৪:৩৫ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে ছাত্রলীগের খসড়া কমিটি মূল্যায়ন হতে পারে ঢাকা কলেজ

১৭ মে ২০১৮, ০১:২৫ পিএম | জাহিদ


সাকলাইন শুভ, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরবর্তী নেতৃত্ব কারা আসছেন এটিই এখন রাজনীতির টেবিলে আলোচনার প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  অন্তত গত এক সপ্তাহজুড়ে বিষয়টি চলমান রাজনীতিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

কমিটির খসড়া ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নীতিনির্ধারকেরা।  প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই চূড়ান্ত করবেন মূল নেতৃত্ব।  এর পরপরই কমিটি ঘোষণা করা হবে। 

ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মলন হয়ে গেলো ১১ ও ১২ মে।  ছাত্রলীগের তৃণমূলসহ নীতি নির্ধারকেরা ধরেই নিয়েছিল ১২ তারিখেই জানা যাবে মূল নেতৃত্বে তথা সভাপতি ও সম্পাদক কারা হচ্ছেন তাদের নাম।  কিন্তু সম্মেলনের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন জানান কমিটি ঘোষণায়ে দু’এক দিন সময় লাগবে। 

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরবর্তী নেতৃত্বে কারা আসছেন সেই খসড়া কমিটি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে।  সেটি এখন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার টেবিলে।  খসড়া অবস্থায় থাকা এ কমিটি যে কোনো সময় পেতে পারে পূর্ণাঙ্গ রূপ।  যেকোনো সময় আসতে পারে ঘোষণা।  আর সেদিকে তাকিয়ে আছে পদপ্রত্যশীসহ লাখো নেতাকর্মী। 

এবারের সম্মেলন ছিল চমকে ঠাসা।  সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ ছিল নেতৃত্ব নির্বাচনের বয়সসীমা ও কমিটি গঠন প্রক্রিয়া।  কীভাবে নতুন কমিটি গঠন হবে সে ব্যাপারে নেতা-কর্মীরা আগেভাগে নিশ্চিত হয়ে গেলেও বয়সসীমা কত হবে তা নিয়ে ছিল জোর আলোচনা।  অন্যান্য সম্মেলন চলাকলে পরবর্তী নেতা কে হবেন তা আগেই ঠিক হয়ে যেতো।  কিন্তু এবারের সম্মেলন ছিল ব্যাক্তিক্রম।  কারা নেতৃত্ব আসছে সেটি নিয়ে নেতাকর্মীদের জল্পনা ছিল, কিন্তু কেউ নিশ্চিত হতে পারছিল না।  ছাত্রলীগের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটগুলো থেকেও কাউকে গ্রিণ সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছিল না।  এর কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। 

১১ মে প্রধানমন্ত্রী বিদায়ী কমিটি ও সাবেক নেতাদের ডেকে বলে দেন, ‘কাউন্সিলরদের খেয়ে চলে যেতে বলো।  কমিটি আমি নিজে করবো। ’ এমন ঘোষণার পর সবাই নিশ্চিত হয়ে যায়, সেদিন আর হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা।  যারা এতোদিন গর্ব করে বলছেন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব আমি ঠিক করি সেই সিন্ডিকেট পিছপা হয়ে যায় যখন প্রধানমন্ত্রী বলে দেন যে, ছাত্রলীগে তার পছন্দ নেতৃত্ব আছে।  পদপ্রত্যাশীদের সিভি ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দেখে তিনি মনে মনে ঠিক করে রেখেছেন।  তখন সবাই প্রধানমন্ত্রীর উপরই মূল নেতৃত্ব বাছাইয়ের ভার দেন।  সবাই একবাক্যে বলেন, ‘আপা আপনার পছন্দ আমাদের পছন্দ’। 

সম্মেলন শেষে মূল নেতৃত্ব নিয়ে লবিং তদবির শো ডাউনে কিছুটা ভাটা পড়লে আলোচনার টেবিলজুড়ে প্রাধান্য পাচ্ছে কারা হচ্ছেন সভাপতি ও সম্পাদক।  সবাই চেয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায়। 

সম্মেলনের আগেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, এবার ছাত্রলীগের কমিটিতে চমক আসছে।  সেটি আরও জোরালো হয় যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি বলে দিলেন ছাত্রলীগে তার পছন্দের নেতৃত্ব আছে। 

