১২:৫৮ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় জমে উঠেছে পিরোজপুরে ঈদের বাজার

১০ জুন ২০১৮, ০৫:৪৩ পিএম | জাহিদ


মো.দেলোয়ার হোসাইন, পিরোজপুর প্রতিনিধি : এক মাস সিয়াম সাধনার পরে আসে পবিত্র ঈদ।  আর এই ঈদে সকল পেশার মানুষের মাঝে বিরাজ করে আনন্দ।  ঈদে সকল বয়সের মানুষের চাই নতুন পোশাক। 

আর এই নতুন পোশাক ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় আরও কয়েক গুন।  আর ছোট শিশুদের চাই নতুন সাজে বাহারী নানা ধরনের পোশাক।  তাদের চাহিদাকে সামনে রেখে প্রতি বছর বাজারে আসে নতুন নতুন নামে বাহারী ধরনের পোশাক।  আর এ সব পোশাকের বেশির ভাগ নতুন পোশাকের নাম করন করা হয় ভারতীয় নানা ধরনের নাটকের ব্যবহৃাত পোশাকের নাম অনুসারে।  আর এ সব নাম করন অনুসারে পোশাকের চাহিদা বেরে যায় অনেক বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 

বিভিন্ন বিপণী বিতাণ ঘুরে দেখা গেছে, শাড়ি, থ্রি-পিচ, পাঞ্জাবীসহ ছোটদের নানান ধরনের পোশাক এসেছে।  দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে ভারতীয় পোশাকের বিপুল সমাহার।  নানা নামের এ সব পোশাক কিনতে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরাই বেশি আগ্রহী।  দোকানীরা তাদের শো-রুমগুলো সাজিয়েছেন বিভিন্ন জনপ্রিয় মুভি ও সিরিয়ালের নাম অনুসারে দেশী-বিদেশী পোশাকে।  এর মধ্যে নজর কেড়েছে কিরনমালা, ঝিনুকমালা, বজ্রমালা, পাখি, আনারকলি, দীপিকা, সোনাক্ষী, ঝিলিক-২, রঞ্জনা, খুশি, ডিস্কোচালি, পাকিস্তানি লোন, টাপুর টুপুর, ফোলোরটার্চ, মহারানী ভিকটোরিয়া ডিজাইনের পোশাক থ্রি-পিচ আর তরুনদের মোদিকোর্ট, জিন্স প্যান্ট ও রেডিমেন্ট পোশাক।    
এসব পোশাকের দাম ২ হাজার  থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাকছেন দোকানিরা।  তবে মেয়েদের কিরনমালা ও ঝিনুকমালা ড্রেস এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানান দোকানীরা।  মেয়েদের কিরনমালা ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে দেড় হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার, ওয়েস্টার্ন ড্রেস ৫ শ’ থেকে পাচ হাজার টাকা, পাখি লেহেঙ্গা তিন থেকে সাত হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।  তবে ভারতীয় শাড়ির চেয়ে এবার দেশি জামদানি, কাতান এবং টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ির বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।  পাশাপাশি দেশি তৈরি বুটিক থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও শিশুদের তৈরি বিভিন্ন পোশাকের চাহিদা রয়েছে।  ছোটদের পোশাকের মধ্যে লেহেঙ্গা, মাসাক্কালি, সিঙ্গেল টপস, টপসসেট, গেঞ্জি সেটে দাম পড়ছে ১২’শ থেকে ৭ হাজার টাকা। 

এছাড়ও জুতা ও কসমেটিক্স এর দোকানে রয়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীর।  ক্রেতারা যে যার পছন্দমত জিনিস কিনছেন।  ব্যস্ত রয়েছেন বিভিন্ন দোকানের দর্জিরাও।  তবে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ও যুবক শ্রেনীর।  আর এ সবের পাশাপাশি ভিড় দেখা যাচ্ছে মোবাইলের দোকান সহ বিভিন্ন দোকানে। 

তাই মানুষ তার পছন্দের পোশাকটি কিনতে আসতে শুরু করেছে বাজরে।  আর এ কারনেই পিরোজপুরের বাজরে দেখা যাচ্ছে ক্রেতার আনগোনা। 

দোকানিরা জানিয়েছেন, বাজারে ভারতীয়  থ্রিপিচের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।  গুনগতমানের দিক থেকে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে প্রতিটি থ্রিপিচ বিক্রি হচ্ছে।  তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা পাখি নামের থ্রিপিচের যা দুই হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে। 

এছড়াও মহিলারা বেশি কিনছেন বিভিন্ন দামের শাড়ি।  প্রতিটি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়।  এছাড়া যুবকরা ঝুকছে বিভিন্ন ধরনের জিন্স প্যান্ট ও পাঞ্জাবির দিকে।  গ্রামের বয়স্ক পুরুষ লোকেরা ঝুকছে লুঙ্গি ও পাঞ্জাবির দিকে।  প্যান্ট ও শার্ট পিছের চাহিদাও রয়েছে অন্যান্য পোশাকের মত।  প্রতিটি শার্ট ও প্যান্ট পিছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ১২ শ টাকার মধ্যে। 
একজন কাপড় ব্যবসায়ী জানান, এখন অনেক ত্রেতা আসতে শুরু করেছে।  আমদের বেচা কেনা অনেক ভাল হচ্ছে।  এ বছর অনেক নতুন কালেকশন রয়েছে।  এরই মেয়েদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কিরনমালা ড্রেসের।  এর পাশাপাশি আরও অনের ধরনের পোশাক কিনছে তারা। 

সুমাইয়া নামে একজন ক্রেতা জানান, আমার পছন্দের একটি পোশাক কিনতে এসেছি।  কিন্তু পোশাকের দাম একটু বেশি বলে মনে হচ্ছে।  দাম বেশি থাকলেও এ বছর অনেক নতুন কালেকশন রয়েছে। 

এদিকে সবচেয়ে বেশি  স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের ভিড় দেখা যাচ্ছে চুড়ি ফিতা কসমেটিকসের দোকানে।  ঈদে নতুন পোশাকের পাশাপশি চাই একটু সাজার জন্য কসমেটিকস ।  আর এসব সাজার জিনিজ কিনতে তাদের ভির। 

মেয়েদের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই ছেলেরা।  তারা এখন আসছেন তার ঈদের পোশাকটি কেনার জন্য।  এ বছর ঈদের পাঞ্জাবীর পাশাপাশি চলছে বিভিন্ন ধরনের শার্ট, গেঞ্জী, ফতুয়া।  আর এর সাথে চলছে জিন্সের প্যান্ট।  পাঞ্জাবির মধ্যে বড়দের ধুতি কাতান ও ছোটদের ধুতি কাতান এবার বেশ জনপ্রিয়।  তবে গতবার যে মূল্যে শার্ট ও পাঞ্জাবি বিক্রি হয়েছে এবার তার চেয়ে বেশি দাম বলে অনেক ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। 

এ দিকে ঈদকে সামনে রেখে জেলা পুলিশের পক্ষথেকে সকল ধরনের নিরপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।