১২:৫৪ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


বাগেরহাটে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে দু’জনের পদত্যাগ

০৮ জুন ২০১৮, ০৫:১৭ পিএম | সাদি


এম পলাশ শরীফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি : কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আংশিক নতুন জেলা কমিটি ঘোষণার পর খোদ ছাত্রদলের নতুন ও পুরানো নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

বুধবার সন্ধ্যায় ছাত্রদলের পদ বঞ্চিত ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এম এ সালামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে।  রাজনীতির মাঠে ভূমিকা নেই এমন ছেলেকে এই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় দলের পদ বঞ্চিতরা হতাশ ও বিষ্মিত হয়েছেন। 

নতুন ঘোষিত কমিটির দুই ক্ষুব্দ নেতা ইতিমধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।  পদ বঞ্চিত দলের নেতা ও সাবেক নেতারা এই কমিটিকে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এম এ সালামের পকেট কমিটি বলে আখ্যায়িত করে প্রত্যখ্যান করেছেন। 

তারা অবিলম্বে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে যোগ্য নেতাদের নিয়ে কমিটি করার দাবি তুলেছেন।  তবে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এম এ সালাম ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে ইমরান খান সবুজ, জেষ্ঠ্য সহ সভাপতি পদে মো. গোলাম রসুল তরফদার নেওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক পদে আলী সাদ্দাম দ্বীপ, যুগ্ম সম্পাদক পদে দু’জন তালহা মাহী ও শেখ ফয়সাল মোর্শেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আতিকুর রহমান রাসেলকে রাখা হয়েছে। 

এরমধ্যে সদ্য পদ পাওয়া জেলা ছাত্রদলের জেষ্ঠ্য সহ সভাপতি  মো. গোলাম রসুল তরফদার নেওয়াজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান রাসেল পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। 

নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাওয়া আতিকুর রহমান রাসেল বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালামের চাটুকাররা এই কমিটির বড় বড় পদ পেয়েছেন।  যোগ্যদের পদ বঞ্চিত করে চাটুকারদের পদ দেওয়া হয়েছে।  ছাত্রদলের রাজনীতিকে ‘বাগেরহাটে কবর দিতে’ এই কমিটি করা হয়েছে।  আমি পদ থেকে পদত্যাগ চেয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে চিঠি পাঠিয়েছি।   সেই সাথে আমি এই কমিটি প্রত্যাখ্যাান করছি। 

জেলা ছাত্রদলের সদ্য বিদায়ী সভাপতি মোল্লা সুজাউদ্দিন সুজন বলেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম তারেক রহমানের নির্দেশ উপেক্ষা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবৈধ অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে তিনি তার আজ্ঞাবহ কমিটি এনেছেন বলে দাবী করেন ওই নেতা। 

ছাত্রদলের নব গঠিত কমিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আমি সম্প্রতি জেলা কমিটি করতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সাত সদস্যের নামের একটি তালিকা পাঠিয়েছি মাত্র।  ছাত্রদলের কমিটি গঠনে আমার কোন হাত নেই।  যারা এই কমিটির বিরোধীতা করে বিদ্রোহ করছেন তারা দলের বন্ধু হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।