১২:৫৭ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


বহুল প্রত্যাশিত নতুন করে গতি পেতে যাচ্ছে বে টার্মিনাল

০৫ জুন ২০১৮, ১০:০৬ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বহুল প্রত্যাশিত বে টার্মিনাল নতুন করে গতি পেতে যাচ্ছে।  কারণ ভূমি বরাদ্দ পেতে অবশেষে সঠিক পথেই ফিরেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

তিন বছর ধরে ভূমি বন্দোবস্তের জন্য ফাইল চালাচালির পর এবার ভূমি অধিগ্রহণের পথে হাঁটতে যাচ্ছে বন্দর।  গত বছর ৬৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বরাদ্দের পর বাকি থাকা ৮২০ একর ভূমিও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ নিতে নৌ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে।  আর এ প্রক্রিয়ায় দ্রুত হবে বে টার্মিনালের কার্যক্রম। 

নৌ মন্ত্রণালয় থেকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট ভূমি বরাদ্দের জন্য অনুমোদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ায় বিলম্বিত হচ্ছিল বলে আমরা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভূমির বরাদ্দ নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছিলাম।  মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে।  এখন আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে অধিগ্রহণের জন্য আবেদন করবো।  এতে হয়তো আগামী তিন মাসের মধ্যে বরাদ্দ পেতে পারি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘নতুন এই সিদ্ধান্ত বে টার্মিনালের জন্য পজিটিভ হয়েছে।  এখন বে টার্মিনালের নির্মাণ কাজে গতি পাবে। ’

পতেঙ্গা ইপিজেডের পেছন থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত সাগরের অংশে ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে বে টার্মিনাল।  এই বে টার্মিনালের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ পেতে এবং ৮২০ একর ভূমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া বরাদ্দ পেতে ২০১৫ সালে আবেদন করা হয়েছিল।  বন্দর কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৬৮ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি অনুমোদন দেয়।  সরকারের বিধি অনুযায়ী মৌজা মূল্যের তিনগুণ মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে এই ভূমি বরাদ্দ পাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

সে অনুযায়ী ফিল্ড বুক তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।  এখন শুধু টাকা পরিশোধের চিঠি ইস্যু বাকি রয়েছে।  কিন্তু আটকে থাকে বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ায় আবেদন করা ৮২০ একর ভূমির বরাদ্দের বিষয়টি। 

বন্দর সূত্রে জানা যায়, খাসজমিগুলো নামমাত্র মূল্যে বরাদ্দের জন্য প্রচেষ্টা চালাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।  কারণ প্রধানমন্ত্রী চাইলে বন্দরের অগ্রযাত্রার স্বার্থে প্রতীকি মূল্যে তা বরাদ্দ দিতে পারেন। 

এদিকে বে টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা জরিপের কার্যক্রম শেষ করে জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান বন্দরের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।  সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের মাধ্যমে বে টার্মিনাল গড়ে তুলবে।  বে টার্মিনালে আবার তিনটি টার্মিনাল থাকবে।  একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল ও দুটি কনটেইনার টার্মিনাল।  প্রাথমিকভাবে সবার আগে বে টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনারগুলো ডেলিভারি দেয়ার জন্য স্পেস তৈরি করা হবে।  এতে বন্দরের জেটিতে প্রবেশ করা প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার ট্রাককে নগরীতে প্রবেশ করতে হবে না। 

উল্লেখ্য, ইপিজেড থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত সাগরের ভেতরের প্রায় ২৩০০ একর জায়গায় বে টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।  জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত, বাঁকা চ্যানেল কিংবা ড্রাফটের বিবেচনা কর্ণফুলী নদীর জেটিতে ভিড়লেও বে-টার্মিনালের ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা নেই।  বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর জেটিতে পৌঁছাতে একটি জাহাজকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।  কিন্তু বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে তা শূন্য কিলোমিটারের মধ্যেই বার্থিং করতে পারবে।  বে টার্মিনাল নির্মাণ হলে যেকোনো দৈর্ঘ্য ও প্রায় ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে। 

বিপরীতে বর্তমান চ্যানেলে মাত্র ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ কর্ণফুলীতে প্রবেশ করতে পারে।  সেইক্ষেত্রেও জাহাজকে দুটি বাঁক অতিক্রম করতে হয় এবং দিনের মাত্র চার ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়।  কিন্তু বে টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ পরিচালনা করা যাবে।  বিদ্যমান পোর্ট জেটিতে একসাথে ১৬টি জাহাজ বার্থিং করা গেলেও বে-টার্মিনালে গড়ে প্রায় ৫০টি জাহাজ একইসাথে বার্থিং করা যাবে।  বন্দরের জেটির দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার হলেও বে টার্মিনালের দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার।  ল্যান্ড লর্ড পদ্ধতিতে চালু হতে যাওয়া বে টার্মিনাল চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্র বন্দরের অভাব ঘুচাবে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টদের ধারণা।