৮:৩৮ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


নবীগঞ্জে প্রার্থীর চাপ আওয়ামীলীগে ও বিএনপিতে

৩০ মে ২০১৮, ০৩:২৪ পিএম | সাদি


মিজানুর রহমান সোহেল, নবিগঞ্জ প্রতিনিধি : নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে যে সংসদীয় আসন সেটা হবিগঞ্জ-১।  গুরুত্বপূর্ণ আসনটি ঘিরে আলোচনাও থাকে সর্বত্র। 

আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রার্থী এবং স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হতে আগ্রহী বেশ কয়েকজন প্রবাসী আলোচনায় রয়েছেন।  এই আসনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সক্রিয়।  বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া ও জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মুনিমের দলীয় মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। 

উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ-১ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।  তবে এখানে শক্ত অবস্থান আছে জাতীয় পার্টির।  ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান রফি আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজীকে পরাজিত করেন।  ১৯৯৬ সালের (১২ জুন) নির্বাচনে দেওয়ান ফরিদ গাজী বিজয়ী হলেও খলিলুর রহমান রফি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন।  এর পর খলিলুর রহমান রফি বিএনপিতে যোগদান করলে জাতীয় পার্টির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।  তখন জাতীয় পার্টির হাল ধরেন ব্রিটেনপ্রবাসী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুনিম চৌধুরী। 

জাতীয় পার্টি : হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন ব্রিটেনপ্রবাসী আরো তিন নেতা।  তাঁরা হলেন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ, আশরাফ উদ্দিন ও জাতীয় ছাত্রসমাজের সাবেক নেতা আব্দুল মোস্তাকিম।  দশম সংসদ নির্বাচনে মুনিম চৌধুরী নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড চালান।  পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করেন। 

জাতীয় পার্টি নবীগঞ্জ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুরাদ  আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনে যাঁরাই মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন না কেন মুনিম চৌধুরী বাবুই হবেন দলের প্রার্থী। 

আওয়ামী লীগ : ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ান ফরিদ গাজী নির্বাচিত হন।  তিনি মন্ত্রীও ছিলেন।  ২০১০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ সংকটে পড়ে যায়।  ২০১১ সালের উপনির্বাচনে সামান্য ভোটে দলের প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীর পরাজয়ে পিছিয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ।  দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে পারস্পরিক অনাস্থা ও নানা টানাপড়েন।  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিয়েছিল জাতীয় পার্টিকে।  আগামী নির্বাচনেও যদি আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে আওয়ামী লীগে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দেবে বলে মনে করছে দলের নেতাকর্মীরা। 

নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি দলীয় প্রার্থী না দিয়ে জোটকে এই আসন ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে এখানে আওয়ামী লীগ আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।  ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে আসা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীবান্ধব নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া বাঞ্ছনীয় হবে বলে তিনি মনে করেন।  আর যদি ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে দলের নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে কাজ করবে না।  প্রত্যাশা মূল্যায়ন করে যদি তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে তিনি জয়ী হতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

বিএনপি : আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন ঝামেলামুক্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।  শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও দলের জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ সুজাতই হয়তো পাবেন ধানের শীষের টিকিট।  ২০১১ সালের আলোচিত উপনির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে চমক দেখান।  সিলেট বিভাগে বিএনপির একমাত্র সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। 

১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থী ফারুক বখত চৌধুরী হবিগঞ্জ-১ আসনে জামানত হারানোর পর তিনি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে দলকে সুসংগঠিক করেন।  তবে বছরের অধিকাংশ সময় বিদেশে অবস্থান করায় এবং বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের চাপা ক্ষোভও রয়েছে।  এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক প্রবাসী শাহ মোজাম্মেল হক নান্টু। 

নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, তাঁরা জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছেন।  নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত।  তিনি প্রায় নিশ্চিত যে দলের প্রার্থী হবেন শেখ সুজাত মিয়া। 

অন্যান্য : এ আসনে জামায়াতে ইসলামী বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতা তেমনভাবে চোখে পড়ে না।  বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিস এ আসনে জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী।  দলটির জেলা সহসাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জাকী বলেন, বাহুবল-নবীগঞ্জে তাঁদের দলীয় অবস্থান দেশের অনেক এলাকার তুলনায় মজবুত। 

এখানে তাঁদের একটি ভোট ব্যাংক আছে।  ২০১১ সালের উপনির্বাচনসহ বিভিন্ন সময় নির্বাচনে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন তাঁরা।  এ আসন থেকে তিনি তাঁর দলের ও জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী।  তবে জোটের যেকোনো সিদ্ধান্তই মেনে নেবেন তাঁরা।  এ ছাড়া এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রিটেনপ্রবাসী কমিউনিটি নেতা শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ।  ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছেন।