১১:৪৬ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


খাগড়াছড়ির ভয়াবহ বন্যার কবলে ভোগান্তিতে সাধারাণ মানুষ

১২ জুন ২০১৮, ০৬:০২ পিএম | সাদি


এম. সাইফুর রহমান, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : গত তিন দিনের অবিরাম বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ভয়াবহ বন্যায় খাগড়াছড়ি জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা ও দীঘিনালা উপজেলার মেরুং বাজার সহ বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারাণ মানুষ। 

বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশের পাহাড় ধসে পড়ায় সড়ক যোগযযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।  বন্যায় জেলায় অনন্ত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। 

জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে উঠেছেন ৫শতাধিক পরিবার।  পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়েছে বেশ কিছু কাচা ঘর-বাড়ী।  বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।  ভেসে গেছে কয়েক শত পুকুরের মাছ।  বর্ষণ অব্যাহত থাকায় চেঙ্গী, মাইনী ও ফেনীর নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। 

এদিকে, টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি শহরের মেহেদীবাগ, বাস টার্মিনাল, শান্তিনগর, সবজি বাজার, গঞ্জপাড়া, মিলনপুর, মুসলিমপাড়া, ফুটবিল, মাস্টারপাড়া, শহীদ কাদের সড়ক, অর্পনা চৌধুরীপাড়া, আপার পেড়াছড়া, বাঙ্গালকাঠি, গোলাবাড়ি, কমলছড়ি, খবংপুড়িয়া ও সিঙ্গিনালা পানির নীচে তলিয়ে গেছে।  জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং বাজারের আড়াই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানির নীচে। 

এছাড়াও মেরুং ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।  শতাধিক পরিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।  ঝুঁকিপূণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করছে প্রশাসন।  জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম জানান, এখনো পর্যন্ত জেলার কোথাও বড় ধরণের পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে সড়কে পানি ওঠায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক ও দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে।  এছাও রাস্তার উপর পহাড় ধ্বসে মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে।  জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে বেশ কিছু কাচা ঘর-বাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।  তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও জেলা প্রশাসক রাশেদুল ইসলামসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দূর্গত এলাকা পরিদর্শণ করে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।