৪ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


তারাকান্দায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর অনিয়ম সনাক্ত করতে গঠিত তদন্ত টিম নিয়ে সংশয়

০৯ এপ্রিল ২০১৮, ০৮:১৬ পিএম | সাদি


নাজমুল হক, তারাকান্দা প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের ‘‘খাদ্যবান্দব কর্মসূচী’’ সুবিধাভোগী তালিকার অবিলিকৃত ১শ ৪৪ জনের নামের ইস্যু করা কার্ডের মধ্যে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কর্তৃক জালিয়াতির মাধ্যমে তালিকা বহির্ভূত ১শত কার্ড বিতরণ করার অভিযোগ তদন্তে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃক নির্দেশনা ও ২২ সদ্যসের তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে পক্ষপাত তুষ্টতা ও প্রচলিত নিয়মের বত্যয় ঘটেছে বলে উর্ধতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া। 

জানা যায়, গালাগাঁও ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চালের সুবিধা ভোগী তালিকার ২২শত ৬৬ জনের নামে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত কার্ড দু’দফায় ২১শ ২২ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়।  বাকি ১শত ৪৪ জন অনুপস্থিত থাকায় ওই ১শত ৪৪ জনের কার্ড খাদ্য কর্মকর্তা লিখিত ভাবে তার নিজ হেফাজতে রাখেন।  পরবর্তী সময়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন  পরিষদকে না জানিয়ে রক্ষিত কার্ডের মধ্যে ১শত কার্ডে ঘষামাজা করে নাম ঠিকানা মুছে তালিকা বহির্ভূত ভাবে নিজের খেয়াল খুশিমতো  কি কারণে কার্ড বিতরণ করেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা। 

এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী কমিটি ও উপজেলা কমিটির অনুমোদনও  নেওয়া হয়নি।  বাকি ৪৪ জন এখনও ঝুলে আছে।  ভয়ঙ্কর এ জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া তার কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করলে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ময়মনসিংহ গত ৪ এপ্রিল ১৮ স্মারক নং ১৩.০১.৬১০০.০০২.৫৭.২৯২.১৭.৬২০(৩০) মর্মে ২২ সদস্যের কর্মকর্তা ও কর্মচারী গনের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে সমুদয় তালিকা যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশ দেন।  চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া এ চিঠি প্রাপ্ত হয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে এক অভিযোগে বলেন, তার অভিযোগ ১শত ৪৪ কার্ডের।  তার মধ্যে ১শ টি কার্ডে খাদ্য কর্মকর্তার জালিয়াতির বিরুদ্ধে, সমুদয় তালিকা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। 

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত আড়াল করে সমদুয় তালিকা তদন্তের নামে অভিযুক্ত খাদ্য কর্মকর্তা রুবাইদুর রানাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অব্যহতির নামান্তর বলে বর্ণনা করেছেন।  তিনি বলেন ২২ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে একই পদবী ধারীর ৫ জন জুনিয়র খাদ্য কর্মকর্তা বাকি ১৭ জন কর্মচারি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিনি প্রচলিত নিয়মের বত্যয় ঘটেছে বলে উলে­খ্য করেন। 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারমিন সুলতানা স্মারক নং ০৫.৩০.৬১৮৮.০০৬.৩৭.৩০.১৫-২০৯ তারিখ: ৩/৪/১৮ মর্মে সূত্র বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর মর্মে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ইস্যূকৃত কার্ডের মধ্যে ভুয়া নামধারী, স্বচ্ছল ও বিত্ববানদের অনুক‚লে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে তদন্তের জন্য  উপজেলা কৃষি অফিসার সালাউদ্দিন কায়সারকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে সরজমিন তদন্তে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  বিজ্ঞ মহল আশংকা করেছেন অবিলম্বে বিষয়টি সুরাহা না হলে সব সুবিধা ভোগীরা চলতি মাসে চাল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।