১০:৩৬ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৫ সফর ১৪৪০


‘রক্তচোষার’ বাজেট বাড়াবে দ্রব্যমূল্য: বিএনপি

০৮ জুন ২০১৮, ১২:৫১ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘রক্তচোষার’, ‘লুটের’ বাজেট আখ্যা দিয়েছে বিএনপি।  দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী ‘বিশাল’ বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে ‘জনগণের পকেট কাটা’র পরিকল্পনা বলেছেন।  তার দাবি, এই বাজেট পাস হলে বেড়ে যাবে জিনিসপত্রের দাম। 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করার পরদিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য তুলে ধরেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। 

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘নির্বাচনের আগে দলীয় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার সুযোগ সৃষ্টি, জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এই সম্পূর্ণরুপে প্রত্যাখান করছে। ’

বাজেট পেশের দুই দিন আগেই রিজভী সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, বাজেট হবে গণবিরোধী।  আবার বাজেট পেশের দিন সকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, এই বাজেট ‘লুটপাটের’, ‘ভুয়া’। 

রিজভী তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমূলক না হওয়ায় জনগণ হতাশ হয়েছে।  তারা যেহেতু জনগণের সরকার নয়, আর এই সংসদ সদস্যরা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তাই তাদের কাছ থেকে জনকল্যাণমুখী বাজেট আশা করা যায় না। ’

বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা নেই বলেও মনে করেন রিজভী।  তার দাবি, দেশে দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি।  আর বাজেটে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তেমনভাবে না রাখায় বেকার সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। 

প্রস্তাবিত বাজেট মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না দাবি করে রিজভী বলেন, ‘মূলতঃ নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বশেষ লুটপাটের জন্যই এ বিশাল বাজেট পেশ করা হয়েছে।  ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাজেট বড় করা হয়েছে।  বাজেটের আকার বড় করে জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করা হয়েছে। ’

অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছর থেকে সার্বজনীন পেনশন চালুর প্রস্তাব করেছেন।  গত অর্থবছরের বাজেটে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে দেয়া কথা রেখেছেন।  এই বিষয়টি নিয়ে রিজভী বলেন, ‘এর আগেও সার্বজনীন পেনশনের কথা বলা হলেও বাস্তবায়ন হয়নি, এবারেও তাই। ’

ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলের ওপর কর আরোপের প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন রিজভী।  তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির প্রশস্ত মহাসড়কে মানবজাতির বিচরণ।  অথচ এই অবৈধ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে।  কিন্তু বাজেটে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল ব্যবহারের ওপর করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ’

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৮ পূরণ হবে না বলেও দাবি করেন রিজভী।  বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ৭.৮ প্রবৃদ্ধি অসম্ভব। 

‘কারণ দেশে সুশাসন নেই, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নেই।  কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই, রেমিটেন্স দিন দিন নিম্নগামী হচ্ছে।  সুতরাং প্রবৃদ্ধির এই মাত্রা অর্জন করা কখনোই সম্ভব নয়।  সুতরাং প্রস্তাবিত ৭.৮ প্রবৃদ্ধি ডাহা মিথ্যাচার। ’


keya