৫:১৫ এএম, ১৯ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

প্রথম দিনে বেশ স্বস্তিতে ট্রেন ভ্রমণ করছেন যাত্রীরা

১০ জুন ২০১৮, ০৩:০৪ পিএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহকারীরা।  ১ জুন যারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন তারাই আজ বাড়ি যাচ্ছেন।  ধারাবাহিকভাবে ১৫ জুন পর্যন্ত ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহকারী যাত্রীরা বাড়ি যাত্রা করবেন। 

ঈদযাত্রার প্রথম দিন রবিবার কমলাপুর বাড়ি ফেরা মানুষের মধ্যে অন্যরকম আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।  সকাল থেকেই তারা ভিড় করতে থাকেন স্টেশনে এলাকায়। 

সকাল ৬টা ২০ মিনিটে দিনের প্রথম ট্রেন সুন্দরবনের যাত্রা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি দেরিতে যাত্রা করে।  তবে অন্যান্য ট্রেনগুলি তাদের যাত্রা নির্ধারিত সময়ে শুরু করে।  এতে বেশ স্বস্তিতে ট্রেন ভ্রমণ করছেন যাত্রীরা। 

সরেজমিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরমুখো হাজারো মানুষ ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন।  আবার অনেকে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে উঠতে ট্রলি-ব্যাগ নিয়ে দৌড়াচ্ছেন।  অনেকে ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে উঠার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় আবারও নেমে আসছেন। 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, আজ ভোর থেকে সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন পথে ২২টি ট্রেন ছেড়ে গেছে।  ১৩ জুন থেকে ঈদ উপলক্ষে নয় জোড়া বিশেষ ট্রেন ছেড়ে যাবে কমলাপুর স্টেশন থেকে। 

ঈদের যাত্রার প্রথম দিনে যাদের অফিস আছে তারা পরিবারকে ভিড় এড়াতে আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন।  তাদেরই একজন রংপুরের আলমাস উদ্দিন আহমেদ।  তিনি স্ত্রী ও কন্যাকে আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।  তাদের বিদায় দিতে কমলাপুরে এসেছেন আলমাস। 

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সময়ের টিকিট পাইনি।  তাই আগেই টিকিট কেটে স্ত্রী ও ছেলেকে পাঠিয়ে দিলাম।  আমি অফিস করে ১৪ জুন বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেব। ’

লাগেজসহ কন্যা এবং স্ত্রীকে নিয়ে প্লাটফর্মে দৌড়াচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম।  ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় যাচ্ছেন তিনি।  গ্রীন রোডের বাসা থেকে কমলাপুরে আসতে একটু দেরি করে ফেলেছেন।  ট্রেন ধরার জন্য হন্তদন্ত হয়ে ছুটছিলেন।  শেষ পর্যন্ত ট্রেনে উঠতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। 

ট্রেনে উঠে শহিদুল ইসলাম বললেন, প্রতিবার ঈদে বাসেই যাওয়া হয়।  গতবার গাইবান্ধা যেতে সড়কপথে ২৪ ঘণ্টা লেগেছিল।  সেই দু:সহ স্মৃতি এখনও মনে ভাসে, সে যানজটের কথা ভেবে এবার ট্রেনে যাচ্ছি। 

মারুফ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র বলেন, জানতাম ট্রেনে অনেক ভিড় হবে।  তারপরও রাস্তার অবস্থা খারাপ দেখে ট্রেনেই বাড়ি যাচ্ছি। 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ সকাল থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ১৫ মিনিট ও তিস্তা এক্সপ্রেস ২২ মিনিট ও সুন্দরবন ৩২ মিনিট দেরিতে স্টেশন ছাড়ে।  বাকি ট্রেনগুলো সময়মতোই কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে চলে যায়।  দেশের বিভিন্ন পথে আজ সারা দিনে আন্তঃনগর, লোকাল ও মেইল ট্রেন মিলিয়ে ৬৩টি ট্রেন ছেড়ে যাবে কমলাপুর থেকে। 

কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, যথাসময়ে বিভিন্ন পথে ট্রেনগুলো ছেড়ে যাচ্ছে বলে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীর সংখ্যা কম।  এ কারণে স্টেশনে মানুষের ভিড় কম।  তা ছাড়া প্রথমদিন ভিড় একটু কমই থাকে।  ১৪ জুন থেকে স্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়বে।  সবাই সহযোগিতা করলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

স্টেশনে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, স্টেশনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।  ট্রেনে পুলিশ থাকবে।  ট্রেনের ছাদে কাউকে ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানান তিনি।