১২:৫৪ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রোববার | | ১২ মুহররম ১৪৪০


নওগাঁয় অভিনব কায়দায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:০৪ পিএম | নকিব


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদরে মেসার্স মোস্তাফিজুর ট্রেডার্সে টাকা চুরির অপবাদে গোলাম রাব্বানি নামে যুবককে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে।  ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে গোলাম রাব্বানির দুলাভাই রেজাউল করমিকে কৌশলে আটকিয়ে রেখে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর, ধান ও কীটনাশকসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকা আদায় করেছেন মেসার্স মোস্তাফিজুর ট্রেডার্সের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান। 

এ ঘটনায় রেজাউল করিম বাদী হয়ে সাতজনকে আসামী করে জেলার পোরশা থানায় মামলা দায়ের করেন।  এই মামলার আসামীকে গোলাম মর্তুজা গোলাপকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  গোলাম রাব্বানি জেলার পোরশা উপজেলার নিস্কিনপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে এবং রেজাউল করিম ধান ও কীটনাশকের ব্যবসায়ী ও একই গ্রামে বাড়ি।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২/০২/১৮ ইং দুপুর ১২টার দিকে মেসার্স মোস্তাফিজুর ট্রেডার্স থেকে গোলাম রাব্বানি ৫লাখ টাকা চুরি করে। 

এরপর তাকে সাপাহার বণিক সমিতিকে আটক রেখে তার বাবা আব্দুল লতিফ, বড় ভাই জলিলকে মোবাইলে ঘটনাস্থলে আসতে বলা হয়।  সেদিনই সেখানে এক সালিশে জরিমানা স্বরুপ ১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ও একটি মোটর সাইকেল যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা সাপাহার বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদকে দেয়া হয়।  বাঁকী টাকা ৮দিন পর দেয়া হবে বলে সময় নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। 

গত ১৩/০২/১৮ ইং সন্ধ্যায় মোবাইলে গোলাম মর্তুজা গোলাপ সাপাহার বণিক সমিতিতে বাদীকে ডেকে নেয়।  এসময় আসামি গোলাম মর্তুজা গোলাপ, মোস্তাফিজুর রহমান, শামসুল আলম, জিয়াউর রহমান, ফজলু রহমান, মিজানুর রহমান, কামরুজ্জামান, বাবুল সহ আরো কয়েকজন মারপিট করে এবং বিদ্যুতের শক দেয়।  অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং খুন ও গুম করার হুমকি দেয়া হয়।  এছাড়া শ্যালক গোলাম রাব্বানির টাকা চুরি অপরাধে ৩০ লাখ টাকা দাবী করা হয়। 

বাদী টাকা দিতে অস্বীকার করায় আসামীগণ জোর পূর্বক ১০০ টাকা মূল্যে ৬টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নয়।  এছাড়া নিতপুর শাখার অগ্রণী ব্যাংক হিসাবের ছয়টি ফাঁকা চেকে কেড়ে নেয়া হয় এবং একটিতে স্বাক্ষর করে নেয়া হয়। 

১৪/০২/১৮ ইং সকাল ১০টায় বাদীর শ্যালক আব্দুল জলিলকে বণিক সমিতিতে ডেকে নেয়া হয়।  এরপর তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাদীর এলাকা বানমোহন বাজারে বাদীর ধানের আড়ৎ ঘর থেকে প্রায় ২ হাজার ২১৬ মন ধান লুট করা হয়।  যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৮০ টাকা।  এছাড়া কীটনাশকের দোকান থেকে ৬ লাখ টাকার কীটনাশক লুট করা হয়।  মোট ২৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪৮০ টাকা মূল্যে মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।  ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুজনকে বণিক সমিতি থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। 


ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, ঘটনার পর চিকিৎসা করে কিছুটা সুস্থ হলে আসামীরা আপোষ মিমাংসা করবে বলে সময় ক্ষেপন করে।  অবশেষে পোরশা থানায় ৩১/০৩/১৮ ইং তারিখে এজাহার করিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শ করেন।  গত ০৩/০৪/১৮ ইং তারিখে পুলিশ একজন আসামী আটক করলেও রহস্যজনক কারণে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। 

সাপাহার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল মোস্তাফিজুরের দোকান থেকে গত ৪/৫ মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা চুরি করে।  সর্বশেষ চুরির দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লে সে সকল চুরির কথা স্বীকার করে সে ও তার দুলাভাই রেজাউল করিমের উপস্থিতিতে স্বেচ্ছায় ৩০ লাখ টাকা দিয়ে উপস্থিত সকল বিচারকের নিকট ক্ষমা চায়।  চুক্তির কিছু টাকা বাঁকী রেখেছিল এই টাকা না দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। 

মামলার বাদী রেজাউল করিমের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, পুলিশ এক আসামীকে আটক ছেড়ে দিয়েছে।  রহস্যজনক কারনে পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করছেনা বলেও জানান তিনি। 

পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আসামী আটক করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা সঠিক নয়।  মামলার সকল আসামী পলাতক রয়েছে।  তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 


keya