১১:৪৭ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে বান্দরবানের জীবনমান উন্নত হচ্ছে

০৯ জুন ২০১৮, ০৮:৫৬ পিএম | সাদি


রিমন পালিত, বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানে জেলা সমাজসেবা বিভাগের উদ্যোগে নাগরিকরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধা ভোগ করতে চলেছেন। 

২০০৯ সাল থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণও দ্বিগুন বেড়েছে।  প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১০টি বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম একটি হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। 

জেলা সমাজসেবা বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য মতে জেলার ৭টি উপজেলায় চলতি অর্থসাল পর্যন্ত ১০ বছরে জেলায় ৮৯ হাজার ৩৩৬ জন বয়স্ক নারী-পুরুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ৩৯ কোটি ৯৪ লাখ ৮ হাজার ৬০০ টাকা বয়স্ক ভাতা। 

একই সময়ে জেলায় ৬৭ হাজার ৩৫৬ জন নারীকে বিধবা ভাতা প্রদান করা হয়েছে।  বিতরণকৃত ভাতার পরিমাণ হচ্ছে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা। 

জেলায় ৮ হাজার ৮১৩ জন অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধির মাঝে বিতরণ করা হয় ৪ কোটি ৬৮ লাখ ২ হাজার টাকা।  ১ হাজার ৭৮২জন প্রতিবন্ধির মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হয় ১ কোটি ৬৯ লাখ ৬০০ টাকা।  প্রত্যেকেরই পৃথক পৃথক ব্যাংক হিসাব এবং এসব ব্যাংকে চেকের মাধ্যমেই ভাতা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলার রুমা উপজেলার মুনমুন পাড়ার বাসিন্দা এবং বিধবা ভাতাভোগী জয়েনমই বম বলেন, তিনি সরকার প্রদত্ত বিধবা ভাতার অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্র মুরগির খামারগড়ে তুলেছেন।  সেই খামার থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি। 

রোয়াংছড়ি উপজেলার চাইংগ্যা এলাকার বাসিন্দা এবং বিধবা ভাতাভোগী জরিনা খাতুন এবং সখিনা বিবি জানান, তারা প্রাপ্ত বিধবা ভাতার টাকায় হাসঁ-মুরগিপালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলস্বী হচ্ছেন। সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা রহিম আলী এবং আবুল কালাম বলেন,তারা সোনালী ব্যাংক থেকে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা ভোগ করছেন।  প্রাপ্ত অর্থ তাদের চাহিত খাবার সংগ্রহের কাজে লাগছে। 

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিশ্বজিত চাকমা জানান, ২০০৯ সালে বিধবা ভাতার পরিমাণ ছিল মাসে ২৫০ টাকা, ক্রমশ: এই অর্থ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে মাসে ৫০০ টাকায় দাড়িয়ে। 

বয়স্ক ভাতাও একই পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।  জেলায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধিরা ২০০৯সালে ২৫০ টাকা হারে মাসিক ভাতা পেতেন, বতর্মানে তা বৃদ্ধি পেয়ে মাসিক ৬০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন তারা। 

সেই সাথে পৃথকভাবে প্রতিবন্ধিরা শিক্ষা উপবৃত্তিও ভোগ করছেন। সদর উপজেলার ফারুকপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী জিমসাম বম এবং সুয়ালক গ্রামের প্রতিবন্ধী শাহ আলম জানান, তারা সমাজসেবা বিভাগ থেকে নিয়মিত ভাতাপাচ্ছেন।  এই টাকা তাদের জীনবযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। 

জেলা সমাজসেবা বিভাগ সূত্র জানায়, ওই কর্মসূচির আওতায় ২০১৫ অর্থবছর থেকে জেলায় নতুন কর্মসূচি হিসেবে চালু হয়েছে আরও ২টি প্রকল্প।  একটি হচ্ছে- হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা এবং অপরটি দলিত, হরিজন ও বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা প্রদান। 

জেলায় প্রতিমাসে ৬জন হিজড়ার মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে ৬০০ টাকা হারে ভাতা, শুরুতে ছিল মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা হারে। গেল তিন বছরে এই ৬জন হিজড়ার মাঝে বিতরণকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৪হাজার ৪০০ টাকা এবং ১১জন হিজড়ার মঝে শিক্ষা উপবৃত্তি হিসেবে একই সময়ে বিতরণ করা হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা।  জেলায় ৩৫২জন দলিত, হরিজন ও বেদে জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার টাকা। একই জনগোষ্ঠীর ১০০জনের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে ৪লাখ ১৪শত’ টাকা।