৩:০৮ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | | ৯ সফর ১৪৪০


যৌতুকের দাবীতে ও নির্যাতনে ইয়াসমিন আজ ঘর ছাড়া

১৭ মে ২০১৮, ১০:৩৮ এএম | জাহিদ


মো. তোফাজ্জল হায়দার, দিনাজপুর প্রতিনিধি : পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ থানার নগড় মাদেখা গ্রামের ভুল্লিপাড়ার ইউনুস আলীর কন্যা ইয়াসমিন বেগম (২২) তার সংঙ্গে গত ২৮ই এপ্রিল ২০১৩ সালে বা প্রায় ৬ বছর পূর্বে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার মিরাটুংগী গ্রামের নজর আলীর ছেলে ফরিদুল ইসলামের বিয়ে হয়। 

তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান  জন্মগ্রহন করে তার নামঃ ইয়াসিন বয়স ২ বছর ৬ মাস প্রায়।  সংসার করা অবস্থায় ফরিদুল ইসলাম প্রায় ২/৩ বছর যেতে না যেতে গরুর ব্যবসা করার কথা বলে আবারও ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে।  ইয়াসমিন তার স্বামী ফরিদুলকে বলে আমার বাবা একজন গরীব খেটে খাওয়া মানুষ তার পক্ষে এই সময় এত টাকা দেওয়া সম্ভব না তখন থেকেই ফরিদুলের বাবা নজর আলী, মা ফুলমতি তাদের যোগ সাজসে ফরিদুল ও তার পরিবারের লোকজন ইয়াসমিনের উপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন শুরু করে। 

ইতি পূর্বে বেশ কয়েক বার গ্রাম্যভাবে শালিস মিমাংসা হলেও আবারও শুরু হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন খাওয়া দাওয়া না দিয়ে ২/৩ দিন ঘরের মধ্যে তালা বদ্ধ করে রাখে এবং বার বার যৌতুকের টাকা দাবী করে বলে টাকা না দিলে ঘরের মধ্যে না খাওয়াইয়া জীবনে তরে মারিয়া ফেলমু।  ফরিদুলের বাসার আসে পাশের লোকজন ঘটনা দেখে ইয়াসমিনের বাবাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খবর দিলে ইউনুস আলী ও তার স্ত্রী এবং প্রতিবেশিদের নিয়ে ইয়াসমিনের ভালোমন্দ খোজ খবর করিতে গেলে ফরিদুল ও তার পরিবার চরমভাবে অপমান অপদস্ত করিয়া বলে ষ্ট্যাম্পে সই দিয়া আপনি আপনার মেয়েকে নিয়ে যান, তখন ইয়াসমিনের বাবা ও মা উপায় অন্তর না পাইয়া ২১-০৮-২০১৭ ইং তারিখে বীরগঞ্জ সদর থানায় সহায়তায় ইয়াসমিনকে উদ্ধার করিয়া গুরুত্বর জখম অবস্থায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে সুচিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। 

ইয়াসমিন শরীরের ক্ষত চিহ্ন সুস্থ হতে না হতেই ফরিদুল তার ইউনিয়ন পরিষদে স্ত্রী উদ্ধার ও টাকা চুরির মামলা করে।  ঐ এলাকার চেয়ারম্যান মামলাটি আবার দেবীগঞ্জ থানার বাগদহ ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করে ফরিদুল ও তার পরিবারের লোকজন মামলাটির সত্যতা প্রমাণিত করতে ব্যর্থ হয় এবং এক পর্যায়ে ফরিদুলের পরিবার ও ইয়াসমিনের পরিবার পরিষদে সিদ্ধান্ত নেয় যে মোহর আনার ও খরখোসের টাকা ফেরত দিয়ে ইয়াসমিনকে খোলা তালাক দেওয়া হবে এবং পরিষদের মাধ্যমে একটি তারিখ দেওয়া হয়। 

পর পর ৩ তারিখ ফরিদুল উপস্থিত না হওয়ায় এবং নোটিশের কোন উত্তর না দেওয়ায় মামলাটির নিস্পত্তি হয়নি, পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব কোর্টে মামলা করার কথা বলেন কিন্তু ইয়াসমিনের বাবা মামলার খরচের টাকা যোগার করতে না পারায় সে আর মামলা করতে পারেনি ।  সপ্তাহ খানেক আগে ফরিদুলের বড় বউ ইয়াসমিনের অনুমতি ছাড়াই আর একটি বিয়ে করে বউ নিয়ে আসে ফরিদুল।  এই খবরটি ইয়াসমিন ও তার পরিবার জানতে পারলে ১৫ই মে মঙ্গলবার পঞ্চগড় কোর্টে একটি যৌতুুক মামলা করে বলে জানা যায়। 


keya