৫:৪৯ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


‘দুর্যোগের মহূর্তেও চাঁদাবাজদের বিন্দু মাত্র ছাড় দেওয়া হবে না’

১৩ জুন ২০১৮, ০১:৩৬ পিএম | সাদি


সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি (রাঙামাটি) : দুর্যোগের মহূত্বেও যদি কোন চাঁদাবাজ সাধারণ জনগনকে চাঁদার জন্য অতিষ্ট্য করে বিন্দু মাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।  সন্ত্রাসীদের কোন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নেই।  জনগন থেকে চাঁদা উত্তোলন করে, সেই টাকায় অস্ত্র কিনে-সেই অস্ত্রেই জনগনকে জিম্মি করে রাখতে চাই।  আমরা দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন চাই।  সুতরাং চাঁদাবাজ কিংবা সন্ত্রাসীদের উৎপাট দেখা গেলে সামাজিক ও প্রশাসন সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। 

মঙ্গলবার জুরাছড়ি উপজেলায় বিকাল সাড়ে ৪টায় সেনা বাহিনীর উদ্যোগে বনযোগীছড়া জোনে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে মতবিনীময় কালে জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল কে এম ওবায়দুল হক, পিএসসি একথা বলেন। 

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা, ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, মেজর মীর তৈয়বুর রহমান, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল বাছেদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমাসহ জুরাছড়ি, বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ, হেডম্যান, কাব্বারী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ স্থানীয় নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় জোন অধিনায়ক আরো বলেন, বিগত বছরের ন্যায় এবছর যেন প্রান হানী না ঘটে সেদিকে সবাইকে সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে।  ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ মহূর্তে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় প্রতিটি ক্যাম্পে ৬০ পরিবারের জন্য ৪-৫দিনের  খাদ্য সংরক্ষণ রাখা হয়েছে।  এছাড়া উদ্ধার কাজের জন্য সব সময় একটি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।  সঠিক সময়ে তথ্য পাওয়া গেলে এই দল দ্রুত উদ্ধার করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারবে। 

এ সময় ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, জুরাছড়ি ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামে বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় ৬ পরিবার ইতিমধ্যে ঘিলাতলী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।  এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ২৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের ১০ মেঃটন খাদ্য-শস্য বরাদ্দ দিয়েছে।  যদি আরো প্রয়োজন হয় আরো পাওয়া যাবে বলে ইউএনও জানান। 

এ সময় জোন অধিনায়ক দরিদ্র একজনকে চিকিৎসার জন্য অনুদান, একজনকে বাড়ী মেরামতের জন্য টিন ও উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, থানা অফিসার ইনচার্জকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।  পরে অগ্নিকান্ড কিংবা পাহাড় ধস যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনা বাহিনী কর্তৃক সরবরাহকৃত সরঞ্জামাদি প্রর্দশনী করা হয়।  এ সব প্রদর্শনী বর্ণনা করেন মেজর মীর তৈয়বুর রহমান। 


মতবিনীময় সভা শেষে ইফতার মাহফিলে সবাই যোগদান করেন।  এ সময় বিগত বছর রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থদের উদ্ধার করতে গিয়ে সাহাদাৎ বরণকারী সেনা সদস্য ও সম্প্রতি নানিয়াচরে পাহাড় ধসে অকালে মৃত্যুদের মাগফেরাত কামনা করা হয়।