৭:৩৫ এএম, ২৫ মে ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ রমজান ১৪৩৯

South Asian College

টেংরাগিরিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন

১৫ মে ২০১৮, ০৭:০৩ পিএম | সাদি


কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম, বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের দাবীতে টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটি মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বরগুনা প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এতদ্অঞ্চলে কর্মরত ১৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ সর্বস্তরের গণমানুষের সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন । 

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুর রব ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুথরঞ্জন শীল, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরগুনা জেলা কমিটির সভাপতি ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বরগুনার এরিয়া ম্যানেজার মোঃ আনিসুর রহমান, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরগুনা জেলা কমিটির সহসভাপতি জাফর হোসেন হাওলাদার, জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব সাংবাদিক মুশফিক আরিফ প্রমূখ। 

সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সচেতন নাগরিক কমিটির বরগুনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল। 

টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।  অবিলম্বে এ উদ্যোগ বাতিল না করলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে। 

সচেতন নাগরিক কমিটি বরগুনার সভাপতি আলহাজ্ব আবদুর রব ফকির বলেন, ০৯ মে বরগুনার সনাক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহবান বিষয়ক নেটওয়ার্কিং সভা, উক্ত সভায় বরগুনায় কার্যপরিচালনাকারী ১৫টি এনজিও অংশ নেয় এবং সকলে সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রথমে সরেজমিনে পরিদর্শণ করে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এবং তথ্য সত্য হলে এর ক্ষতির দিক নিয়ে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে উক্ত প্রাণ ও প্রতিবেশ বিধ্বংসী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।  

উক্ত সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত ১২ মে সনাকের পক্ষ থেকে জয়ালভাঙ্গা বা ফাড়ির খাল সরেজমিনে পরিদর্শণ করা হয়, স্থানটি ঠিক পায়রা নদীর পাড়ে যা মূল নদী হতে মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে স্থাপিত হচ্ছে কেন্দ্রটি।   যে স্থানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন হবে সেই স্থানসহ তার আশেপাশে সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে।  যতদূর দেখা গেছে অনেকগুলো সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।  আমরা স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলেছি তারা কেউই চাননা এই স্থানে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হোক তারা বলেন যে উন্নয়ন আমদের কর্মহীন করবে ও গৃহহীন করবে সেই উন্নয়ন আমাদের দরকার নেই।  ঐ এলাকার ৮০ ভাগ মানুষ নদী ও মাছের উপর নির্ভর করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বরগুনার এরিয়া ম্যানেজার মোঃ আনিসুর রহমান মানববন্ধনে জানান, ২০১০ সালের অক্টোবরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় টেংরাগিরি বনাঞ্চলকে বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে।  প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা টেংরাগিরি বনাঞ্চল অতীতে সুন্দরবনের অংশ ছিল।  ১৯৬০ সালে টেংরাগিরি বা ফাতরার বনকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।  গেওয়া, জাম, ধুন্দুল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, গরান প্রভৃতি গাছের সমারোহ ছাড়াও এ বনে বসত গড়েছে কাঁঠবিড়ালি, বানরসহ প্রায় ৪০ প্রজাতির প্রাণি।  ইতিমধ্যে টেংরাগিরি বনের গাছ কেটে উজার করছে বনদস্যুরা।  এছাড়া, জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন বৃক্ষ মারা যাওয়ায় এমনিতেই বনটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে। 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে জানান, সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে পরিচিত সংরক্ষিত টেংরাগিরি বন থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ৩০৭ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ও বিদেশি দুটি প্রতিষ্ঠান।  এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতিমধ্যে ২৫ বছর মেয়াদী পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) করেছে।  অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ধারা অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণীভুক্ত যেকোনো শিল্প স্থাপনে পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) সাপেক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘পরিবেশ ছাড়পত্র’ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা ছাড়াই এই কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এদিকে তালতলীর টেংরাগিরি এলাকায় কয়লা ভিত্তিকবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান বন্ধের দাবীতে সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে এলাকাবাসী।   জয়ালভাঙ্গা, তেতুলবাড়িয়া, খোট্টারচর, নলবুনিয়া ও নিদ্রারচর এলাকার নর-নারী এই মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নেয়। 

Abu-Dhabi


21-February

keya