১২:০৬ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৫ সফর ১৪৪০


কাদেরের বক্তব্য ‘মানবাধিকারের সঙ্গে ঠাট্টা’ : রিজভী

০৩ জুন ২০১৮, ০২:২৭ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হত্যা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  কাদেরের বক্তব্য ‘মানবাধিকারের সঙ্গে ঠাট্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। 

রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যা সম্পর্কে জনাব ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এ ধরনের মহৎ অভিযানে দুই একটি ভুল হতেই পারে’।  মানুষের জীবন নিয়ে ভুল! ওবায়দুল কাদের সাহেবের এমন বক্তব্য মানবাধিকারকে ঠাট্টা করা।  খুনি-সন্ত্রাসীদের ন্যায় বেআইনি হত্যাকে স্বীকৃতি দেয়া। ’

‘কাউন্সিলর একরামুল হত্যার অডিও শুনে, তার স্ত্রী ও মেয়েদের কান্না শুনে শুধু বাংলাদেশের মানুষের বিবেকই নয়, বিশ্ববিবেককেও নাড়িয়ে দিয়েছে।  শুধু একরামুল হত্যাই নয় এখন পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে প্রায় ১৩০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ’

গত চার মাসে ২৫০ জন মানুষকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে এমন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘যাদের বেশিরভাগই আবার তরুণ যুবক।  তারা কে কতটুকু অপরাধের সাথে জড়িত সে সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রেখে বিনা বিচারে হত্যার পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।  নিহত পরিবারগুলো শোকের সাগরে ভাসছে।  মানুষের দুঃখ কষ্টকে নিয়ে যারা এমন মন্তব্য তারাই করতে পারে যারা অবৈধ ক্ষমতায় মশগুল থেকে মানবিক গুণাবলী হারিয়ে ফেলে। ’

রিজভী বলেন, ‘আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ড্রাগ চেইনের লিংক হিসেবে চুরি চোট্টামি করা ছিঁচকে কিছু মানুষসহ প্রমাণহীন আরও অজ্ঞাত অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা অভিযান চালানো হলেও চেইনের শীর্ষে বসে থাকা অমিত ক্ষমতাধর গডফাদাররা বসে আছে কী করে? প্রশ্ন হচ্ছে সরবরাহের উৎস পথ আটকে যাচ্ছে না কেন? তাহলে কারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক ঢুকতে সহায়তা করছে? রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কি উৎসমুখ খোলা থাকে? কারণ এই উৎসমুখগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন বদিদের মতো এমপি’রা-প্রশাসনের সহায়তায়।  বদিসহ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কীভাবে এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে গেল জাতি তা জানতে চায়।  সরকারই গডফাদারদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করছে। ’

‘আওয়ামী সরকার বাংলাদেশে একটি এতিম জেনারেশন তৈরি করতে চায়।  বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকার তাদের টিকে থাকার সমাধান খোঁজে।  কিন্তু তারা ভুলে গেছে অন্যায়ের প্রতিশোধ প্রকৃতি নিজেই নেয়।  একটি বেআইনি হত্যা আরও অনেক হত্যার বিস্তৃতি ঘটায়। ’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ।  তাদের সহায়তাকারী হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য।  তাদের এই সাড়ে নয় বছরে মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ।  প্রতিবেশী দেশ  ভারত থেকে ফেনসিডিল ও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আমদানিকে মদদ দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।  কথায় আছে কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে দুটি জিনিস ধ্বংস করতে হয়- এক হলো শিক্ষা, দুই হলো যুবসমাজ।  বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার এ দুটিই কাজই করতে পেরেছে দক্ষতার সাথে।  শিক্ষাব্যবস্থাকে তারা পুরোপুরি ধ্বংস করে এখন মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে।  এখন কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে এডহক ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরেক দফা উস্কে দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবরা। ’

একরামুল হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন একরামুল হত্যা তদন্ত করবেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট।  এসব মনভোলানো কথায় জনগণের আতঙ্ক দূর হবে না।  এ ধরনের বক্তব্যও একটা তামাশা। ’

‘বেআইনি হত্যার জন্য তো গোটা সরকারই দায়ী, সরকারের আশকারাতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে চলছে দেশব্যাপী মানুষ হত্যার বিভীষিকা।  আসন্ন আন্দোলন সম্পর্কে কম্পমান হয়েই মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয়েছে সরকার, শুধু সংগ্রামী জনগণকে ভীত করা।  মাদকবিরোধী যুদ্ধের আড়ালে চলছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। 

মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঈদের পর বিএনপি জোটের আন্দোলন দমনে একটি টেস্ট কেস বলেও দাবি করেন রিজভী। 

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণ এই নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন দেশপ্রেম, অপরিসীম সাহস, সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মানসিকতা ও শিশাঢালা প্রত্যয় নিয়ে নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য মাঠে নামবে। ’

খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার কারসাজি করছে এমন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত কারাগার যা এখন ভাঙাচোরা স্থাপনা, সেখানে বন্দী করে রাখা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ।  কারাভবনের দেয়াল ও ছাদ থেকে ঝরে পড়া সিমেন্ট, বালির ধুলোয় আক্রান্ত হয়ে দেশনেত্রী কাঁশি ও জ্বরে ভুগছেন।  এতে করে কিছু দিন আগে অস্ত্রোপচার হওয়া চোখগুলো ধুলোবালিতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে।  চোখ সারাক্ষণ লাল হয়ে থাকছে।  তাই অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।  অন্যথায় বাংলাদেশের জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে জুলুম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হচ্ছে তার জবাব দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। ’


keya