১০:২২ এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | | ৯ সফর ১৪৪০


‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাংলার মুক্তিকামী জনতার প্রজ্ঞার ফসল’

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০৪:৪৫ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : যথাযোগ্য মর্যাদায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ১৭ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপিত হয়েছে।  সকাল ১০ টায় চ.বি. বঙ্গবন্ধু চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার সহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহাকালের মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  এরপর চ.বি. বঙ্গবন্ধু পরিষদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

পুস্পমাল্য অর্পণ শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মাননীয় উপাচার্য জাতীয় পতাকা এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন।  সকাল ১০.৩০ টায় উপাচার্য দপ্তরের সভা কক্ষে ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  আলোচনা সভায় মাননীয় উপাচার্য প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন। 

মাননীয় উপাচার্য তাঁর ভাষণে স্বাধীনতার মহানায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ত্রিশলক্ষ শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সম্ভ্রম হারানো দু’লক্ষ কন্যা-জায়া-জননীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।  তিনি বলেন, বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য-সম্মোহনী নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রাম-আন্দোলন, বাংলার মুক্তিকামী জনতার আত্মত্যাগ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথ তলায় জাতির জনকের নামে নামকরণকৃত ‘মুজিবনগর সরকারের’ শপথ গ্রহণ বাঙালির রাজনৈতিক দূরদর্শীতা, প্রজ্ঞা-স্বদেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় ইতিহাস বহন করে। 

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী তখন অকুতোভয় জাতীয় চারনেতার বলিষ্ট নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদায় গঠিত এ ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্র মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন প্রেরণা যুগিয়েছে তেমনি এ জনযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ বিশ্ববাসীর কাছে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।  এ প্রসংগে মাননীয় উপাচার্য বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহিয়ষী নারী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাঁর অকুন্ঠ সমর্থন ও আন্তরিকতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। 

মাননীয় উপাচার্য প্রজন্মের সন্তানদের ইতিহাসের সত্য সঠিকভাবে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিবেদিত হওয়ার আহবান জানান।   

চ.বি. মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার-এর সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় অনুষদসমূহের ডিন, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), হলসমূহের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি এবং ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য) জনাব মো. ফরহাদ হোসেন খান।  আলোচনা সভার শুরুতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।