৫:৪৯ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

সিরাজদিখানে প্রায় পোনে ২০০বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০৪:০১ পিএম | সাদি


আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) : বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব।  নতুন বর্ষ বরণের পাশাপাশি উৎসবকে পরিপূর্ণ করতে প্রতি বছরের নেয় সিরাজদিখানে প্রায় পোনে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা বসেছে।  পহেলা বৈশাখ কে কেন্দ্র করে উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের বড়পাউলদিয়া উদায়ন মাঠে বসেছে এই মেলা । 

শনিবার শুরু হয়ে  মঙ্গলবার শেষ হয়।  বৈশাখী মেলার প্রচলন শুরু হয়েছে গ্রাম থেকেই।  মেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি হয়।  নানান গ্রামীণ পণ্যের পসরা বসেছে এই মেলায়।  উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কুটির শিল্পীরা নিয়ে এসেছেন নানান পণ্য।   বেতের তৈরি চালুনি, তৈজসপত্র, মাটির তৈরি পুতুল, মাটির তৈরি খেলনা, ফুলদানি, তালপাখা, টব, হাঁড়ি-পাতিল, কাঠ-বাঁশ-বেতের তৈরি আসবাবপত্র, হাতপাখা, ঝাড়ু , কুলা, শীতলপাটি, মুড়ি-মুড়কি, নাড়ু, গাছের চারা, দা-বটি, বৈশাখী ফলসহ সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে মেলায়। 

খাবার, খই-বাতাসা, হাওয়াই মিঠাই, মুর্কী মুরি, মিষ্টি, মাটির পুতুল ফলমূল, শাকসবজি, কাপড়, রঙিন চুড়ি, খেলনা- সবই নিয়ে মেলায় দোকান বসেছে।  নাগরদোলার আকর্ষণই ছিলো আলাদা।  গ্রামের মানুষগুলো বছরের শুরুতে দৈনন্দিন প্রয়োজনের জিনিসপত্র কিনতো মেলা থেকেই।  সেই সঙ্গে চলতো হৈচৈ-আনন্দ।  বৈশাখী মেলা তাদের জন্য ছিলো একটা মিলনমেলাও।  সারা বছর যে মানুষগুলো দিন-রাত পরিশ্রম করে, মেলা তাদের জন্য ছিলো অনাবিল আনন্দের। 

উপজেলা পাল বাড়ীর মৃৎশিল্পী স্বপন পাল বলেন, পহেলা বৈশাখী ঝরের কারনে বিক্রি কম হয়েছে ।  মেলার জন্য মাটির হাড়ি পাতিল বানিয়েছি মেলায় যদি সব বিক্রি না করতে পারি তবে যে কি হবে?

মেলা পরিচালনা কমীটির সদস্য মো.বাবুল বেপারী বলেন , শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বৈশাখী মেলা ।  মেলাকে ঘিরে কোনো রকম অপ্রিতিকর ঘটনা না করতে পারে সে জন্য গ্রাম পুলিশ ও বলান্টিয়ার আছে ।  মেলার আমেজে প্রাণের উৎসবে মেতেছে সিরাজদিখানবাসী।  মেলা যাতে সার্থক ও সুন্দর হয়, সেই বিষয়ে সবার সহায়তা কামনা করছি। 

Abu-Dhabi


21-February

keya