সম্মেলনের উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছে তা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন জনের নাম।  বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনকে নিয়ে হয়েছে আলোচনা হয়েছে।  সম্মেলনের দিনভরও বিভিন্ন জন আলোচনায় ছিলেন।  আলোচিত পদ প্রত্যাশীরা যতোটা না সরব ছিলেন তার চেয়ে বেশি সরব ছিলেন তাদের সমর্থকরা।  বরাবরের মতো আঞ্চলিকতা ভেদে কিছু অলিখিত প্যানেলও সাজিয়ে ফেলেছিলেন অনেকে। 

ছাত্রলীগে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব পছন্দ আছে- এমন কথা ঘোষিত হওয়ার পর কে বা কারা সেই পছন্দের প্রার্থী তা নিয়েই চলছে জল্পনা কল্পনা।  বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের নাম ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বাতাসে।  তবে সেসব নামের গ্রহণ যোগ্যতা অদৌ কতোটুকু বা প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার কাছে এই নামগুলোর অদৌ গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। 

তবে অনলাইনের অনুসন্ধানে এমন কিছু নাম বেরিয়ে এসেছে যেগুলো নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় জোরালোভাবে স্থান পাচ্ছে।  জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই দুটি শীর্ষ পদ ঠিক করে দেবেন।  বাকিটা বিদায়ী কমিটি ও নতুন কমিটির উপর ছেড়ে দেবে। 

সম্মেলনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগে মূল নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে একটি নাম ঘুরেফিরে আসছে।  চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সফল সাধারন সম্পাদক মেধাবী ছাত্রনেতা সাকিব হাসান সুইমের মূল্যায়ন চাচ্ছে তৃনমূল ছাত্রলীগ সহ সাবেক ছাত্রলীগের নেত্রীবৃন্দ। 

জামাত বিএনপির আতঙ্ক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের স্লোগান মাষ্ঠার খ্যাত সাকিব হাসান সুইম ৫ই জানুয়ারী উত্তপ্ত রাজপথে সাহসী ভূমিকায় ছিলেন।  হরতাল,অবরোধ,খালেদা জিয়ার রায়,সরকার বিরোধী যেকোন আন্দোলন এবং সম্প্রতি কোটা সংস্কার বিরোধী আন্দোলনে কঠোর ভূমিকায় ছিলেন এই ছাত্রনেতা।  ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক থাকা কালীন সময়ে কলেজ থেকে ছাত্রদল ও শিবিরকে বিতাড়িত করে ঢাকা কলেজকে করেছিলো ছাত্রলীগের লীগের দূর্গ।  কর্মী থেকে নেতা বানানোর কারিগর এই ছাত্রনেতার হাতে গড়া অনেক কর্মীই আজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে বলে যানা যায়।  ঢাকা কলেজে অধ্যায়নকালীন সময়ে প্রত্যেকটি ঈদ তিনি পালন করেছেন পথশিশুদের সাথে।  নিজে নতুন পোষাক না পড়েও বস্ত্রহারা শিশুদের ঈদকে আনন্দময় করার লক্ষ্যে কিনে দিতেন নতুন পোষাক। 

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, পল্লব সুইম কমিটি ছিলো ঢাকা কলেজের ইতিহাসের সেরা কমিটি।  প্রত্যেকটি ছাত্রকে নিজের ভাইয়ের মত করেই স্নেহ ভালোবাসা এবং শাষন করতেন মেধাবী এই ছাত্রনেতা।  সকলের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি।  বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে ঢাকা কলেজের মেধাবী ছাত্রনেতা সুইমকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চাচ্ছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ছাত্রলীগের তৃনমূলের নেতা কর্মীরা এমনটাই জানালেন ঢাকা কলেজের সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য অাবু হানিফ সহ অনেকে। 

তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, কোন প্রতিষ্ঠান দেখে নয়।  এবারের কাউন্সিলে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।  পদপ্রত্যাশী সব নেতাদের মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মী বান্ধব হয়ে যোগ্যতার ছাপ রাখতে পারলে জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন।  প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সহ ছয় জনকে দায়িত্ব দিয়েছেন।  আর নেতা নির্বাচন করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। 

সাবেক ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এইচ পল্লব বলেন- যেহেতু নেত্রী যোগ্যতার ভিত্তিতে নিজে হাতে কমিটি দিবে, সেখানে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ জননেত্রীর সবসময়  বিশ্বস্ত ভ্যানগাড হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট উপাধি অর্জন করেছে, সে কারনেই আমরা ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ জননেত্রী সেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।  এবং অাসা নয় বিশ্বাস রাখি সব মিলিয়ে সুইমের কোন বিকল্প নাই।