১১:৩৫ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


মাদকাসক্তমুক্ত সমাজ নির্মাণ করতে হলে মাদকমুক্ত সমাজ নির্মাণও জরুরি

০৪ জুন ২০১৮, ১১:৪৪ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : মাদকবিরোধী অভিযান চলুক।  কিন্তু একরাম হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা যেন না ঘটে আর।  মাদকাসক্তমুক্ত সমাজ নির্মাণ করতে হলে মাদকমুক্ত সমাজ নির্মাণও জরুরি।  মাদক দুষ্প্রাপ্য হলে অনেকে ইচ্ছে করলেও মাদকাসক্ত হতে পারবে না।  সামনে, আশপাশে মাদক আছে, এরপরেও যারা মাদকাসক্ত হয় না তারা অতি উত্তম চরিত্রের।  সবাই তো উত্তম না। 

কথা হল, অপরাধ দমন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেই অপরাধীকে চূড়ান্ত শাস্তি দিয়ে দিচ্ছে।  দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই বিতর্ক।  বন্দুকযুদ্ধের নামে অপরাধী হত্যার চর্চা বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে এবং কিছু মিডিয়া সেগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈধতা দিয়ে প্রচার করে এসেছে। 

রাজনীতিবিদ এবং জনপ্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা প্রশ্রয় দিয়ে এসেছেন বলেই পুলিশ, র‍্যাব এই পথে বিনাবাধায় হেঁটেছে।  কিন্তু বন্দুকযুদ্ধ কিংবা এনকাউন্টার কি উন্নত সভ্যতায় হয় না? শতভাগ এনকাউন্টারমুক্ত পুলিশি ব্যবস্থা পৃথিবীর কোথায় আছে? পুলিশের গুলিতে মানুষ মারা যায় না, এমন সমাজ কোথায় আছে একটু জানাবেন আমায়।  কখনো কখনো এনকাউন্টার করতে হয়। 

আমাদের দেশে হয় পুলিশ বেশি করছে অথবা হিরোইজম দেখাতে গিয়ে বেশি প্রচার করছে।  অথবা লিমন কিংবা একরামের মত ঘটনা বেশি ঘটাচ্ছে।  মুশকিল হল, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সামনে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ যত ভালো সাজেন, যত ভালো কথা বলেন, বাস্তব জীবনে কি তারা আসলেই এতটা ভালো? আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কি সবার কুকর্ম সম্পর্কে ধারণা রাখা সম্ভব?

অপরাধীদের আছে দেশ-বিদেশে সিন্ডিকেট।  এই দুষ্টচক্র নাই কোথায়? সব জায়গায় আছে।  মানুষ আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে, কারণ এই দলটা বঙ্গবন্ধুর।  আর দলের এখনকার কাণ্ডারি তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনা।  শেখ হাসিনাকে আমরা বিশ্বাস  করি, ভালোবাসি।  এই ভালোবাসার মূল্যায়ন তিনি করেন।  দিন রাত পরিশ্রম করেন।  নিজে খুব সৎ মানুষ।  কিন্তু ক্ষমতাশালী সবাই তো সৎ নন।  সবাই তো মানবিক নন।  জয়বাংলার লোক বলে পরিচত অনেকে আমাদের দেশপ্রেমিক প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রতারণা করছেন।  না হলে প্রধানমন্ত্রী-সমর্থিত একটা সময়োপযোগী মাদক বিরোধী অভিযানকে এভাবে কেন বিতর্কিত করা হল?

