৮:১০ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে

০৪ জুন ২০১৮, ০১:৩৮ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : রোগটি আসলে লিউকেমিয়া।  ব্লাড ক্যান্সার বা রক্তে ক্যান্সার নামেই বেশি পরিচিত।  লিউকেমিয়া হল রক্ত অথবা অস্থিমজ্জার ক্যান্সার।  এতে শ্বেতকণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজন ঘটে। 

রক্তের তথা ব্লাড ক্যান্সারের অন্যতম সমস্যাই হলো এর সুনির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা যায় না, মানুষটি পুরোপুরি সুস্থ, অথচ পরদিনই তার রিপোর্টে ক্যান্সার ধরা পরলো, অর্থাৎ রোগী নিজেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুঝতে পারেন না যে তিনি কি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত।  তবুও কিছু লক্ষণ রয়েছে যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে।  নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো :

 ১. ঘন ঘন জ্বর হওয়া (এটা সবচেয়ে কমন লক্ষ্মণ) ২. রাত্রিকালীন প্রচুর ঘামানো ৩. প্রচণ্ড দুর্বলতা ও অবসাদ ৪. খিদে না থাকা ও ওজন হ্রাস ৫. মাড়ি ফোলা ৬. ছোট কাটাছিড়া থেকে অনেক রক্তক্ষরণ ৭. স্নায়বিক লক্ষণ (মাথাব্যাথা) ৮. গাঁটে ব্যাথা ৯. গলায়, বগলে বা অন্যত্র লিম্ফনোড বড় হওয়া ১০. বুক ধড়ফড় ও মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া। 

কারণ:

কোনো প্রকার লিউকেমিয়ার জন্যই কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণ নেই।  বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন লিউকেমিয়া হয়, এবং সেই কারণগুলোও ঠিকমত জানা নেই।  গবেষকদের ধারনা অনুসারে নিম্নবর্তী চারটি কারণ সব থেকে সম্ভাব্য:

১.প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম আয়ন বিকিরণ ২. কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ ৩. কিছু ভাইরাস ৪. জিনগত যা কিছুটা জন্মগত। 

চিকিৎসা:

কী ধরনের কেমোথেরাপি দিতে হবে তা নির্ভর করে রোগটির ধরনের ওপর, বিশেষ করে অ্যাকিউট লিউকেমিয়া হলে তা রোগটির কোন উপগোত্রের সেটি নির্ণয় করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়।  অ্যাকিউট লিউকেমিয়াকে পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন উপভাগে ভাগ করা যায়। 

যে প্রকারেরই অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া বা এএলএল হোক না কেন, চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি।  শুধু কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করলে দুই থেকে আড়াই বছর চিকিৎসা নিতে হয়।  কারো কারো বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে হয়। 

আবার অ্যাকিউট মায়েলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া বা এএমএল হলে তার চিকিৎসা আরো কিছু বিষয়ের ওপরও নির্ভর করে।  এটি মূলত আট প্রকারের, এগুলো এম- ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭- এভাবে পরিচিত। 

এম-২, ৪ হলে শুধু কেমোথেরাপি দিয়ে টানা চার মাস চিকিৎসা করলে রোগ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক।  এম-৩ বা এপিএল ব্লাড ক্যান্সারকে শুধু কেমোথেরাপি দিয়ে টানা দুই বছর চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশের বেশি।  এম-২, ৩ ও ৪ ছাড়া বাকি এএমএল ক্যান্সারগুলোর বিএমটি বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন ছাড়া কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই।  ক্রনিক লিউকেমিয়ারও প্রকারভেদে চিকিৎসার ধরন ভিন্ন ভিন্ন।  ক্রনিক লিউকেমিয়ার রোগী সঠিক চিকিৎসা নিয়ে অনেক দিন ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে।  বর্তমানে মলিকিউলার টার্গেটেড থেরাপি আবিষ্কার হওয়ায় অনেক ব্লাড ক্যান্সার অল্প সময়েই ভালো হয়।  ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া তার মধ্যে অন্যতম।  তবে কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসার পর দীর্ঘদিন ফলোআপে থাকা উচিত। 

যে কোনো ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি কাজ না করলে বা রোগ আবার হলে এইচএলএ টিস্যু ম্যাচিং ডোনার থেকে স্টিমসেল বা অস্থিমজ্জা সংগ্রহ করে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে হয়।