৫:৪৮ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

৬ বছরেও খোঁজ মেলেনি বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০১:১০ পিএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : ছয় বছরেও খোঁজ মেলেনি বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম. ইলিয়াস আলীর।  নিখোঁজ রয়েছেন গাড়িচালক আনসার আলীরও। 

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি এম. ইলিয়াস আলী। 

ইলিয়াসের মায়ের মতোই ছেলের ফেরার অপেক্ষায় আছেন নিখোঁজ গাড়ি চালক আনসার আলীর মা।  এখনো তাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি স্ত্রী ও সন্তান। 

এদিকে, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথমদিকে ইলিয়াসকে উদ্ধারের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও দীর্ঘ ছয় বছরেও তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি তারা।  থেমে গেছে ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে প্রশাসনের তৎপরতাও। 

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার।  তিনি জানান, অপেক্ষার অনিশ্চয়তা নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন তারা।  ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে নতুন কোনো তথ্য নেই।  নিখোঁজের পর পুলিশ তো মামলা নেয়নি।  বনানী থানায় একটি জিডি করেছিলেন।  সে জিডির ভিত্তিতে তেমন কোনো অনুসন্ধান চালানো হয়নি।  এখনো জানি না পুলিশের অগ্রগতি কী? হাইকোর্টে রিট দায়েরের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে জানাতে একটি নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত।  কয়েক মাস পর সে নির্দেশ আর রক্ষা করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  এক সময় নানা গুঞ্জন-গুজব শোনা যেত।  এখন সেসবও বন্ধ হয়ে গেছে।  তবুও আমি শেষদিন পর্যন্ত বিশ্বাস রাখতে চাই ইলিয়াস একদিন ফিরে আসবে।  তার এলাকার মানুষও এটাই বিশ্বাস করে। 

লুনা জানান, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সিলেটের লোকজন রাস্তায় নেমে এসে প্রাণবিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেনি।  এ ঘটনায় উল্টো বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীসহ অন্তত ১২ হাজার এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর থানায় করা হয়েছিল ৪টি মামলা।  সেগুলো এখন বিচারাধীন। 

ইলিয়াস আলী ফিরে না এলেও মামলার ঘানি টানছেন সিলেটের হাজার হাজার মানুষ।  পারিবারিক জীবনেও তারা কাটাচ্ছেন আর্থিকভাবে দুঃসময়।  আইনগত জটিলতার কারণে ইলিয়াস আলীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ।  আইনজীবীরা জানিয়েছেন গুমের সাত বছর না পেরুলে অ্যাকাউন্টগুলোতে লেনদেন করতে পারবেন না পরিবারের সদস্যরা।  ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি ও পারিবারিক টুকটাক ব্যবসার আয় দিয়েই সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ করছেন।  ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য ঋণ করেছেন বাধ্য হয়ে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya