৫:৪৮ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


রোজার শেষ সপ্তাহে শাড়ির দোকানগুলো ফাঁকা, বিক্রেতার মাথায় হাত

১০ জুন ২০১৮, ১২:১৫ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ঈদ পার্বণে শাড়ির চাহিদা তুঙ্গে-এটা বরাবরের খবর।  কিন্তু অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে বাঙালি নারীর পোশাকের রূচিও পাল্টাচ্ছে।  দোকানিরা জানাচ্ছেন, এই কাপড়টির চাহিদা এবার অস্বাভাবিক রকম কম। 

শেষ সপ্তাহে পড়েছে রোজা।  কেনাকাটায় বিপনিবিতানগুলো সরগরম থাকছে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি।  কিন্তু বেশ কিছু বিপনীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাড়ির দোকানগুলো ফাঁকাই থাকছে বেশিরভাগ সময়। 

জনপ্রিয় বিপনিবিতান বসুন্ধরা শপিং মলের একজন শাড়ি বিক্রেতা বলছেন, তিনি ব্যবসাই পাল্টে ফেলবেন।  কারণ, অন্য পোশাকের দোকানিরা যেখানে বিপুল লাভ করছেন, সেখানে বসে থাকার মানে দেখছেন না তিনি। 

বিক্রেতারা বলছেন, পয়লা বৈশাখ ঘিরে শাড়ির চাহিদা বেশি থাকে।  তবে সেই শাড়ি আবার অন্য উৎসবের মতো জমকালো হয় না আর দামও হয় তুলনালমূক কম। 

তবে ঈদে বিক্রি হবে ভেবে তুলনামূলক দামি শাড়ি তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা।  কিন্তু ক্রেতা সংকটে তারা এখন দিশেহারা। 

বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, পোশাক-প্রসাধনীর দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়।  জমজমাট বেচাকেনায় খুশি বিক্রেতারাও।  পরিস্থিতি বিপরীত মার্কেটের চতুর্থ তলায়। 

বিক্রেতাদের দাবি, মেয়েদের কাপড়ের সিংহভাগ চাহিদা থ্রি-পিছ, গাউন ও চেহাঙ্গার।  গ্রীষ্মের গরমে ঈদ বলে শাড়ি বিক্রি কিছুটা কম হতে পারে, তাই বলে এতটা কম থাকবে-এটা ধারণার অতীত ছিল বিক্রেতাদের। 

নারীরা বলছেন, গরমে শাড়ি পরা কষ্টকর।  তাই তারা তুলনামূলক আরামদায়ক পোশাক কেনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। 

বাইশ বছর শাড়ি বিক্রির অভিজ্ঞতা এবার হার মানতে যাচ্ছে-বলেছেন বসুন্ধরা শপিং মলের ‘অপরাজিতা শাড়ি কুঠিরের’ বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম।  তিনি বলেন, ‘মা-খালারা ছাড়া শাড়ি পরে।  মেয়েরা ছেড়েই দিচ্ছে।  ঈদে শাড়ির তেমন চাহিদা নেই।  কোনো উপলক্ষ ছাড়া মেয়েরা শাড়ি পরে না। ’

‘সবার চাহিদা যেহেতু থ্রি-পিছ, গাউন আর লেহাঙ্গার দিকে।  ভাবছি শাড়ি বাদ দিয়ে সেগুলোই বিক্রি করব।  মাত্র এক সপ্তাহ ঈদের বাকি, কিন্তু কোনো বেচাকেনা নাই।  আমাদেরও তো চলতে হয়। ’

‘চামেলী শাড়িজ’ এর মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই মার্কেটের হাতে গোনা কয়েকটা বড় দোকান ছাড়া বাকি সবাই প্রতি মাসে লস গোনে।  শাড়ির কোনো ক্রেতা নেই। ’