আমরা আশা করি এমন একদিন আসবে যখন প্রধানমন্ত্রীর সাথে উচ্চপদস্থ লোকজন প্রতারণা করবেন না।  যেমন এদেশের সাধারণ মানুষ করে না।  খেটে খাওয়া মানুষজন করে না।  সাধারণ মানুষ যদি সৎ জীবন যাপন করতে পারে, পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবীকা অর্জন করতে পারে, তাহলে সমাজের শীর্ষপদের মানুষগুলো কেন করবেন না? ছাত্রলীগ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা ধুঁকে ধুঁকে মরছে।  মিয়ানমার আর ভারতের মাদকে দেশের তরুণ সমাজ ধ্বংস হতে চলেছে। 

ইয়াবা, ফেনসিডিল, পপ কালচার আর ধর্মের আফিমে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ অনেকখানি বুঁদ হয়ে আছে।  যেদিন এদেশের কৃষক সমাজ ইয়াবা ধরবে,  ভারতীয় বাংলা-হিন্দি আর পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণের নেশায় বুঁদ হবে সেদিনই আমাদের ধ্বংস পুরোপুরি আসবে।  সেদিন যেন না আসে এজন্য সব দায়িত্বশীলদের সৎ হতে হবে।  দায়িত্বশীলরা হয়তো ভাবছেন, তাঁদের ছেলে-মেয়েরা তো এদেশে থাকবে না, বিদেশ চলে যাবে। 

বিদেশে বড় হবে, ইংরেজিতে কথা বলবে, ঢাকার ধুলাবালি তো তাঁদের গায়ে লাগবে না।  কিন্তু নিজের ঘরে শান্তি না আসলে পরের ঘরে গিয়ে শান্তি আসবে এটা ভাবা বোধ হয় বাস্তবসম্মত নয়।  এদেশে যদি ইয়াবা থাকে, বিদেশে আছে মারিজুয়ানা, হাশিশ, আফিম ও হেরোইন।  আমার ছেলে যদি ইয়াবা খেয়ে মরে, আপনার ছেলে হেরোইন-আফিম খেয়ে মরবে। 

অসৎ পথের কামাই দিয়ে ছেলে-মেয়ে মানুষ করা যায় না এর প্রমাণ আছে লাখে লাখে।  আজ যে ছেলে-মেয়ে ইয়াবার টাকায় কিংবা অন্য কোনও কালো পথে উপার্জিত অর্থে বিত্তের মধ্যে বড় হচ্ছে সে একদিন তার বাবা/মায়ের জন্য দোযখ সৃষ্টি করবে এই পৃথিবীতেই।  কদিন আগেই তো আমরা দেখলাম আওয়ামী লীগের এক বর্ষীয়ান নেতার ছেলেরা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে মর্মে বড় পত্রিকায় লিড রিপোর্ট হয়েছে।  আবার সৎ পথে চললে, মানুষকে সেবা দিয়ে ভালোবাসা ও দোয়া অর্জন করলে ছেলে-মেয়েরা যে একেকটা হীরের টুকরা হয় তাঁর বড় প্রমাণ তো আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেই। 

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী চক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলেন।  দুই বোন বিদেশে থাকায় আল্লাহর রহমতে বেঁচে যান।  দুই বোনকে দিয়ে এই বঙ্গবন্ধুর পরিবার আবার কানায় কানায় ভরে উঠেছে।  বঙ্গবন্ধু বেছে বেছে উচ্চ শিক্ষিত এবং সৎ মানুষদের কাছে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে গেছেন।  সেই দুই মেয়ের ঘরে যারা জন্ম নিয়েছে একজনও বিপথে যান নি।  এরা প্রত্যেকে খুবই মেধাবী এবং যোগ্য। 

দেশে আরকটি পরিবার আছে।  জিয়াউর রহমান আর খালেদা জিয়ার পরিবার।  দুই পরিবারের মধ্যে একটু তুলনা করে দেখেন।  তাহলেই বুঝতে পারবেন, সৎ পথে চললে, মানুষকে প্রকৃতই ভালোবাসলে ছেলে-মেয়েরা বিপথে যায় না।  তাই ভাইয়েরা আমার, আপনারা যারা উচ্চ পদে আসীন আছেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ, সমস্ত অসৎ ভাবনা, সহজে বেশি অর্থ উপার্জনের চিন্তা বাদ দিয়ে ভালো হয়ে যান।  দয়া করে আমাদের এই মানবতাবাদী, সৎ এবং কঠোর পরিশ্রমী প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেউ প্রতারণা করবেন না।  প্রধানমন্ত্রীর কোনো শুভ উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দেবেন না। 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