৩:১৩ পিএম, ২০ জুন ২০১৮, বুধবার | | ৬ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

শ্রীপুরে চাঁদাবাজির মাসুল গুণছেন সাধারণ যাত্রীরা

১৩ জুন ২০১৮, ১২:৩০ পিএম | সাদি


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে অনিয়ন্ত্রিত চাঁদাবাজির মাসুল দিচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। 

এছাড়াও পৌরসভার নামে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চলছে চাঁদা আদায়। গত তিনমাস ধরে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন ও নামে বেনামে গড়ে উঠা নাম সর্বস্ব শ্রমিক সংগঠনের অব্যাহত চাঁদাবাজির কারণে প্রতিটি সড়কে পরিবহন ভাড়া দিগুণ হওয়ায় এ মাসুল দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। 

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও প্রশাসন নিরব ভুমিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।  যদিও পরিবহন মালিক ও চালকরা চাঁদার হার কমানোর জন্য ইতিপূর্বে কয়েকবার আন্দোলন করলেও কোন ফল পায়নি। 

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা হতে স্কয়ার মাষ্টারবাড়ি পর্যন্ত যাত্রীদের পরিবহন সেবায় রয়েছে কয়েকশ লেগুনা।  গত তিন মাস আগেও এই সড়কের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫টাকা থাকলেও এখন সর্বনিম্ন ভাড়া গুণতে হচ্ছে ১০ টাকা।  গাড়িতে উঠে নেমে পড়লেও যে কাউকে ১০ টাকা গুণতে হয়।  এই সড়কের গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে লেগুনা চালক আমজাদ হোসেনের ভাষ্য মাওনা চৌরাস্তায় জিপি (চাঁদা) বৃদ্ধি পেয়েছে, নিজেদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়ে ভাড়া বৃদ্ধি করেছি।  এ ছাড়াও এই সড়কের প্রতিটি ষ্টেশন এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার, জৈনা বাজারে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন চাঁদা আদায় করে থাকেন। 

একই অবস্থা মাওনা চৌরাস্তা হতে মাওনা বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কে।  এখানে অটোতে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা থাকলেও গত তিন মাস যাবৎ তা বৃদ্ধি করে ১০ টাকা করা হয়েছে।  এই সড়কের অটো চালকদের ভাষ্য মতে এখানে তিন ধাপে প্রতিদিন চাঁদা গুণতে হয়, একমাত্র পৌরসভার চাঁদার রসিদ দেয়া হলেও অন্য দুই ধাপের চাঁদায় কোন রশিদ দেয়া হয় না। 

পরিবহন চালক ও মালিকদের তথ্য মতে, মাওনা চৌরাস্তা হতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের আটটি সড়কে প্রতিদিন কয়েকশ সিএনজি, অটোরিক্সা ও লেগুনা চলাচল করে।  প্রতিটি গাড়ি হতে মাসোহারা আদায় করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা, টাকা দিলে তাদের পক্ষ থেকে বিশেষ এক ধরনের ষ্টিকার প্রদান করা হয়, যা গাড়ীর সামনের গ্লাসে লাগানো থাকে।  চাহিদা মত টাকা না দিলে এসব সড়কে গাড়ি চালানো যায় না। 

মাওনা বাজার রোডে অটোরিক্সা চালক মাসুম মিয়া জানান, প্রতিদিন এই সড়কে গাড়ি চালিয়ে দুইশত টাকা চাঁদা গুণতে হয়।  সারাদিন গাড়ি চালিয়েও খরচ উঠাতে পারছি না।   এখন পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। 

লেগুনা চালক আমির আলী জানান, জিপির টাকা দিলেই গাড়ি চালানো যায়, অন্যত্র গাড়ী চালানো সম্ভব নয়।  রাস্তার খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে ভাড়া বৃদ্ধি করেছি। 

এসব বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি জোবায়ের হাসানের অভিমত, শ্রমিক লীগ কোনভাবেই এসব চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়।  তবে কেউ যদি শ্রমিক লীগের নাম ব্যবহার করে গাড়ী থেকে চাঁদা তুলে থাকে তার বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এ ব্যাপারে শ্রীপুর পৌর মেয়র আনিসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। 

মাওনা হাইয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন এসব কাজে পুলিশের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, মহাসড়কে চাঁদাবাজির কোন সুযোগ নেই।  আমার  জানামতে পৌর এলাকার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে পৌরসভার ইজারাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রসিদ দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন।  এমুহুর্তে ভাড়া বাড়ার কোন কারণে উদ্ভব হয়নি।  যদি কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে তাহলে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।