৫:৪৯ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


সাময়িক কাজেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন জাককানইবি'র হাফিজুর রহমান

০৬ জুন ২০১৮, ০১:২০ পিএম | জাহিদ


এস.এম.মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, জাককানইবি প্রতিনিধি :  ত্রিশালে নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এর আগমন উপলক্ষে রাস্তা সংস্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা দপ্তর। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে এই রাস্তা সংস্কারের এক সপ্তাহ না যেতেই আগের অবস্থাতেই ফিরে যায় দোলনচাঁপা হল সংলগ্ন রাস্তাটি।  সংস্কার করার তিন-চার দিন যেতে না যেতেই দ্বিতল বিশিষ্ট রাস্তার আকার ধারণ করে। 

ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ২০ মে থেকে দৌড়ঝাঁপ করে রাস্তা সংস্কার করতে দেখা গেছে পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমানকে।  তখন তাকে রাস্তার ব্যয় বাজেট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন সঠিক উত্তর না দিয়ে জানান, কাজ করতে যা ব্যয় হবে তাই নির্ধারিত বাজেট। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো বারবার সংস্কার করতে দেখা যায় এই পরিকল্পনা দপ্তররের হাফিজুর রহমানকে।  কিন্তু এর কোনো স্থায়ী সমাধানে আগ্রহী নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা দপ্তররের হাফিজুর রহমান।  যার ফলে দুই-একদিন না যেতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়।  বারবার সংস্কার করে রাস্তা নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে লক্ষাধিক টাকা।  আর এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিলয় মাহমুদ বলেন, পরিকল্পনা দপ্তরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের অপচয় করছে।  তারা নিজেদের পকেট ভারি করছে। 

সড়কটির বেহাল অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো.হাফিজুর রহমান সাংবাদিকের পরিচয় শুনে মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তিতে একাধিক ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, এত বেশি বুঝ কেন।  এটা কোন স্থায়ী সড়ক নয়, চলাচলের জন্য আমি ইট দিয়েছি, যতবার সংস্কারের দরকার ততোবার সংস্কার করবো।  রাস্তাটি সংস্কার করতে করতে স্থায়ী হবে।  স্থায়ী রাস্তা হতে ২-৪ বছর সময় লাগবে।  তাছাড়া এখন সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে সেটা ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ সেটা সংস্কার করবে। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, মো: হাফিজুর রহমান সাময়িক কাজ করেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তার মানে তিনি সাময়িক কাজেই বেশি মনোযোগী।  তার স্থায়ী মনোনিবেশ না থাকার কারণে আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন নির্মাণেও দেখা গেছে এই দপ্তরের উদাসীনতা এবং সাময়িক নিতি অনুসরণ করতে।  একযুগ অতিবাহিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন করে কাজ শুরুর পরিবর্তে বারবার দেখা যায় সংস্কার করতে।