১১:১৭ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


আইসল্যান্ডের প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা আর অস্ট্রেলিয়ার ১১ ঘণ্টা রোজা

০৫ জুন ২০১৮, ০৮:৪৮ পিএম | সাদি


তৈয়বুর রহমান, নিউ ইর্য়ক : বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে রমজান একটি পবিত্র মাস।  সারা বিশ্বের মুসলমানগণ ধৈর্য আর সংযম সহকারে এই মাসে রোজা পালন করেন।  আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মুসলমানেরা সারা বছর এই মাসটির জন্য অপেক্ষা করেন। 

এরইমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রোজা পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।  সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে এই রোযা পালন করতে হয়।  ফজরের আযানের আগে সেহরি খেয়ে রোজা শুরু হয়।  আর সন্ধ্যায় মাগরিবের আজান দিলে ইফতার খাওয়ার মাধ্যমে শেষ হয় রোজার।  তবে বিশ্বের কোনো কোনো দেশে এই পানাহার থেকে বিরত থাকার সময়টা বেশ দীর্ঘ। 

আর যেহেতু রোজা সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই ভৌগোলিক কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় রোজা রাখার সময়ের পরিধি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। 

এই পৃথিবীতে সবচেয়ে লম্বা রোজা রাখছেন আইসল্যান্ডের অধিবাসীরা।  চব্বিশ ঘণ্টা দিনের মাত্র দুই ঘণ্টার পানাহার এবং সেহরির কাজ সারতে হচ্ছে।  এই কঠিন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তারা কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন? আসলে সেখানে অনেক আগে সূর্যোদ্বয় হয়, আর অনেক পরে অস্ত যায়।  বিবিসি এক ভিডিও-তে জানাচ্ছে সেই মানুষগুলোর কথা, যারা দিনে ২২ ঘণ্টার রোজা পালন করছেন।  

সূর্যোদয়ের তো বটেই ফজরের ওয়াক্ত শুরুর আগেই সেহরি’র সময় শেষ হয়ে যায়।  রোজাদার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ আ্ল্লাহ্‌’র দরবারে রোজা কবুলের আর্জি জানিয়ে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত দিনভর নিজেকে সংযমে রাখেন।  শুধু খাবার ও পাণীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকাই নয়, মনের দিক থেকেও সংযম রক্ষা করেন ধর্মপ্রাণ রোজাদার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।  গোটা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ আল্লাহ’র করুণা ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় একই নিয়ম পালন করে থাকেন। 

তবে বিভিন্ন দেশের সুর্যের অবস্থান ও সময়ের হিসেব আলাদা হওয়ায় রোজা ভাঙার সময়টাও আলাদা।  আমাদের আমেরিকায় এবছর প্রায় ১৭  ঘণ্টা রোজা রাখতে হলেও বিশ্বের এমন দেশও রয়েছে, যেখানে সূর্যাস্তের জন্য ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। 

সেই দেশটি হচ্ছে উত্তর মেরুর কাছাকাছি দেশ আইসল্যান্ড।  যেখানে ইফতারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় রাত ১১টা পর্যন্ত।  দেশটির ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা তবুও মহান আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাত ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।  উত্তর মেরুর নিকটে অবস্থিত দেশটির মানুষের জন্য প্রতিবছরই সময়টা প্রায় একই থাকে।  

 অবশ্য আইসল্যান্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বাস খুবই কম।  শতকরা হিসেবে মাত্র ০.২ ভাগ।  মোটের হিসেবে যা ১ হাজার বা এর কমবেশি হতে পারে।  তবে এই মুসলিমদের মধ্যে অধিকাংশই চেষ্টা করেন রমজান মাসে রোজা রাখার। 

বছরের এই সময়টাতেই আইসল্যান্ডে দিন হয় অনেক দীর্ঘ।  রাত প্রায় ১১টার দিকে সূর্য অস্ত গেলেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ভোর হয়ে যায়।  ফলে রোজাদার মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য রাতের সেই কয়েক ঘণ্টাই খাওয়ার সুযোগ থাকে। 

আইসল্যান্ডে এক হাজারেরও বেশি মুসলিম বাস করেন।  তবে এত লম্বা সময় ধরে সবাই রোজা রাখেন না।  আইসল্যান্ডের একটি ছোট মুসলিম সমাজের ইমাম মানসুর।  এত লম্বা সময় রোজা না রেখে তারা ১৮ ঘণ্টা রোজা রাখেন।  মানসুরের মতে, ইসলাম ধর্মে বলা আছে সহজভাবে ধর্ম পালন করতে।  ২০ ঘণ্টার বেশি রোজা রাখতে গিয়ে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে যান।  এ কারণে তারা সময়টাকে কমিয়ে এনেছেন। 


keya