‘আমরা এই কথাগুলো কাউকে বলতে পারি না।  কাকে বলবো? ঈদের টাইমে কিছুটা বাড়তি বেচাকেনার চাহিদা থাকে।  যাতে সারা বছরের লসটা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া যায়।  কিন্তু রোজার প্রথম থেকেই যে অবস্থা চলছে তাতে লস পোষানো তো অসম্ভব, এমাসেও লস গুনতে হবে। ’

আগামী এক সপ্তাহ সময়কে পুঁজি করে আশায় বুক বেঁধে আছেন বিক্রেতারা।  শেষ সপ্তাহে কিছুটা হলেও শাড়ি বিক্রি হবে।  এমনটাই প্রত্যাশা বিক্রেতাদের। 

নামজাদা ব্র্যান্ড ‘শালিমার’ও ভুগছে ক্রেতা সংকটে।  বিক্রেতা মো. শরিফ জানান, ‘আমাদের বেচাকেনা সারা বছর মোটামুটি থাকে।  শবে বরাতের পর থেকে ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়।  কিন্তু এই বছর কোনো কাস্টমার নাই।  দিনে একটা শাড়িও বিক্রি হচ্ছে না। ’

‘কাস্টমার অভিযোগ করতে পারে এমন কোনো সুযোগ আমাদের এখানে নেই।  কারণ আমাদের দাম কখনো বাড়ে না।  ঈদের আগেও যে দাম, ঈদের পরেও সে দাম।  আমাদের শাড়ির দাম সারা বছর এক রকম থাকে।  তবুও কাস্টমার নাই।  এখনো এক সপ্তাহ আছে।  আশা করছি, শেষ দিকে কিছু কাস্টমার আসবে। ’

একই চিত্র নিউমার্কেট, চাঁদনী চক ও গাউছিয়ায়।  অন্যান্য পোশাকের তুলনায় শাড়ির চাহিদা মানমাত্র।  এমন দাবি এখনকার বিক্রেতাদের। 

চাঁদনি চকের সাফা এন্টারপ্রাইজ এর বিক্রেতা রবিউল হোসেন জানান, ‘শাড়ির চাহিদা কম।  কাস্টমার শুধু থ্রি-পিছের।  তবে আশা করছি, শাড়ির চাহিদা শেষের দিকে বাড়তে পারে।  কারণ, এবছর এখন পর্যন্ত তেমন শাড়ি বিক্রি হয় নাই। ’

একই তথ্য জানালেন আধুনিক শাড়িজ।  বিক্রেতা কাউসার  বলেন, ‘শাড়ি কেনার লোক নাই।  যাও বিক্রি করছি, কিছু কম দামি শাড়ি গেছে।  এছাড়া মোটামুটি দামের বা বেশি দামের শাড়ি কেনার লোক নাই।  যেগুলা মহিলারা সব সময় পরে, সেগুলোর কাস্টমার টুকটাক আছে। ’

মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ারে ‘মালিহা থ্রি-পিছ ও শাড়ি’র মালিক ইকবাল হোসাইন  বলেন, ‘১০ রোজার পর থেকেই কাস্টমার আসছে।  বেচাকেনাও ভাল।  থ্রি-পিছের চেয়ে শাড়ি স্লো আইটেম। ’

অন্যান্য এলাকার চেয়ে এই এলাকায় বিক্রি তাও কিছুটা বেশি বলে জানান ইকবাল।  বলেন, ‘আমার আগে দোকান ছিল ইস্টার্ন মল্লিকায়।  সেখান থেকে এখানে চলে আসছি।  আমি খোঁজ নিয়েছি।  ইস্টার্ন মল্লিকার চেয়ে আমাদের এখানে চাহিদা ভাল। ’

‘নিউমার্কেট, বসুন্ধরায় শাড়ির চাহিদা কম থাকতে পারে।  কারণ, স্থানীয় কাস্টমাররা এখন দূরে কম যায়।  এখন তো আমাদের এই মার্কেটে সব আছে।  তাহলে এখানকার কাস্টমাররা দূরে কেন যাবে?’