৯:২৬ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


ঝালকাঠির গর্না হত্যা মামলার ৫ মাস পর শ্বশুর মিল্টন আকন কারাগারে

১৪ মে ২০১৮, ০৫:২৭ পিএম | জাহিদ


মো.রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি এলাকার আসলাম ফরাজীর মেয়ে সুমাইয়া ফরাজী গর্নার হত্যা মামলার আসামী গর্নার শ্বশুর ব্যবসায়ী মিল্টন আকঁন শ্রীঘরে ৫ মাস ১০ দিন পালিয়ে থাকার পর রবিবার স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। 

ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ.এম. কবির হোসেন তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।  এ হত্যা মামলার প্রধান আসামী মাইনুল ইসলাম হিমু ঘটনার পরপরই বন্ধী হয়ে জেলা কারাগারে আছে।  গত বছরের ০৩ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে পরিকল্পিত উপায়ে সুমাইয়া ফরাজী গর্নাকে পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে। 

উল্লেখ্য, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের বি.এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুরাইয়া ইয়াসমিন গর্নাকে শ্বাসরোধ করে ৩ ডিসেম্বর বিকেলে হত্যা করে তার স্বামী মাইনুল ইসলাম আকন হিমু।   হিমুকে ৪ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।  মাইনুল ইসলাম আকন প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।  পরে স্ত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে নাটক সাজানোর চেষ্টা করে এবং নিজেও বিষপানের অভিনয় করে।  পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসল ঘটনা প্রকাশ পায়। 

এ ঘটনায় নিহত সুরাইয়ার বাবা আসলাম ফরাজী বাদী হয়ে ৪ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা করেন।  মামলায় স্বামী মাইনুল ইসলাম আকন হিমু(২৫), শ্বশুর মিল্টন আকন(৫০), শাশুড়ি আয়শা বেগম (৪২) ও মুড়ির মিলের ম্যানেজার মো. মাহফুজকে আসামি করা হয়। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রেম করে দুই বছর আগে দুই পরিবারের সম্মতি ছাড়াই শহরের কাঠপট্টি সড়কের মিল্টন আকনের ছেলে মাইনুল ইসলাম আকন হিমু একই এলাকার আসলাম ফরাজীর মেয়ে সুরাইয়া ইয়াসমিনকে বিয়ে করে।  বিয়ের পর থেকে ছেলের পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি।  এ নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। 

রোববার হিমু আকনের বাবা মিল্টন আকনের মুড়ির মিলের দোতলার একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে ঝগড়া করেন ওই দম্পতি।  একপর্যায়ে নিজ স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেন।  বিকেলে হিমু মোবাইল ফোনে সুরাইয়ার মামা তরিকুল ইসলাম রাজুকে জানায় সুরাইয়া বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।  আত্মহত্যার ঘটনা প্রমাণ করার জন্য সুরাইয়ার মুখে বিষ দেয় এবং নিজেও বিষ মুখে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।  খবর পেয়ে সুরাইয়ার মামা লোকজন নিয়ে সুরাইয়াকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।  সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরাইয়াকে মৃত ঘোষণা করে এবং স্বামী হিমুকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। 

সোমবার সকালে হিমুকে বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় থেকে রিলিজ করা হলে ঝালকাঠি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে গ্রেফতার করে। সেখান থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ হিমুকে গ্রেফতার করে।  হিমুর পিতা মিল্টন আকন ঘটনার পর থেকে ৫ মাস ১০ দিন পলাতক থেকে রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে।  অপর আসামী গর্নার শাশুড়ি আয়শা বেগম (৪২) ও মুড়ির মিলের ম্যানেজার মো. মাহফুজ এখনও পলাতক রয়েছে। 

গর্নার বাবা আসলাম ফরাজী থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, তার মেয়েকে তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে পরিকল্পিতভাবে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে হত্যা করেছে।